ঝলক মুক্তির পর থেকেই ধুরন্ধর ঝলক ঘিরে শুধু ভারতেই নয়, পাকিস্তানেও শুরু হয়েছে জোরচর্চা। আদিত্য ধর পরিচালিত এই অ্যাকশন থ্রিলার এখনও মুক্তি না পেলেও পাকিস্তানের করাচির ঐতিহাসিক লিয়ারি শহরে ছবিটি নিয়ে উত্তাপ চরমে। কারণ, ধুরন্ধর ঝলক-এ লিয়ারি গ্যাং, রেহমান ডাকাইট এবং গ্যাং-নিয়ন্ত্রিত এলাকা যেভাবে দেখানো হয়েছে, তা পাকিস্তানের বহু দর্শকের মনেই অসন্তোষ তৈরি করেছে। আবার অনেকে মনে করছেন, ছবিটি লিয়ারির বাস্তবতাকেই ফুটিয়ে তুলেছে।
রণবীর সিংহ এই ছবিতে অভিনয় করছেন এক ভারতীয় গুপ্তচরের ভূমিকায়, যিনি বিভিন্ন পরিচয়ে লিয়ারি গ্যাংয়ের ভেতরে ঢুকে তাদের কার্যকলাপ বুঝে ওঠার চেষ্টা করেন। ঠিক এই জায়গাতেই ধুরন্ধর ঝলক পাকিস্তানি দর্শকের চোখে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কেননা লিয়ারি শহর পাকিস্তানের আন্ডারওয়ার্ল্ড ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
পাকিস্তানের একটি সংবাদমাধ্যম লিয়ারির রাস্তায় ঘুরে স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছে। তাঁদের অনেকেই বলেছেন, ছবিতে যে ভাবে লিয়ারি দেখানো হয়েছে, তা তাঁদের বাস্তব অভিজ্ঞতার সঙ্গে মেলে না। এক স্থানীয় অভিযোগ করেছেন, “ওরা ধুরন্ধর ঝলক বানিয়ে ফেলল। একবার আমাদের জিজ্ঞাসা করল না। লিয়ারির প্রত্যেকটা গলি দেখাতে পারতাম। রেহমান ডাকাইটের কথাও বলতাম। বাস্তব রেহমানের সঙ্গে অক্ষয় খন্নার কোনও মিল নেই।”
রণবীর সিং-এর ‘ধুরন্ধর’ ঝলক নিয়ে তোলপাড় পাকিস্তান, লিয়ারি শহরের বিতর্ক তুঙ্গে!
তবে সব মত একসুরে ওঠেনি। অনেকেই মনে করছেন, পরিচালক আদিত্য ধরকে ধন্যবাদ জানানো উচিত লিয়ারিকে আন্তর্জাতিক দর্শকের সামনে তুলে ধরার জন্য। তাঁদের কথায়, “লিয়ারি যেমন, ধুরন্ধর ঝলক-এ ঠিক তাই দেখানো হয়েছে। এখানে অপরাধজগতের ইতিহাস আছে, গ্যাং যুদ্ধ আছে—ছবিতে সেগুলো যথেষ্ট বাস্তবানুগ।”

ছবিতে পাকিস্তানের কুখ্যাত পুলিশ অফিসার চৌধুরী আসলাম-এর চরিত্রে দেখা যাবে সঞ্জয় দত্তকে। তাঁর এই রুক্ষ ও শক্ত ইমেজ লিয়ারির বাসিন্দাদের মন জিতে নিয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, সঞ্জয় দত্তকে দেখে তাঁদের বাস্তব আসলমের কথাই মনে পড়েছে। কেউ কেউ আবার রণবীর সিংহ ও সঞ্জয় দত্তকে লিয়ারি ঘুরে দেখার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
ধুরন্ধর ঝলক নিয়ে পাকিস্তানে এত আলোচনা হওয়ার অন্যতম কারণ—লিয়ারি কোনও সাধারণ শহর নয়। করাচির অন্যতম পুরনো এবং ঐতিহাসিক এই এলাকা বিভিন্ন সময় নানা ঘটনা, গ্যাং ওয়ারের সাক্ষী। বিশেষ করে ৮০ ও ৯০-এর দশকে লিয়ারি গ্যাং পুরো এলাকাকে নিয়ন্ত্রণ করত। রেহমান ডাকাইট তখন এক ভয়ংকর নাম। সেই চরিত্রেই অক্ষয় খন্নার অভিনয় করা নিয়ে পাকিস্তানি দর্শকদের মধ্যে সহমত-বৈপরীত্য উভয়ই তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে ভারতীয় দর্শকদের কাছে ধুরন্ধর ঝলক আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে রণবীর ও অক্ষয়ের জুটি, বাস্তব ঘটনার ইঙ্গিত, এবং পাকিস্তানের ‘অনাদেখা’ অন্ধকার দিক তুলে ধরা নিয়ে। ফলে ছবি মুক্তির আগেই হয়ে উঠেছে সীমান্ত-ছাড়ানো আলোচনার কেন্দ্র।
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক OTT প্ল্যাটফর্মে পাকিস্তানি কনটেন্টের জনপ্রিয়তার যুগে এবার ভারতীয় ছবি পাকিস্তানের গল্পকে রূপ দিচ্ছে—এটাই উত্তেজনার মূল কারণ। লিয়ারির মতো সংবেদনশীল এলাকার চিত্রণ যে বিতর্ক তৈরি করবে, তা পূর্বাবাসে পরিষ্কার ছিল। তবু ধুরন্ধর ঝলক-এর এই তীব্র প্রতিক্রিয়াই প্রমাণ করছে—ছবিটি মুক্তির আগেই আলোচনার দাপটে বহু বলিউড ছবিকে পেছনে ফেলে দিয়েছে।







