দূষণ মোকাবিলায় সর্বোচ্চ স্তরের নিয়ন্ত্রণবিধি (GRAP-এর সর্বোচ্চ ধাপ) জারি থাকলেও পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি রাজধানী দিল্লিতে। সোমবার সকালেও দিল্লির বাতাসের গুণমান ‘ভয়ানক’ পর্যায়েই রয়ে গিয়েছে। ধোঁয়াশা ও কুয়াশার পুরু চাদরে ঢেকে গিয়েছে গোটা শহর, কোথাও কোথাও দৃশ্যমানতা নেমে এসেছে প্রায় শূন্যে।
জাতীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ (CPCB)-এর তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকাল ৬টা নাগাদ দিল্লির গড় একিউআই ছিল ৪৫৬। একাধিক এলাকায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। অশোক বিহার, ওয়াজিরপুর ও রোহিণী এলাকায় একিউআই ৫০০-তে পৌঁছে যায়, যা সিপিসিবি-র মাপকাঠিতে সর্বোচ্চ সীমা। অক্ষরধাম চত্বরেও একিউআই রেকর্ড করা হয়েছে ৪৯৩।


শীতের মরসুমে দূষণের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ঘন কুয়াশা। এই দুইয়ের মিশ্রণে ধোঁয়াশার আস্তরণ আরও পুরু হয়েছে। এর জেরে সোমবার সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন অংশে দৃশ্যমানতা মারাত্মকভাবে কমে যায়। ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় সকাল ৭টার সময় দৃশ্যমানতা নেমে আসে মাত্র ৫০ মিটারে।

এই পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিমান পরিষেবায়। ঘন কুয়াশা ও ধোঁয়াশার কারণে একাধিক উড়ান দেরিতে চলেছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এবং বিভিন্ন উড়ান সংস্থা যাত্রীদের আগাম সতর্ক করেছে। জানানো হয়েছে, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উড়ান পরিষেবায় বিলম্ব বা সাময়িক বিঘ্ন ঘটতে পারে।
আবহাওয়ার পরিস্থিতি বিবেচনা করে মৌসম ভবন ইতিমধ্যেই কমলা সতর্কতা জারি করেছে। দিল্লিবাসীকে প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না বেরোনোর এবং অত্যন্ত সাবধানতার সঙ্গে চলাফেরার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সকালবেলা রাস্তায় বেরিয়ে বহু মানুষ কয়েক কদম দূরের জিনিসও স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ।


সিপিসিবি-র মানদণ্ড অনুযায়ী,
-
একিউআই ০–৫০ হলে ভাল,
-
৫১–১০০ সন্তোষজনক,
-
১০১–২০০ মাঝারি,
-
২০১–৩০০ খারাপ,
-
৩০১–৪০০ অত্যন্ত খারাপ,
-
আর ৪০১–৫০০ হলে তা ভয়ানক হিসেবে ধরা হয়।
গত কয়েক দিন ধরেই দিল্লির গড় একিউআই ৪০১-এর নীচে নামেনি। শনিবার যেখানে একিউআই ছিল ৪৩১, রবিবার তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪৬১। সোমবার সামান্য কমলেও পরিস্থিতির কোনও বাস্তব উন্নতি হয়নি বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
দূষণ ও কুয়াশার এই যুগলবন্দিতে আপাতত স্বস্তির কোনও ইঙ্গিত নেই রাজধানীবাসীর জন্য।







