দুর্গাপুরের বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে এক ডাক্তারি পড়ুয়াকে গণধর্ষণের ঘটনায় রাজ্যজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনায় তিন অভিযুক্তকে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে এ নিয়ে মুখ খুলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
উত্তরবঙ্গ সফরে যাওয়ার আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “যা ঘটেছে তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। তিন জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছি কঠোর ব্যবস্থা নিতে— কোনও অপরাধী যেন রেহাই না পায়।”
হস্টেল নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন মমতা
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কলেজ কর্তৃপক্ষের দিকেও প্রশ্ন ছুড়েছেন। তাঁর বক্তব্য, “রাত সাড়ে ১২টায় পড়ুয়ারা কী করে বাইরে গেলেন? কলেজটি তো জঙ্গলের ধারে। হস্টেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থার কী অবস্থা? প্রাইভেট মেডিক্যাল কলেজগুলিরও ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিতে হবে। পুলিশ তো প্রত্যেক হস্টেলে গিয়ে পাহারা দিতে পারে না।”
তাঁর মতে, পড়ুয়ারা চাইলে বাইরে যেতে পারেন— সেটি তাঁদের অধিকার। কিন্তু হস্টেলের নিয়ম ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর না থাকলে, এমন দুর্ঘটনা রোধ করা সম্ভব নয়।
ঘটনার বিস্তারিত: জঙ্গলের ধারে কলেজ, রাতে হানা দুষ্কৃতীদের
শুক্রবার গভীর রাতে দুর্গাপুরের ওই প্রাইভেট মেডিক্যাল কলেজের এমবিবিএস প্রথম বর্ষের ছাত্রী এক সহপাঠীর সঙ্গে ক্যাম্পাসের বাইরে বেরিয়েছিলেন। কলেজের চারপাশেই ফাঁকা এলাকা, রাস্তার দুই পাশে জঙ্গল।
অভিযোগ, কয়েকজন দুষ্কৃতী সেই জঙ্গলেই ওই ছাত্রীকে টেনে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণ করে। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে প্রমাণস্বরূপ বেশ কিছু জিনিস। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তরা স্থানীয় বাসিন্দা। তিন জনকে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে, এবং আরও এক জন পলাতক।
সহপাঠীর ভূমিকা নিয়েও সন্দেহ
পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। মেয়েটির সঙ্গে যিনি বাইরে গিয়েছিলেন, সেই সহপাঠীর ভূমিকা নিয়েও সন্দেহ দেখা দিয়েছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে তদন্তকারীরা। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনাটির সময় ও পরে তাঁর আচরণ ছিল সন্দেহজনক।
‘বাংলায় জিরো টলারেন্স’ নীতিতে অনড় মমতা
ঘটনার নিন্দা করলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অন্যান্য রাজ্যের পরিস্থিতির দিকেও আঙুল তুলেছেন। তিনি বলেন, “মণিপুর, উত্তরপ্রদেশ, বিহার বা ওডিশায় মেয়েদের উপর নির্যাতন হলে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়? অনেক জায়গায় তো ভুক্তভোগীকেই মেরে ফেলা হয় বা সাংবাদিকদের জেলে পাঠানো হয়। কিন্তু বাংলায় এমন ঘটনা ঘটলে আমরা এক মুহূর্ত সময় নষ্ট করি না— কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়।”
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, “আমাদের রাজ্যে এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে কোনও ছাড় নেই। বাংলায় মেয়েদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের প্রথম লক্ষ্য।”
পড়ুয়াদের উদ্দেশে সতর্কবার্তা ও বার্তা কর্তৃপক্ষকে
মমতার আবেদন, “বিভিন্ন রাজ্য থেকে ছেলেমেয়েরা এখানে পড়তে আসে। আমি অনুরোধ করব, রাতে বাইরে না বেরোতে। একই সঙ্গে কলেজ কর্তৃপক্ষকেও বলব, ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।”
সামাজিক বার্তা
এই ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে প্রাইভেট কলেজগুলির হস্টেল নিরাপত্তা ও নজরদারি নিয়ে। পুলিশের তদন্ত চললেও, সমাজের প্রত্যেক স্তরেই মেয়েদের নিরাপত্তা নিয়ে সচেতনতার আহ্বান জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।






