দিল্লির লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের পার্কিংয়ে ভয়াবহ দিল্লি বিস্ফোরণকাণ্ড ঘটেছিল দুই সপ্তাহ আগে। প্রাণ হারান বহু নিরীহ মানুষ, আহত হন আরও অনেকে। এবার তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে পাকিস্তান-সমর্থিত জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদের ‘হোয়াইট-কলার টেরর’ মডিউলের অসংখ্য স্তর। জম্মু–কাশ্মীর থেকে দিল্লি পর্যন্ত বিস্তৃত এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে যোগ মিলছে আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন চিকিৎসকের।
১০ নভেম্বর লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের পার্কিংয়ে দাঁড়িয়ে থাকা সাদা হিউন্ডাই আই২০ গাড়িতেই বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। তদন্তে নিশ্চিত হয়েছে, এটি ছিল পরিকল্পিত আত্মঘাতী হামলা। সেই গাড়ির চালক ছিলেন আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসক মোহাম্মদ উমর, ওরফে উমর উন নবি। তার সঙ্গে যুক্ত আরও কয়েকজন চিকিৎসককে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে স্পেশাল সেল।


দিল্লি বিস্ফোরণকাণ্ডে জঙ্গি যোগ, তদন্তে উঠে এল আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসকদের জঙ্গি নেটওয়ার্ক
তদন্তে সামনে এল ভয়ংকর তহবিলের তথ্য
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, দিল্লি বিস্ফোরণকাণ্ড ঘটাতে ‘হোয়াইট-কলার’ মডিউলের সদস্যরা সংগ্রহ করেছিল ২৬ লক্ষ টাকারও বেশি অর্থ। ধৃত চিকিৎসক মুজাম্মিল শাকিল গনাই জেরায় স্বীকার করেছেন, ২০২৩ সাল থেকেই বিস্ফোরক প্রস্তুতের কাজ শুরু হয়েছিল। মুজাম্মিল গুরুগ্রাম ও নুহ থেকে প্রায় ৩ লক্ষ টাকার এনপিকে সার কেনেন। বিস্ফোরক তৈরির জন্য নানা ইলেকট্রনিক সরঞ্জামও তিনি জোগাড় করেছিলেন।
এরমধ্যেই শ্রীনগরের নওগাম থানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে মৃত্যু হয়েছে ৯ জনের, আহত অন্তত ২৭ জন। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, ফরিদাবাদ ও সাহারানপুর থেকে বাজেয়াপ্ত হওয়া ২৯০০ কেজি বিস্ফোরক পরীক্ষার জন্য নওগামে রাখা হয়েছিল। সেই বিস্ফোরকেরই একাংশ থেকে বড়সড় ক্ষতি হয়েছে।


তদন্তে জড়াল আরও বহু নাম, পালাল মূল অভিযুক্ত
স্পেশাল সেল ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে আদিল আহমেদ রাথার, মুজাম্মিল শাকিল এবং শাহিনা সাঈদকে। তবে সবচেয়ে বড় ধাঁধা তৈরি করেছে অভিযুক্ত মুজাফফর আহমেদ রাথার। দক্ষিণ কাশ্মীরের কাজিগান্দের এই চিকিৎসক এখনও পলাতক। তদন্তকারীদের ধারণা, তিনি আফগানিস্তানে পালিয়ে গেছেন।
তদন্তে উঠে এসেছে শ্রীনগরের এসএমএইচএস হাসপাতালের প্রাক্তন সহকারী অধ্যাপক ডা. নিসার উল হাসানের নামও। তিনি দীর্ঘদিন আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে কাজ করতেন, এবং পলাতক চিকিৎসক উমর তাঁর অধীনেই কাজ করতেন।
দিল্লি বিস্ফোরণকাণ্ডে পুরনো জঙ্গি নেটওয়ার্কের ছায়া
সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য—তদন্তে উঠে এসেছে ভারতীয় মুজাহিদিনের ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ জঙ্গি মির্জা শাদাব বেগের নাম। তিনি আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র এবং ২০০৭–০৮ সালে বহু হামলার ‘মাস্টারমাইন্ড’। তার গ্রেফতারের জন্য এখনও ১ লক্ষ টাকা পুরস্কার ঘোষণা রয়েছে।
স্পেশাল সেলের কর্মকর্তারা জানাচ্ছেন, দিল্লি বিস্ফোরণকাণ্ড এবং ২০০৭–০৮ সালের বিস্ফোরণ চক্রের মধ্যে যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, নতুন তথ্যগুলি অতীতের বহু অমীমাংসিত কেসের তদন্তে নতুন দিশা দিতে পারে।
এই মুহূর্তে দিল্লি বিস্ফোরণকাণ্ড ভারতের নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য এক বড় সতর্কতা। হোয়াইট-কলার টেরর মডিউল কীভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ও চিকিৎসা পেশার আড়ালে সক্রিয় ছিল, তা এখন পুলিশের কাছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।








