IFA শিল্ডে জয় দিয়ে অভিযান শুরু করল ইস্টবেঙ্গল। বৃহস্পতিবার ইস্টবেঙ্গল মাঠে ক্যালকাটা কাস্টমসকে ৩-১ গোলে হারাল লাল-হলুদ। ম্যাচের শুরুতেই গোল হজম করে পিছিয়ে পড়েছিল ইস্টবেঙ্গল। তবে প্রথমার্ধেই সমতা ফেরানোর পর দ্বিতীয়ার্ধে আরও দুই গোল করে ম্যাচ নিজেদের দখলে নেয় লাল-হলুদ ব্রিগেড।
কলকাতা লিগে প্রত্যাশামতো ফল না পাওয়ার পর IFA শিল্ডে শুরু থেকেই জয় তুলে নিতে মরিয়া ছিল ইস্টবেঙ্গল। তবে এদিনও সিনিয়র দলের অধিকাংশ ফুটবলারকে বাইরে রেখেই দল নামানো হয়। সৌভিক চক্রবর্তী এবং জেসিন টিকে ছাড়া প্রথম একাদশে সিনিয়র দলের তেমন কোনও মুখ ছিলেন না। কলকাতা লিগে খেলা জুনিয়র ফুটবলারদের উপরই ভরসা রাখে ম্যানেজমেন্ট।
অন্যদিকে, ক্যালকাটা কাস্টমসের IFA শিল্ডে খেলার কথাই ছিল না। মহামেডান স্পোর্টিংয়ের বয়কটের পর শেষ মুহূর্তে প্রতিযোগিতায় নামার সুযোগ পায় তারা। ফলে প্রথম ম্যাচেই ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে নিজেদের মেলে ধরার লক্ষ্য ছিল কাস্টমসের ফুটবলারদের।
ম্যাচের শুরুতেই অবশ্য ইস্টবেঙ্গলকে চমকে দেয় কাস্টমস। ১২ মিনিটের মাথায় রিকি হেমব্রম লাল-হলুদের রক্ষণকে বোকা বানিয়ে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। গোল হজমের পর ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করলেও প্রথমার্ধের একটা বড় সময় কাস্টমসের রক্ষণ বেশ জমাট ছিল।
২৯ মিনিটে সেই রক্ষণ ভেঙে সমতা ফেরায় ইস্টবেঙ্গল। গোলকিপারের ভুলের সুযোগ নিয়ে রোহিতের হেড সরাসরি জালে জড়িয়ে যায়। ১-১ ব্যবধানে প্রথমার্ধ শেষ হয়। তবে বিরতির পর ইস্টবেঙ্গলের খেলায় অনেক বেশি আক্রমণাত্মক মনোভাব দেখা যায়।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আসে লাল-হলুদের দ্বিতীয় গোল। ৫২ মিনিটে আবারও গোল করে ইস্টবেঙ্গলকে এগিয়ে দেন রোহিত। প্রথম গোলের পর আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়া লাল-হলুদ ফুটবলাররা এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয়।
ম্যাচের শেষদিকে কাস্টমস সমতা ফেরানোর চেষ্টা করলেও ইস্টবেঙ্গলের রক্ষণ সেই সুযোগ দেয়নি। বরং ৮৫ মিনিটে আকাশ হেমব্রমের গোলে ব্যবধান আরও বাড়ে। শেষ পর্যন্ত ৩-১ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে ইস্টবেঙ্গল।
তবে ম্যাচের পাশাপাশি আলোচনায় ছিল মাঠের পরিস্থিতিও। যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন বন্ধ থাকায় এদিন ইস্টবেঙ্গল মাঠেই ম্যাচ আয়োজন করা হয়। তার উপর টানা বৃষ্টিতে মাঠের একাধিক জায়গা কাদায় ভরে গিয়েছিল। এমন পরিস্থিতিতে ফুটবলারদের চোট পাওয়ার আশঙ্কা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সমর্থকদের একাংশ।
সামনে ইস্টবেঙ্গলের এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ এবং আইএসএলের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ রয়েছে। তাই সিনিয়র ফুটবলারদের এমন মাঠে খেলিয়ে ঝুঁকি নেওয়া ঠিক হবে কি না, তা নিয়ে সমর্থকদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। আবার অন্য একটি অংশের মত, IFA শিল্ডের মতো ঐতিহ্যবাহী প্রতিযোগিতাকেও গুরুত্ব দেওয়া উচিত এবং শুধুমাত্র জুনিয়রদের উপর নির্ভর না করে শক্তিশালী দল নামানো দরকার।
মোহনবাগান ইতিমধ্যেই IFA শিল্ডে দারুণভাবে শুরু করেছে। শ্রীনিধি ডেকানকে ৬-০ গোলে হারানোর ম্যাচে পূর্ণশক্তির দল নিয়েই নেমেছিল সবুজ-মেরুন। সেই তুলনায় ইস্টবেঙ্গলের দল নির্বাচন নিয়েই সমর্থকদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। তবে প্রথম ম্যাচে জয় পাওয়ায় অন্তত ফলের দিক থেকে স্বস্তি পেয়েছে লাল-হলুদ শিবির।
IFA শিল্ডে ইস্টবেঙ্গলের পরের ম্যাচ ৩০ সেপ্টেম্বর পাঞ্জাব এফসির বিরুদ্ধে। সেই ম্যাচে সিনিয়র দলের আরও ফুটবলারকে দেখা যায় কি না, এখন সেটাই দেখার। আপাতত কাস্টমসকে ৩-১ গোলে হারিয়ে জয় দিয়ে শিল্ড অভিযান শুরু করল ইস্টবেঙ্গল।



