দুর্গাপুর ধর্ষণকাণ্ডে (Durgapur rape case) ফের চাঞ্চল্যকর মোড়। ঘটনার পাঁচ দিন পর ফের তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ ও ফরেন্সিক টিম। সেই জঙ্গল এলাকাতেই নতুন করে কর্ডন তৈরি করা হয়েছে, যেখানে প্রথমে ঘটনাস্থল নির্ধারণ করা হয়েছিল। এবার ঘেরা হয়েছে আগের এলাকার পাশের আরও প্রায় ৫০ মিটার বিস্তীর্ণ অংশ।
স্থানীয় সূত্রে খবর, পুলিশের এই পদক্ষেপে স্পষ্ট—তদন্ত এখন একেবারে নতুন পথে। প্রশ্ন উঠছে, ফরেন্সিক পরীক্ষায় কি নতুন কোনও বড় প্রমাণ মিলেছে? নাকি পুলিশের হাতে এসেছে এমন কোনও সূত্র যা তদন্তের গতিপথ ঘুরিয়ে দিতে পারে?
ফরেন্সিক তদন্তে নতুন সূত্র
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা (forensic experts) জঙ্গলের মাটি, ঘাস, ও কিছু পোশাকজাত বস্তু পুনরায় সংগ্রহ করেছেন। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, এই নতুন প্রমাণগুলি মামলার গুরুত্বপূর্ণ দিক উন্মোচন করতে সাহায্য করতে পারে।
তদন্তের গভীরে নামছে পুলিশ
দুর্গাপুর ধর্ষণকাণ্ডের তদন্তে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার হয়েছে ছয় জন অভিযুক্ত, যার মধ্যে রয়েছেন নির্যাতিতার সহপাঠীও। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পুলিশ কমিশনার সাংবাদিক বৈঠক করার কিছুক্ষণের মধ্যেই ওই যুবককে আটক করা হয়। পুলিশের মতে, তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক তথ্যপ্রমাণ উঠে এসেছে, যা ঘটনাটির পটভূমি আরও স্পষ্ট করছে।
ঘটনাস্থলে ফের অভিযান
বুধবার সকাল থেকে ফের জঙ্গলে প্রবেশ করে পুলিশ ও ফরেন্সিক টিম। মেটাল ডিটেক্টর, ড্রোন ও বিশেষ স্নিফার ডগ ব্যবহার করা হয়েছে। আগের তুলনায় এবার নজরদারি অনেক বেশি কড়া। পুলিশ মনে করছে, অপরাধস্থলের পাশের অংশে এমন কিছু বস্তু বা চিহ্ন থাকতে পারে যা প্রাথমিক অনুসন্ধানে বাদ পড়েছিল।
এক পুলিশ আধিকারিক বলেন, “আমরা ঘটনাস্থলের প্রতিটি ইঞ্চি পরীক্ষা করছি। নতুন তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।”
গ্রেফতারি ও জিজ্ঞাসাবাদ চলছে
তদন্তে প্রকাশ, অভিযুক্তদের মধ্যে কয়েক জন পরস্পরকে চেনেন। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদে উঠে আসছে নানান সাংঘাতিক তথ্য। পুলিশ নিশ্চিত করতে চাইছে, এই ঘটনাটি পরিকল্পিত ছিল কি না, নাকি তাৎক্ষণিকভাবে ঘটে যায়।
অন্য এক সূত্র জানিয়েছে, পুলিশের কাছে কিছু ডিজিটাল প্রমাণও এসেছে, যার মধ্যে ফোনের কল রেকর্ড এবং লোকেশন ডেটা রয়েছে।
সমাজে ক্ষোভ, বাড়ছে নজরদারি
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই দুর্গাপুর জুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়েছে। শহরের বিভিন্ন মহিলা সংগঠন ও ছাত্র সংগঠন কঠোর শাস্তির দাবি তুলেছে। এদিকে, পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এই ধরনের অপরাধ রুখতে বিশেষ নজরদারি ও রাত্রিকালীন টহল বাড়ানো হবে।
তদন্ত এখন ক্রিটিকাল ফেজে প্রবেশ করেছে, এমনটাই মত পুলিশের। সবকিছু ইঙ্গিত দিচ্ছে, মামলার পরবর্তী কয়েক দিনেই বেরিয়ে আসতে পারে গুরুত্বপূর্ণ ফরেন্সিক রিপোর্ট, যা গোটা কাণ্ডের গতি বদলে দিতে পারে।



