ধর্মেন্দ্র প্রয়াত: ‘ইয়ে দোস্তি’ ছিন্ন, বীরুকে শেষবার দেখতে গিয়ে ভেঙে পড়লেন অমিতাভ

বলিউডের কিংবদন্তি ধর্মেন্দ্র প্রয়াত হওয়ার পর পবনহংস শ্মশানে পৌঁছলেন অমিতাভ বচ্চন। ‘জয়-বীরু’র বন্ধুত্বের অধ্যায় শেষ হল অশ্রুজলে।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে চিরকাল অমর হয়ে থাকা নামদের মধ্যে অন্যতম ধর্মেন্দ্র প্রয়াত। কয়েক দিন ধরেই নেটমাধ্যমে তাঁর মৃত্যুর গুজব ছড়ালেও সোমবার সেই আশঙ্কাই বাস্তবে রূপ নেয়। দুপুর গড়াতেই দেশের কোণে কোণে পৌঁছে যায় হিম শীতল সংবাদ—বলিউডের হি-ম্যান আর নেই। এই খবরে স্তব্ধ হয়ে যায় চলচ্চিত্র মহল।

এই পরিস্থিতিতে নিজের অন্যতম প্রিয় বন্ধুকে শেষবার চোখের সামনে দেখতে ছুটে যান অমিতাভ বচ্চন। যে বন্ধুত্ব একসময় ভারতীয় জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে নতুন সংজ্ঞা তৈরি করেছিল, সেই ‘জয়-বীরু’র সম্পর্ক যেন হঠাৎই শেষ অধ্যায়ে এসে দাঁড়াল।

শেষবারের মতো বন্ধুকে দেখতে ছুটলেন অমিতাভ

বিগত সপ্তাহে মৃত্যুর গুজব রটতেই অমিতাভ নিজে গাড়ি চালিয়ে মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে পৌঁছেছিলেন। এবার যখন সত্যিই ধর্মেন্দ্র প্রয়াত, খবর পেয়েই ছেলে অভিষেককে নিয়ে ছুটে এলেন। চোখে ছিল শোকের ছাপ, নীরবতায় ভরা সেই মুহূর্ত আরও ভারী করে তুলেছিল পরিবেশকে।

পরে পবনহংস শ্মশানেও তাঁকে দেখা যায়। বছরখানেক আগের এক সাক্ষাৎকারে অমিতাভ বলেছিলেন, “ধর্মজি শুধু সহ-অভিনেতা নন, তিনি আমার পরিবারের অংশ।” সেই পরিবার-সদস্যকে বিদায় দিতে গিয়ে তাঁর চোখের জল বহু কিছুই বলে দিল।

ধর্মেন্দ্র প্রয়াত: ‘ইয়ে দোস্তি’ ছিন্ন, বীরুকে শেষবার দেখতে গিয়ে ভেঙে পড়লেন অমিতাভ
ধর্মেন্দ্র প্রয়াত: ‘ইয়ে দোস্তি’ ছিন্ন, বীরুকে শেষবার দেখতে গিয়ে ভেঙে পড়লেন অমিতাভ

শোলে: ভারতীয়দের যৌথ স্মৃতির জয়-বীরু

১৯৭৫ সালে মুক্তি পাওয়া ‘শোলে’ শুধু একটি সিনেমা ছিল না, ছিল ভারতীয় সমাজের সাংস্কৃতিক এক মাইলস্টোন। সেখানে জয়-বীরুর বন্ধুত্ব আজও উদাহরণ হয়ে থাকে। ধর্মেন্দ্র প্রয়াত হওয়ার পর কোটি মানুষের হৃদয়ে সেই কথাই ফিরে আসে—বন্ধুত্বের এই বন্ধন কি আর কখনও ফিরে আসবে?

এই ছবির পাশাপাশি ‘চুপকে চুপকে’, ‘ইনসাফ কৌন করেগা’, ‘বাজি’, ‘বেগানা’—সবকটি সিনেমাতেই তিনি প্রমাণ করেছিলেন তাঁর বহুমুখী প্রতিভা।

বয়স বাড়লেও বদলায়নি অভিনয়ের জাদু

বয়সের সঙ্গে সঙ্গে নিজেকে বদলে ফেলতে সক্ষম হয়েছিলেন ধর্মেন্দ্র। ‘প্যায়ার কিয়া তো ডরনা ক্যায়া’, ‘লাইফ ইন আ মেট্রো’, ‘জনি গদ্দার’—সব জায়গাতেই তিনি নিজস্ব ছাপ রেখেছিলেন। এমনকি সাম্প্রতিককালে ‘ইয়ামলা পাগলা দিওয়ানা’ ও ‘রকি অউর রানি কি প্রেম কাহানি’-তেও সমান স্বচ্ছন্দ ছিলেন তিনি।

ধর্মেন্দ্র প্রয়াত: ‘ইয়ে দোস্তি’ ছিন্ন, বীরুকে শেষবার দেখতে গিয়ে ভেঙে পড়লেন অমিতাভ

ধর্মেন্দ্র প্রয়াত হওয়ায় তাঁর অনুরাগীরা যেমন শোকে স্তব্ধ, তেমনই বলিউডও হারাল এক যুগের আবেগকে। অমিতাভের নীরব চোখের জলে যেন ভেসে উঠল সেই অপ্রতিরোধ্য বন্ধুত্ব—এক যুগান্তকারী সিনেমার স্মৃতি, এক জীবনভর সম্পর্ক। এই বিদায়ী পালা শুধু এক অভিনেতার নয়, গোটা চলচ্চিত্র শিল্পের হারিয়ে যাওয়া উজ্জ্বল অধ্যায়েরও শেষ চিহ্ন।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত