দেশের ২০০ হিন্দু ধর্মীয়স্থানে হামলার ছক! দিল্লি বিস্ফোরণ ঘিরে উঠে এল বড় চাঞ্চল্যকর তথ্য

দু’বছর ধরে বিস্ফোরক জোগাড় করে আইইডি হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল জঙ্গিরা। লক্ষ্য—রামমন্দির, কাশী, অযোধ্যা ও দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ স্থানে একযোগে বিস্ফোরণ ঘটানো।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ভারতের রাজধানী দিল্লি বিস্ফোরণ কাণ্ডে উঠে এসেছে ভয়ঙ্কর তথ্য। তদন্তে জানা গিয়েছে, দু’বছর ধরে বিস্ফোরক সংগ্রহ করে দেশজুড়ে ২০০-রও বেশি হামলার ছক কষছিল জঙ্গিরা। এই হামলার লক্ষ্য ছিল ভারতের প্রধান ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক কেন্দ্রগুলি—রামমন্দির, কাশীধাম, অযোধ্যা, দিল্লির লালকেল্লা, ইন্ডিয়া গেট, কনস্টিটিউশন ক্লাব এবং গৌরীশঙ্কর মন্দির

তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, এই হামলার উদ্দেশ্য ছিল দেশে সাম্প্রদায়িক অস্থিরতা ছড়ানো এবং ভারতকে একাধিক বিস্ফোরণে কাঁপিয়ে দেওয়া—যেমন হয়েছিল ২০০৮ সালের ২৬/১১ মুম্বই হামলায়। রাজধানী দিল্লির পাশাপাশি গুরুগ্রাম, ফরিদাবাদ, এমনকি দেশের গুরুত্বপূর্ণ রেলস্টেশনগুলিতেও বিস্ফোরণের পরিকল্পনা ছিল।

Shamim Ahamed Ads

কাশ্মীরের চিকিৎসক পরিচয়ে জঙ্গিদের লুকোচুরি

তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, জঙ্গিরা এবার তাদের কাজের জন্য বেছে নিয়েছিল কাশ্মীরের পুলওয়ামা, শোপিয়ান ও অনন্তনাগের ডাক্তারদের। এই ভুয়ো পরিচয়ের আড়ালে তারা সহজে চলাচল করতে পারছিল এবং সন্দেহ এড়াতে সক্ষম হয়েছিল।

ফরিদাবাদের আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়-কেই তারা নিজেদের ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করেছিল বলে দাবি পুলিশের। এখান থেকেই তৈরি হচ্ছিল বিস্ফোরকের নকশা এবং যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছিল দেশের বিভিন্ন অংশে থাকা সহযোগীদের সঙ্গে।

দিল্লি পুলিশ উদ্ধার করল জঙ্গিদের গাড়ি ও বিস্ফোরক

দিল্লি পুলিশের সন্দেহ, বিস্ফোরণকাণ্ডে মূল অভিযুক্ত ড. উমর নবি-র দুটি গাড়ি ছিল। এর মধ্যে একটি—লাল রঙের ফোর্ড ইকোস্পোর্ট—বুধবার সন্ধ্যায় ফরিদাবাদের খাণ্ডাওয়ালি গ্রামে উদ্ধার হয়। গাড়িটি OL10CK0458 নম্বরের, যা আগে থেকেই নজরে ছিল তদন্তকারীদের।

রাতেই ফরেনসিক টিম ঘটনাস্থল থেকে বিস্ফোরকের নমুনা সংগ্রহ করেছে। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, এই গাড়িটির সঙ্গে দিল্লি বিস্ফোরণের মূল পরিকল্পনার যোগ ছিল। এছাড়াও, দিল্লির গোবিন্দপুরী মেট্রো স্টেশনের কাছে সন্দেহভাজন দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। গাড়ি থেকে পাওয়া গিয়েছে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র, চারটি মোবাইল ও নগদ টাকা।

তবে সরকারিভাবে এখনও বিস্ফোরকের উপস্থিতি নিয়ে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।

উমর নিহত, আত্মঘাতী হামলা নয়

তদন্তে জানা গিয়েছে, দিল্লি বিস্ফোরণে উমর নবি নিহত হয়েছে। তবে ঘটনাটি আত্মঘাতী গাড়ি বোমা হামলা ছিল না। কারণ গাড়িটি কোনও নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু বা ভবনের দিকে ধেয়ে যায়নি। অর্থাৎ বিস্ফোরণটি পরিকল্পিত হলেও তা আত্মঘাতী ছিল না।

পুলিশ ইতিমধ্যেই উমরের মায়ের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করেছে দেহের অংশ শনাক্ত করতে। ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া গিয়েছে প্রায় ৪০টি নমুনা, যা এখন ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।

মোদির জরুরি বৈঠক ও কেন্দ্রের বার্তা

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভুটান সফর শেষে সরাসরি দিল্লি ফিরে এলএনজেপি হাসপাতালে যান এবং আহতদের খোঁজখবর নেন। পরে রাতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে দুই মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। বৈঠকে সর্বসম্মতভাবে প্রস্তাব গৃহীত হয় যে, দিল্লি বিস্ফোরণ সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ, এবং দোষীদের অবিলম্বে শাস্তি দিতে হবে।

তবে আশ্চর্যের বিষয়, ওই প্রস্তাবে পাকিস্তানের নাম বা সীমান্তপার সন্ত্রাস নিয়ে কোনও উল্লেখ ছিল না।

বিশেষজ্ঞদের মত: সরকার নিজের কথায় আটকে গেছে

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকার এখন নিজের অবস্থানেই বিপাকে পড়েছে। কারণ প্রধানমন্ত্রী নিজেই আগে বলেছিলেন, পাকিস্তানের কোনও হামলা হলে তা ‘অ্যাক্ট অফ ওয়ার’ হিসেবে বিবেচিত হবে। তাই এবার জইশ-ই-মহম্মদ-এর যোগের ইঙ্গিত মিললেও সরকার প্রকাশ্যে কিছু বলছে না।

নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটিতে দিল্লি বিস্ফোরণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। গোয়েন্দা মহলের আশঙ্কা, দেশের বিভিন্ন স্থানে এখনো ঘুমিয়ে থাকা জঙ্গি মডিউলগুলি সক্রিয় হতে পারে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত