নজরবন্দি ব্যুরোঃ নির্বাচনের আগে বাংলার নেতা-মন্ত্রীরা দলবদলে যে চমক এনেছিলেন তাঁদের টপকে কয়েকগুন এগিয়ে টক্কর দিচ্ছে টলিউড। গত একমাসে টলিউড ও ভাগ হয়ে গেছে এক কথায় তৃনমূল-বিজেপি-বামে। তাঁদের কার্যক্ষেত্রে প্রভাব না পড়লেও রাজনৈতিক বিভাজন কিন্তু স্পষ্ট। প্রত্যক্ষ্য পরোক্ষ ভাবে একে অপরকে কটাক্ষ করতেও ছাড়ছেন না। এই পরিস্থিতিতে এই মাসের শুরুর দিকেই ব্রাত্য বসুর হাত ধরে আনুষ্ঠানিক ভাবে তৃনমুল-কংগ্রেসে যোগ দেন টেলিভিসনের একাধিক জনপ্রিয় মুখ। এদে মধ্যে অন্যতম হলেন দীপঙ্কর দে। আর দীপঙ্করের রোল মডেল মমতাই।
আরও পড়ুনঃ একে একে তুরুপের তাস বের করছে আলিমুদ্দিন, টালিগঞ্জে প্রার্থী দেবদূত ঘোষ।


দীপঙ্করের আর তৃণমূলের যোগ আজকের নয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের একদম গোড়ার দিক থেকে সঙ্গে আছেন তিনি। এই মাসের গোড়ার দিকে আনুষ্ঠানিক ভাবে তৃণমূলের দলীয় পতাকা তুলে নেন তিনি। যুক্তিতে তিনি জানিয়েছিলেন গত বছরের তাঁর অসুস্থতার সময় মমতার সরকার ভরেছিলেন হাসপাতালের বিল। সেই মন্তব্যের পর একের পর এক কটাক্ষ ভেসে আসে তাঁর দিকে। সম্প্রতি একটি সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাতকারে তিনি স্পষ্ট জানান, কোন রকম মিথ্যেচার করেননি তিনি। যা ঘটেছে তাই বলেছেন। তাতে যদি প্রশ্ন ওঠে আনুগত্যের তাতে কিছু বলার নেই তাঁর। তবে এই মুহুর্তে যে ট্রেন্ড চলছে টলিউডে, মানুষের জন্য কাজ করতে চেয়ে দলবদল, সেই বক্তব্যকে এককথায় উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি।
হাসপাতালের বিল ভরা প্রসঙ্গেও অভিনেতা জানান গত ১১ বছর ধরে মমতার সরকারের পক্ষে এবং পাশে আছেন দীপঙ্কর দে। কখনো কোন আর্থিক সাহায্য বা প্রশাসনিক পদ চাননি তিনি। গত বছর অসুস্থতার কথাও তিনি জানান্নি রাজ্য সরকারকে, নিজের ডেবিট কার্ড নিয়েই গিয়েছিলেন হাসপাতালে। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী খবর পাওয়ার পরই পাঠান মন্ত্রী অরুপ বিশ্বাসকে। এবং রাজ্য সরকার নিজের ইচ্ছেয় সেই দায়িত্ব তুলে নেয়।
দীপঙ্করের রোল মডেল মমতাই। টলিউডের এই দলবদলের খেলায় প্রার্থী হিসেবেও উঠে আসছে একাধিক নাম। সেই প্রসঙ্গেও তিনি জানিয়েছেন, গত ১১ বছরে যা করেননি, এখনও তা করবেন না। বয়সের কারণে যেতে পারবেন না কোন মিটিং মিছিলে। কিন্তু পাশে থাকবেন মমতার। প্রসঙ্গে তিনি মনেও করিয়ে দিয়েছেন ২০১১-এর ঘটনা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের দিন হাজার হাজার মানুষের সঙ্গে তিনিও গিয়েছিলেন মহাকরণে। কোন রকম ভণিতা ছাড়াই তিনি জানান , মমতা তাঁর রোল মডেল। ওই একটা মানুষের জনই তিনি ভালোবাসেন একটা গোটা দলেক। এবং সময় এবং সুস্থ থাকলে এর পরও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন। তবে মিটিং মিছিলে না।









