বঞ্চনাটা শুধু শিক্ষকদের সাথেই নয়,শিক্ষার সাথেও। #SpecialArticle

বঞ্চনাটা শুধু শিক্ষকদের সাথেই নয়,শিক্ষার সাথেও। #SpecialArticle

রত্নদ্বীপ সামন্ত (শিক্ষক): বঞ্চনাটা শুধু শিক্ষকদের সাথেই নয়,শিক্ষার সাথেও! ছাত্রাবস্থায় প্রাথমিক থেকে ইংরেজি তুলে দেওয়া ও পাশ ফেল তুলে দেওয়ার বিরুদ্ধে আন্দোলনে সামিল হয়েছি, কিন্তু বিগত সেই সরকারের পরিবর্তন করে লাভের লাভ কিছুতো হয়ই নি, উপরি হিসেবে দিনের পর দিন এস এস সি না হওয়া,গ্র‍্যাজুয়েট টিচারদের প্রাপ্য বেতন না পাওয়া,ন্যায্য ডিএ পাওয়া থেকে বঞ্চিত রাখা – সব কিছু। একসাথে চলছে।

খেজুরীর একটি স্কুলের শিক্ষক রজত বরন পতি জানান,” একদিকে শিক্ষকদের সংগে বঞ্চনা অন্যদিকে শিক্ষার সংগে আপোষ, এই দুই মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে যেন।আমরা না পাই রাজ্য সরকারি কর্মচারী দের মতো স্বাস্থ্য কার্ড,না পাই নিজেদের অবস্থানগত সম্মান।”

“সরকারের কাছে অসংখ্য বার ট্রান্সফার সংক্রান্ত আবেদন বিভিন্ন সংগঠন করলেও সরকার তাতে কর্নপাত করেনি।কখনও স্পেশাল ট্রান্সফারের নাম নিয়ে দলীয় সমর্থক দের ট্রান্সফার ত্বরান্বিত করা, আবার অকারণ মিউচুয়াল ট্রান্সফারের বার সারাজীবনে একবার করে রেখে, শিক্ষকদের সরকারি সংগঠন করতে বাধ্য করার পরিকল্পনা ছকে রাখা- এসবই শুধু চলছে।অথচ মিউচুয়াল ট্রান্সফার একাধিকবার করলেও স্কুলের কোন ক্ষতি হয়না।” জানালেন অমিত বাগ,খেজুরীর আমজাদনগর আশুতোষ উমেশ বিদ্যালয়ের শিক্ষক।

আরও পড়ুনঃ লকডাউন ঘোষণার দিনে মৃত্যুর রেকর্ড রাজ্যে, আক্রান্ত প্রায় ২৪ হাজার।

অন্যদিকে তরুনাভ দাস, চন্ডিপুরের আটাত্তর হাইস্কুলের শিক্ষক জানালেন,” শুধু রাজ্যই বা কেন,কেন্দ্র যে সব কার্যকলাপ চালাচ্ছে,তাতে করে বিজ্ঞানমনস্কতা থেকে শিক্ষার্থীদের আরও কয়েক শতক পিছিয়ে নিয়ে যাওয়ার ই সুকোউশল প্রচেষ্টা চলছে মাত্র।কেন্দ্র সেসব নাকরে যদি শিক্ষাক্ষেত্রে বাজেট বাড়াতো,তাহলেই দেশ অনেক ইঞ্চি এগিয়ে যেতো”। রামনগর এর শিক্ষক বিক্রম মাইতির মতে,” রাজ্য, কেন্দ্র উভয়ের যতই রাজনৈতিক বিভেদ থাক, ভেতরে ভেতরে এরা শিক্ষক বা শিক্ষার প্রতিবন্ধকতার ক্ষেত্রে সমান ভূমিকাই নিয়ে চলেছে।

তাই আমাদের সকল শিক্ষক সংগঠন এরই উচিৎ ভেদাভেদ ভুলে এক ছাতার তলায় আসা, এবং শিক্ষা ও শিক্ষকদের দাবির পক্ষে, এবং কেন্দ্র ও রাজ্যের এই শিক্ষা ও শিক্ষক বিরোধী নীতির বিরুদ্ধে গর্জে ওঠা।তা না হলে আগামী দিনে শিক্ষাক্ষেত্রে সর্বত্র যেভাবে বেসরকারিকরন শুরু হবে, তাতে ধনী বাড়ির ছেলে মেয়েরা ছাড়া পড়াশোনার সুযোগ বাকিদের হাতছাড়াই হবে।”

এই প্রসঙ্গে এগরার একটা স্কুলের শিক্ষক মানব দাস জানান ” শিক্ষকদের দাবী দাওয়া আদায়ে এখন আন্দোলনের চেয়ে কেস কাচারির সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায়,সরকার পক্ষের সুবিধাই হয়।না হয় বছপ্রের পর বছর সেসব কেসের ফয়সালা,নাহয় সরকার পক্ষকে টলিয়ে দেওয়া। তাই সমস্যা শিক্ষকদের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের বদলে,অতিরিক্ত আইন আদালত করতে গিয়ে,সমস্যা গুলো পার্মানেন্ট ই হয়ে থেকে যায়।

সমাধানের পথ যে রাস্তায় নেমে আন্দোলন, এটাই শিক্ষকদের নতুন করে ভাবতে হবে।তবেই শিক্ষা ও শিক্ষকদের অধিকাংশ সমস্যার সমাধান হবে,নচেত নয়।” সুতরাং বঞ্চনাটা শুধু শিক্ষকদের সাথেই নয়,শিক্ষার সাথেও।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *