ডুরান্ড কাপ ২০২4-এ মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গলের মুখোমুখি লড়াই নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহ তুঙ্গে ছিল। শোনা যাচ্ছিল, ১৭ আগস্ট যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে মরশুমের প্রথম ডার্বি অনুষ্ঠিত হতে পারে। কিন্তু সর্বশেষ খবর বলছে, সেই তারিখে এই বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচ হচ্ছে না। ফলে সমর্থকদের অপেক্ষা আরও বাড়ল।
ইস্টবেঙ্গল গ্রুপ এ থেকে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে। প্রথম ম্যাচে সাউথ ইউনাইটেডকে ৫-০ গোলে হারানোর পর, দ্বিতীয় ম্যাচে নামধারীর বিরুদ্ধে ১-০ গোলে জয় পায় লাল-হলুদ শিবির। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে এয়ারফোর্সকে ৬-১ ব্যবধানে হারিয়ে গ্রুপের শীর্ষস্থান পাকা করে বিনো জর্জের দল।


অন্যদিকে, মোহনবাগানও গ্রুপ বি-তে অপরাজিত থেকে কোয়ার্টারে প্রবেশ করেছে। প্রথম ম্যাচে মহামেডানকে ৩-১ গোলে হারিয়ে অভিযান শুরু করে মোলিনার ছেলেরা। এরপর বিএসএফকে ৪-০ এবং শেষ ম্যাচে ডায়মন্ড হারবারকে ৫-১ ব্যবধানে হারিয়ে গ্রুপের শীর্ষে থেকে তারা শেষ আটে পৌঁছায়।
ডুরান্ড কাপে মোট ছয়টি গ্রুপ রয়েছে। প্রতি গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন দল এবং সেরা দ্বিতীয় স্থানের দুটি দল কোয়ার্টারে খেলে। মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গল উভয়ই গ্রুপের শীর্ষে থাকায় তাদের কোয়ার্টারে মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা স্বাভাবিকভাবে কমে যায়। যদিও শোনা যাচ্ছিল, কোয়ার্টার ফাইনালের জন্য আলাদা ড্র হতে পারে এবং সেক্ষেত্রে ১৭ আগস্ট ডার্বি হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু আয়োজকদের তরফে জানানো হয়েছে, এমন কোনও পরিকল্পনা নেই।
এতে স্পষ্ট, ১৭ আগস্ট ডুরান্ড কাপের ডার্বি দেখা যাচ্ছে না। ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এটি হতাশাজনক হলেও প্রতিযোগিতার কাঠামো অনুযায়ী, মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গল হয়তো সেমিফাইনাল বা ফাইনালে মুখোমুখি হতে পারে। ফলে ডার্বির উত্তেজনা আরও বেড়ে যাবে, কারণ তখন ম্যাচটির গুরুত্ব বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে।


এখন প্রশ্ন, কবে হবে মরশুমের প্রথম মোহন-ইস্ট ডার্বি? কলকাতা লিগে বা ডুরান্ড কাপে পরে এই দ্বৈরথ দেখা যেতে পারে। তবে যে তারিখের জন্য সমর্থকরা প্রস্তুত হয়েছিলেন, সেই ১৭ আগস্ট আপাতত ডার্বিহীনই থাকছে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন।
ডুরান্ড কাপের ইতিহাসে ডার্বি সবসময় বিশেষ আকর্ষণ নিয়ে আসে। এশিয়ার প্রাচীনতম ফুটবল প্রতিযোগিতায় মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গলের প্রতিদ্বন্দ্বিতা যেমন কিংবদন্তি, তেমনি প্রতিটি ম্যাচেই গ্যালারি ভর্তি থাকে উভয় শিবিরের সমর্থকে। তাই ১৭ আগস্টের ডার্বি স্থগিত হওয়ায় অনেকে হতাশ হলেও, সুযোগ থাকছে মরশুমের পরে আরও বড় মঞ্চে এই দ্বৈরথ দেখার।
মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গল—দুই শিবিরই এখন কোয়ার্টারের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। বিনো জর্জের লাল-হলুদ দল আক্রমণাত্মক ফুটবলে ভর করে গ্রুপে শীর্ষে এসেছে। অন্যদিকে মোলিনার মোহনবাগানও দাপুটে ফুটবল খেলছে, প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলে গোলের পর গোল তুলে নিচ্ছে। যদি প্রতিযোগিতার পরে কোনও এক পর্যায়ে তারা মুখোমুখি হয়, তবে সেটি হবে মরশুমের অন্যতম বড় আকর্ষণ।
যতদিন না ডুরান্ড কাপে মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গলের ডার্বি হচ্ছে, ততদিন ভক্তদের ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতে হবে। হয়তো এই বিলম্বই প্রতিদ্বন্দ্বিতার তীব্রতা আরও বাড়িয়ে দেবে।







