দিল্লি বিস্ফোরণকাণ্ডে জড়িত ‘জঙ্গি চিকিৎসক’দের মেডিক্যাল লাইসেন্স বাতিল

চার অভিযুক্ত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিল National Health Council। সারা দেশে আজীবন ডাক্তারি নিষিদ্ধ, বাতিল হল Indian ও National Medical Registration।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

Delhi Blast Case–এ চিকিৎসকদের জড়িত থাকার তথ্য সামনে আসার পর দেশের মেডিক্যাল ব্যবস্থাতেই চমক। বিস্ফোরক বহন করা থেকে হামলার পরিকল্পনা— সবকিছুতেই যুক্ত ছিলেন চার চিকিৎসক। তদন্তে উঠে আসার পর ইতিমধ্যেই গ্রেফতার মুজাম্মিল শাকিল, শাহিন শাহিদ এবং আদিল খান। এবার তাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নিল National Health Council

জাতীয় স্বাস্থ্য কাউন্সিল বাতিল করেছে এই তিন অভিযুক্ত চিকিৎসকের Indian Medical Registration এবং National Medical Registration—উভয়ই। অর্থাৎ দেশের কোথাও তারা আর চিকিৎসা প্র্যাকটিস করতে পারবেন না, কোনও সরকারি বা বেসরকারি হাসপাতালে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে পারবেন না।

পুলিশের তথ্যেই নিশ্চিত অপরাধ, তাই আজীবন নিষেধাজ্ঞা

নোটিসে স্পষ্ট বলা হয়েছে— পুলিশের হাতে থাকা তথ্য ও প্রমাণ অনুযায়ী এই চিকিৎসকরাই Delhi Blast Case-এর অন্যতম মূল অভিযুক্ত। তাদের কার্যকলাপ দেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকি, তাই রেজিস্ট্রেশন সম্পূর্ণ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জাতীয় স্বাস্থ্য কাউন্সিল জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট রাজ্যের মেডিক্যাল কাউন্সিলগুলিকে ইতিমধ্যেই নির্দেশ পাঠানো হয়েছে— যাতে এই তিন চিকিৎসক কোনও অবস্থাতেই মেডিক্যাল প্রফেশন পুনরায় শুরু করতে না পারেন।

Delhi Blast Case-এ ‘চিকিৎসকের ছদ্মবেশে জঙ্গি’— এই অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পরই এই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

চতুর্থ চিকিৎসক উমর নবি: আত্মঘাতী বিস্ফোরণে মৃত্যু, তবু বাতিল রেজিস্ট্রেশন

বিস্ফোরণে মৃত্যুবরণ করা চিকিৎসক ড. উমর নবির মেডিক্যাল রেজিস্ট্রেশনও বাতিল করা হয়েছে। তিনি ছিলেন ওই হামলার আত্মঘাতী বিস্ফোরকবাহক। National Health Council জানিয়েছে, অপরাধের গুরুত্ব বিচার করে তাঁর রেজিস্ট্রেশন রেকর্ড থেকেও চিরতরে সরিয়ে ফেলা হয়েছে।

এই ঘটনার পর চিকিৎসক সমাজের একাংশ প্রথমবার এত বড় মাত্রার কঠোর শাস্তির সাক্ষী হল।

চিকিৎসকদের জঙ্গি মডিউল: তদন্তে কী পাওয়া গিয়েছে

তদন্ত অনুযায়ী, Delhi Blast Case-এ ব্যবহৃত ঘাতক গাড়ি সংগ্রহ করা থেকে শুরু করে বিস্ফোরক মজুত করা এবং হামলার পরিকল্পনা— চার চিকিৎসকের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা দীর্ঘদিন ধরে একটি জঙ্গি মডিউলের সঙ্গে যুক্ত ছিল বলে সন্দেহ।

পুলিশের সূত্রে জানা গেছে, চিকিৎসক পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে তারা জঙ্গি নেটওয়ার্কে গোপনে কাজ করত। জঙ্গি সংগঠনের আর্থিক ও লজিস্টিক সাপোর্টেও তাদের সক্রিয় ভূমিকা ছিল।

Delhi Blast Case-এ এই তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যক্ষেত্রে নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন।

দেশের মেডিক্যাল ব্যবস্থার সুরক্ষায় নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত

জাতীয় স্বাস্থ্য কাউন্সিল জানিয়েছে, জনস্বার্থে এবং চিকিৎসা পেশার সুরক্ষায় এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। কাউন্সিলের বিবৃতি অনুযায়ী, “যে পেশা মানুষের জীবন রক্ষা করে, সে পেশার সঙ্গে জঙ্গি কার্যকলাপ কখনই সহাবস্থান করতে পারে না।”

Delhi Blast Case-এ অভিযুক্ত চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে এই কঠোর পদক্ষেপ বহুজনের মতে ভবিষ্যতের জন্য বড় বার্তা— চিকিৎসকের পরিচয় ব্যবহার করে সন্ত্রাসী কার্যকলাপের সুযোগ নেওয়া হলে রেয়াতের কোনও জায়গা থাকবে না।

রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও চিকিৎসা পেশার সততা—দুইয়ের সুরক্ষায় এই কড়া ব্যবস্থা

বর্তমানে গ্রেফতার তিন চিকিৎসক বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন। পুলিশ দ্রুত চার্জশিট পেশ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। চিকিৎসকদের মেডিক্যাল লাইসেন্স বাতিল হওয়ায় এখন তারা আর আইনত ডাক্তার পরিচয় ব্যবহার করেও কোনও সুবিধা নিতে পারবেন না।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং মেডিক্যাল কাউন্সিল—উভয়ের মতে, Delhi Blast Case দেখিয়ে দিল যে চিকিৎসকের পরিচয় আর নিরাপত্তার গ্যারান্টি নয়; অপরাধের সঙ্গে যুক্ত থাকলে শাস্তি নিশ্চিত।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত