দিল্লি বিস্ফোরণের পর পাকিস্তান নিয়ে নীরব কেন কেন্দ্র সরকার? উঠছে প্রশ্ন

লালকেল্লার সামনে ভয়াবহ বিস্ফোরণের পরও কেন্দ্রীয় সরকারের নীরবতা ঘিরে তীব্র সমালোচনা। বিরোধীরা প্রশ্ন তুলেছেন— পাকিস্তানের নাম আসছে না কেন?

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

দিল্লির লালকেল্লার সামনে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনার পর গোটা দেশ জুড়ে তৈরি হয়েছে তীব্র উত্তেজনা। প্রাথমিক তদন্তে জঙ্গি-যোগের ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও, কেন্দ্রীয় সরকার এখনও পর্যন্ত পাকিস্তান নিয়ে একটিও শব্দ উচ্চারণ করেনি। এই নীরবতাই এখন রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে। বিরোধী দলগুলির অভিযোগ— কেন্দ্রের এই ‘চুপ থাকা’ আসলে কূটনৈতিক দ্বিধা, নাকি অন্য কোনও রাজনৈতিক হিসেব?

দিল্লি বিস্ফোরণ ঘটেছিল ঐতিহাসিক লালকেল্লার ১ নম্বর গেটের সামনে, একটি সাদা রঙের আই-২০ গাড়িতে রাখা বিস্ফোরক থেকে। ঘটনায় আতঙ্ক ছড়ায় রাজধানীজুড়ে। পরবর্তী তদন্তে উঠে এসেছে, গাড়িটি ফেক নাম ও ভুয়ো নম্বরপ্লেটে নিবন্ধিত ছিল, আর বিস্ফোরণের পদ্ধতিও পাকিস্তানি জঙ্গি সংগঠনগুলির ব্যবহৃত কৌশলের সঙ্গে মিল রয়েছে।

তবু কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক কোথাও “Pakistan connection” শব্দটি ব্যবহার করেনি। এই নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে রাজনৈতিক মহল।

বিরোধী দলের অভিযোগ, কেন্দ্র ইচ্ছাকৃতভাবে পাকিস্তানের নাম টানছে না, কারণ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কূটনৈতিক সম্পর্ক নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ বলেছেন, “যখনই দেশে বড় সন্ত্রাসবাদী হামলা হয়, তখন পাকিস্তানকেই দায়ী করা হয়। কিন্তু এবার কেন কেন্দ্র চুপ? এই নীরবতার অর্থ কী?”

অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসও প্রশ্ন তুলেছে, যদি কেন্দ্র জানে এটি জঙ্গি হামলা, তাহলে পাকিস্তানের নাম প্রকাশ্যে আনতে ভয় কিসের? দলীয় মুখপাত্রের মন্তব্য, “এটা কি নির্বাচনের আগে কোনও রাজনৈতিক প্রভাব এড়ানোর চেষ্টা?”

তবে কেন্দ্রীয় সূত্রের দাবি, তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে। এনআইএ ও আইবি যৌথভাবে কাজ করছে, এবং পর্যাপ্ত প্রমাণ ছাড়া কোনও দেশকে দায়ী করা ঠিক হবে না। সরকারের অবস্থান স্পষ্ট— এখনই কোনও কূটনৈতিক ঘোষণা নয়, বরং প্রমাণ-ভিত্তিক পদক্ষেপ।

তবে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরণের বিস্ফোরণের ধরন এবং বিস্ফোরক ব্যবহারের কৌশল থেকে স্পষ্ট— এর পিছনে প্রশিক্ষিত জঙ্গি নেটওয়ার্ক কাজ করেছে। অবসরপ্রাপ্ত সেনা আধিকারিক অজয় কুমারের কথায়, “এটা স্পষ্টভাবে পাকিস্তান-ঘনিষ্ঠ মডিউলের কাজ। এখনই পদক্ষেপ না নিলে বার্তা যাবে— ভারত দুর্বল।”

জনমতের দিক থেকেও কেন্দ্রের নীরবতা তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই লিখছেন, “যদি এটা পাকিস্তানের হামলা হয়, তাহলে সরকার কেন বলছে না?” অন্যদিকে, বিজেপির একাংশের মত— এখনই পাকিস্তানের নাম নিলে তদন্ত প্রভাবিত হতে পারে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই নীরবতা কূটনৈতিক কৌশলও হতে পারে। ভারত যদি সরাসরি পাকিস্তানের নাম নেয়, তাহলে আন্তর্জাতিক মহলে উত্তেজনা বাড়তে পারে, বিশেষ করে জাতিসংঘ ও জি-২০ স্তরে। তাই সরকার আপাতত সংযমী অবস্থান নিয়েছে।

তবে বিরোধীদের অভিযোগও উপেক্ষা করা যাচ্ছে না। তারা বলছেন, মোদী সরকার সবসময় পাকিস্তানকে কঠোর ভাষায় আক্রমণ করত, কিন্তু এবার চুপ। কারণ কী?

দিল্লি বিস্ফোরণ এখন শুধু একটি সন্ত্রাসবাদী হামলার তদন্ত নয়, বরং একটি রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার পাকিস্তানের নাম না নিয়ে তদন্ত এগিয়ে নিচ্ছে, কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে— এই নীরবতা কি সতর্ক কূটনীতি, নাকি রাজনৈতিক সুবিধাবাদের প্রতিচ্ছবি?

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত