দমদমে গেঞ্জি কারখানায় ভয়াবহ আগুন, ঘটনাস্থলে ১০টি ইঞ্জিন

সন্ধ্যার ব্যস্ত সময়ে দমদমের গেঞ্জি কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড; দমকলের দ্রুত হস্তক্ষেপে বস্তি বাঁচল বড় বিপদ থেকে।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

দমদমে গেঞ্জি কারখানায় আগুন লাগে সোমবার সন্ধেয়, আর কয়েক মিনিটের মধ্যেই আগুনের তীব্রতা ভয়াবহ রূপ নেয়। দাহ্য পদার্থে ভরা ওই কারখানায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতির ভয়াবহতা আরও বাড়ে। আগুনের শিখা দূর থেকেই দেখা যাচ্ছিল, ফলে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আগুনের ধোঁয়ায় চারিদিক ঢেকে যাওয়ার কারণে প্রথমে পরিস্থিতি বোঝাই কঠিন হয়ে উঠেছিল।

আগুন লাগার সময় কারখানায় কর্মীরা কাজ করছিলেন। আগুন ছড়িয়ে পড়তে শুরু করতেই তারা দ্রুত বাইরে বেরিয়ে আসেন। গেঞ্জি কারখানায় আগুন লাগার কারণে পাশের বস্তিগুলি সবচেয়ে বড় ঝুঁকির মুখে পড়েছিল। বস্তিগুলি ঘনবসতিপূর্ণ হওয়ায় আশঙ্কা তৈরি হয় যে আগুন ছড়িয়ে পড়লে বিপর্যয়ের চেহারা ভয়ংকর হতে পারত। আতঙ্কে অনেকেই ঘর ছেড়ে রাস্তায় ছুটে আসেন।

Shamim Ahamed Ads

দমদমে গেঞ্জি কারখানায় ভয়াবহ আগুন, ঘটনাস্থলে ১০টি ইঞ্জিন

খবর পেয়েই পৌঁছে যায় দমকলের ১০টি ইঞ্জিন। দমকলকর্মীদের প্রথম কাজ ছিল আগুন যেন বস্তির দিকে না বাড়তে পারে, সেই জন্য চারিপাশে প্রতিরোধ তৈরি করা। এক দমকলকর্মী জানান, কারখানার চারদিকে থাকা বস্তিকে রক্ষা করাই ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, “বস্তিতে আগুন ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হতো। আমরা সেই বিপদ এড়াতে পেরেছি।”

দমকলের দ্রুত কাজের ফলে আগুনের দাপট কিছুক্ষণের মধ্যেই নিয়ন্ত্রণে আসে। তবুও দমকলের কর্মীরা কারখানার ভিতরে আরও কোথাও আগুন লুকিয়ে রয়েছে কি না, তা নিরীক্ষণ করে দেখছেন। কর্তৃপক্ষের অনুমান, আগুনে বড়সড় আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, তবে সবচেয়ে বড় স্বস্তি—এখনও পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর মেলেনি।

প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ জানা যায়নি। তবে সূত্রের দাবি, দাহ্য কাপড়, সুতো এবং মেশিনের সংস্পর্শে কোনও ত্রুটি বা শর্ট সার্কিট থেকেই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। পুলিশ জানিয়েছে, গেঞ্জি কারখানায় আগুন লাগার পর তদন্ত করে দেখা হবে সেখানে যথাযথ অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা ছিল কি না।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বস্তিতে আগুন না ছড়ানোয় তাঁরা স্বস্তির শ্বাস নিয়েছেন। এ ধরনের কারখানা ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার মাঝের দূরত্ব কতটা নিরাপদ, সেটাও ফের প্রশ্নের মুখে এসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দমদম ও আশপাশের এলাকায় ছোট-বড় শিল্প কারখানার নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনায় নতুন করে নজরদারি প্রয়োজন।

এই ঘটনা ফের মনে করিয়ে দিল, কলকাতা ও তার উপনগরীতে লাগাতার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাগুলি কতটা বাড়ছে এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে দমকলের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা ঠেকাতে কঠোর নিরাপত্তা নীতি ও নিয়মিত অডিট জরুরি বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত