ইস্টবেঙ্গলের আইএফএ শিল্ড জয় যেন সময়ের এক স্বর্ণমুহূর্ত, যা আজও লাল-হলুদ সমর্থকদের মনে গেঁথে আছে। ১৯৭৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর মোহনবাগানের বিরুদ্ধে সেই ঐতিহাসিক ৫-০ ব্যবধানে জয় এখনও কলকাতা ডার্বির সর্বোচ্চ ব্যবধান। এবার সেই জয়েরই সুবর্ণজয়ন্তী পালিত হচ্ছে ইস্টবেঙ্গলের প্রতিষ্ঠা দিবসের মঞ্চে।
চলতি বছরের ১ আগস্ট ক্লাব প্রাঙ্গণে আয়োজিত হচ্ছে প্রতিষ্ঠা দিবস। যদিও আসল জয়দিন এখনও ক্যালেন্ডারে কিছুদিন দূরে, তবু এই দিনেই শুরু হল আইএফএ শিল্ড জয়কে ঘিরে আনুষ্ঠানিক উদযাপন। অনুষ্ঠানের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠছে ৭৫ সালের সেই ঐতিহাসিক জয়।


প্রতিষ্ঠা দিবসের সূচনা হয় সকাল এগারোটায় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে। এরপর বিকেল চারটের পর ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে শুরু হয় মূল অনুষ্ঠান। শুরুতেই সঙ্গীত পরিবেশন করেন বিশিষ্ট শিল্পী মনোময় ভট্টাচার্য। এরপরই পরপর চলতে থাকে সম্মাননা প্রদান ও পুরস্কার বিতরণ।
এবারের ইস্টবেঙ্গল প্রতিষ্ঠা দিবসের অন্যতম আকর্ষণ ‘ভারত গৌরব’ সম্মান। এই সম্মানে ভূষিত হলেন দেশের প্রাক্তন হকি অধিনায়ক পিআর শ্রীজেশ। সকালেই কলকাতায় এসে উপস্থিত হন তিনি।
তবে অনুষ্ঠানে ছিলেন না ‘ডাঃ রমেশচন্দ্র সেন স্মৃতি জীবনকৃতি সম্মান’প্রাপ্ত সত্যজিৎ মিত্র। বিদেশে থাকার কারণে তাঁর হয়ে পুরস্কার গ্রহণ করেন পরিবারের সদস্যরা। অন্যদিকে ‘বোমকেশ বসু স্মৃতি জীবনকৃতি সম্মান’ পান মিহির বসু, যিনি নিজে উপস্থিত ছিলেন।


উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের দুই ক্রীড়া-সমর্থক মন্ত্রী, অরূপ বিশ্বাস ও ফিরহাদ হাকিম। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন লাল-হলুদের অসংখ্য প্রাক্তন ফুটবলার, ক্লাবের সিনিয়র, রিজার্ভ ও মহিলা দলের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফ।
এবারের বর্ষসেরা পুরুষ ফুটবলারের পুরস্কার জেতেন সৌভিক চক্রবর্তী এবং মহিলা ফুটবলে সৌম্যা গুগুলথ। উদীয়মান প্রতিভা হিসেবে বর্ষসেরা প্রতিশ্রুতিমান ফুটবলারের স্বীকৃতি পান পিভি বিষ্ণু। বর্ষসেরা ক্রিকেটার নির্বাচিত হন কণিষ্ক শেঠ। ফুটবলার সংগীতা বাসফোর পেয়েছেন ‘প্রাইড অফ বেঙ্গল’ সম্মান।
সম্মান জানানো হয় কোচ সঞ্জয় সেন, অ্যান্থনি অ্যান্ড্রুজ, রেফারি করুণা চক্রবর্তী ও কার্তিক ইন্দুকে। ক্লাব-ভক্তি ও অবদানের জন্য স্বীকৃতি পান দুই সমর্থক ননীগোপাল বণিক ও মন্টু সাহা। দাবা জগত থেকে সম্মানিত হন প্রতিভাবান দাবাড়ু আরণ্যক ঘোষ।
উৎসবের আবহে ইস্টবেঙ্গল ক্লাব জানিয়ে দেয়, আগস্টের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে যাবে তাদের ঘরের মাঠ। ফলে ১০ আগস্টের পর থেকেই কলকাতা লিগের ম্যাচগুলি লাল-হলুদরা খেলতে পারবে নিজেদের মাঠেই।
এছাড়াও ঘোষণা করা হয়, মহিলা দলের ১৪ জন ফুটবলারের সঙ্গে আরও এক মরশুমের জন্য চুক্তি নবীকরণ করা হয়েছে। ক্লাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আগামী দিনে মেয়েদের ফুটবলে আরও জোরালো পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।
এবারের ইস্টবেঙ্গলের প্রতিষ্ঠা দিবস কেবল একটি স্মরণসভা নয়, বরং তা হয়ে উঠল গৌরবের, কৃতজ্ঞতার এবং ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে চলার এক দিকদর্শী বার্তা। ৭৫-এর সেই অবিস্মরণীয় আইএফএ শিল্ড জয় এবং তার সুবর্ণজয়ন্তী লাল-হলুদের ইতিহাসে যোগ করল আরেকটি স্মরণীয় অধ্যায়।







