দুর্গাপুরের মেডিকেল কলেজে নির্যাতিতা ডাক্তারি ছাত্রীর মামলা নতুন মোড় নিচ্ছে প্রতিদিন। পুলিশের হাতে এখন এমন একাধিক প্রমাণ এসেছে, যা ধৃত সহপাঠী-বন্ধুর ভূমিকা নিয়ে আরও প্রশ্ন তুলছে। দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনার সুনীলকুমার চৌধরি আগেই জানিয়েছিলেন, ওই যুবক সন্দেহের ঊর্ধ্বে নন। শেষ পর্যন্ত তাঁকেই গ্রেফতার করা হয় মঙ্গলবার রাতে।
বুধবার আদালতে হাজির করানো হলে বিচারক তাঁকে সাত দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন। বৃহস্পতিবার সকালেই তদন্তকারীরা তাঁকে নিয়ে যান ঘটনাস্থলে, যেখানে তরুণীকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ সূত্রে খবর, ফরেন্সিক দলকেও সঙ্গে নেওয়া হয় সেদিন। তদন্তকারীরা ধৃতের বয়ান, নির্যাতিতা ও অন্যান্য অভিযুক্তদের বয়ানের সঙ্গে মিলিয়ে যাচ্ছেন।
তদন্তে নয়া চাঞ্চল্য
তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত যুবকের হস্টেলের ঘরে তল্লাশি চালিয়ে ১১টি কন্ডোম উদ্ধার করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, ঘটনাস্থলের জঙ্গল থেকেও একটি কন্ডোম উদ্ধার হয়েছে, যা ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা পরীক্ষার জন্য নিয়ে গিয়েছেন। যদিও ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া কন্ডোমটি অব্যবহৃত অবস্থায় ছিল বলে সূত্রের দাবি।
এই আবিষ্কারের পরেই নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে, ঘটনার রাতে ওই যুবকের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। পুলিশ সূত্রে খবর, মূলত বয়ানে অসঙ্গতি ও ঘটনাস্থলে তাঁর উপস্থিতি নিয়ে একাধিক প্রশ্ন ওঠায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
ঘটনাস্থলের বিবরণে রহস্য আরও ঘনীভূত
তদন্তে জানা গিয়েছে, দুর্গাপুর ক্যাম্পাসের মূল রাস্তা থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে মাটির রাস্তা ধরে ওই জায়গায় পৌঁছানো যায়। রাস্তা দুটি ভাগ হয়ে গেছে—একদিকে মন্দির ও শ্মশান, অন্যদিকে গ্রাম। সেই সংকীর্ণ রাস্তাতেই ঘটে নির্যাতনের ঘটনা। প্রথমে পুলিশ ওই এলাকা ঘিরে ফেললেও, বৃহস্পতিবার ঘেরা এলাকা আরও ৫০ মিটার বাড়ানো হয়েছে।
ফরেন্সিক দল নমুনা সংগ্রহ করেছে এবং বিভিন্ন বস্তু পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। তদন্তকারীরা বলছেন, “এখনই নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়, তবে নতুন তথ্য আসছে হাতে।”
ধৃতের পরিচয় ও পটভূমি
সূত্রের খবর, ধৃত যুবক মালদহ জেলার বাসিন্দা। তাঁর বাবা স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয়—কংগ্রেসের নেতা এবং পঞ্চায়েত সদস্যও। পরিবারের ব্যবসা রয়েছে নির্মাণ সামগ্রী, মাছ ও আম নিয়ে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আর্থিকভাবে স্বচ্ছল পরিবারের সন্তান হলেও তাঁর অতীত নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে।
প্রথম থেকেই নির্যাতিতার বাবা দাবি করে আসছিলেন, তাঁদের মেয়েকে নির্যাতনের ঘটনায় এই সহপাঠীর ভূমিকা রয়েছে। এখন পুলিশি তদন্তে মিলছে তার ইঙ্গিতও।
তদন্ত এগোচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে
পুলিশ সূত্রের বক্তব্য, বয়ানে অসঙ্গতি এবং উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর ভিত্তিতে ধৃতের জেরা আরও গভীর হচ্ছে। এখন তদন্তকারীরা তাঁর সঙ্গে আগেই গ্রেফতার হওয়া পাঁচ অভিযুক্তের যোগসূত্র খুঁজছেন।
যদিও ঘটনার বিষয়ে মুখ খুলতে নারাজ পুলিশ আধিকারিকরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, “তদন্ত সংবেদনশীল পর্যায়ে। সময় এলেই সব তথ্য প্রকাশ্যে আনা হবে।”



