ডুরান্ড কাপের শুরু হয়েছিল কলকাতা ডার্বি দিয়ে, আর শেষটাও হতে চলেছে সেই মহারণেই। আগামী ২৩ অগস্ট বিবেকানন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে (VYBK) ডুরান্ড কাপের ফাইনালে মুখোমুখি হবে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট (Mohun Bagan Super Giant) ও ইস্টবেঙ্গল এফসি (East Bengal FC)। তিন বছর পর ফের ডুরান্ডের ফাইনালে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াই। তার আগে শুক্রবার দুপুর ১২টা থেকে শুরু হয়েছে ফাইনালের অনলাইন টিকিট বিক্রি।
টিকিট পাওয়া যাচ্ছে BookMyShow-তে। দাম শুরু হচ্ছে ২৫০ টাকা থেকে। C1, C2, D1 এবং D3 ব্লকের টিকিটের দাম ২৫০ টাকা। C3 এবং D2 ব্লকের টিকিটের মূল্য ৩০০ টাকা। নির্দিষ্ট ব্লকগুলি দুই দলের সমর্থকদের জন্য ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। ফাইনাল ঘিরে ইতিমধ্যেই সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে।
এবারের ডুরান্ড কাপের ফাইনাল আরও বিশেষ, কারণ ২০২৬ সালের টুর্নামেন্টের প্রথম কলকাতা ডার্বিতেও মুখোমুখি হয়েছিল দুই প্রধান। সেই ম্যাচে মোহনবাগান ১-০ গোলে ইস্টবেঙ্গলকে হারিয়েছিল। আর এবার একই দুই দল ট্রফির শেষ লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছে। ডুরান্ড কাপের সরকারি সূচিতেও ২৩ অগস্ট যুবভারতীতে ফাইনাল নির্ধারিত রয়েছে।
ফাইনালের টিকিট নিয়ে সমর্থকদের আগ্রহও স্বাভাবিক ভাবেই বেশি। BookMyShow-তে ফাইনালের ম্যাচ তালিকাভুক্ত রয়েছে এবং টিকিট বুকিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। অনলাইন বিক্রি শুরু হতেই দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে টিকিট সংগ্রহের তৎপরতা বেড়েছে।
তিন বছর আগে, ২০২৩ সালের ডুরান্ড কাপের ফাইনালেও মুখোমুখি হয়েছিল মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গল। যুবভারতীতে সেই ম্যাচে ইস্টবেঙ্গলকে ১-০ গোলে হারিয়ে ট্রফি জিতেছিল মোহনবাগান। দ্বিতীয়ার্ধে দিমিত্রি পেত্রাতোসের গোলই ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিয়েছিল।
এবারও তাই ২০২৩-এর স্মৃতি সবুজ-মেরুন শিবিরকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস দিতে পারে। ডুরান্ডের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মোহনবাগান এখনও পর্যন্ত ১৭ বার ট্রফি জিতেছে। ১৮তম শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে এবার ফাইনালে নামবে তারা।
অন্যদিকে ইস্টবেঙ্গলের সামনে দীর্ঘ অপেক্ষা শেষ করার সুযোগ। লাল-হলুদ শেষবার ডুরান্ড কাপ জিতেছিল ২০০৪ সালে। সেই ফাইনালেও প্রতিপক্ষ ছিল মোহনবাগান। ফলে ২২ বছর পর ফের ডুরান্ড ট্রফি জয়ের হাতছানি ইস্টবেঙ্গলের সামনে।
চলতি প্রতিযোগিতায় অবশ্য ইস্টবেঙ্গলের পথটা একেবারে মসৃণ ছিল না। গ্রুপ পর্বে মোহনবাগানের কাছে ০-১ গোলে হারের পরও ঘুরে দাঁড়িয়ে নকআউট পর্বে পৌঁছয় লাল-হলুদ। সেমিফাইনালে এসসি দিল্লিকে টাইব্রেকারে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে তারা।
মোহনবাগানের ফাইনালে ওঠার পথও ছিল নাটকীয়। নর্থইস্ট ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে সেমিফাইনাল নির্ধারিত সময়ে গোলশূন্য থাকার পর টাইব্রেকারে গড়ায়। সেখানে ৪-৩ ব্যবধানে জিতে ফাইনালে জায়গা করে নেয় সবুজ-মেরুন। গোলরক্ষক বিশাল কাইথ গুরুত্বপূর্ণ পেনাল্টি বাঁচিয়ে দলের জয়ে বড় ভূমিকা নেন।
ডুরান্ডের ইতিহাসে কলকাতা ডার্বি বরাবরই আলাদা আবেগ বহন করে। এবার সেই ডার্বিই যখন ট্রফি নির্ধারণ করবে, তখন যুবভারতীর গ্যালারি যে কানায় কানায় ভরে উঠবে, তা বলাই বাহুল্য। একদিকে মোহনবাগানের ১৮তম ডুরান্ড জয়ের লক্ষ্য, অন্যদিকে ২২ বছরের ট্রফি-খরা কাটানোর স্বপ্ন—২৩ অগস্টের ফাইনাল তাই শুধুই ম্যাচ নয়, দুই শিবিরের কাছে মর্যাদার লড়াইও।



