দার্জিলিংয়ের শীত মানেই ভিড়, রঙিন আলো, আর পর্যটকদের প্রিয় ‘হটস্পট’ গ্লেনারিসে জমজমাট সন্ধ্যা। কিন্তু ঠিক এই মৌসুমেই গ্লেনারিসের বার ও মিউজিক বন্ধ করে দেওয়ার প্রশাসনিক নির্দেশে ধাক্কার মতো পরিস্থিতি। বর্ষবিদায় ও নিউ ইয়ারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন সময়ে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে বিতর্ক।
প্রশাসন সূত্রে খবর, আগামী তিন মাস গ্লেনারিসে বার চালানো যাবে না এবং থাকছে লাইভ মিউজিকের উপর পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা। ফলে দার্জিলিংয়ে এসে সেই চেনা সন্ধ্যার আমেজ বা ‘গ্লেনারিস নাইটস’-এর অভিজ্ঞতা থেকে বঞ্চিত হবেন পর্যটকেরা।
যদিও নির্দেশের কারণ সম্পর্কে জেলা প্রশাসনের তরফে এখনো কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। কিন্তু পর্যটন মহলের অনুমান, কয়েকটি সম্ভাব্য কারণেই এই গ্লেনারিসের বার ও মিউজিক বন্ধের নির্দেশ জারি হতে পারে।
দার্জিলিংয়ে বন্ধ গ্লেনারিসের বার ও মিউজিক, শীতের ভিড়েও কেন এই কঠোর নির্দেশ?
স্থানীয় সূত্রের দাবি, সম্প্রতি শহরে রাতে অতিরিক্ত ভিড়, শব্দবাজি ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত কিছু অভিযোগ জমা পড়েছিল। একই সঙ্গে কয়েকদিন আগে দার্জিলিংয়ে রাতের অনুষ্ঠানকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। সেই কারণেই আপাতত কড়া নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ কার্যকর করতে চায় প্রশাসন।
অন্যদিকে হোটেল ব্যবসায়ীদের অনেকেই বলছেন, এই সময়টায় দার্জিলিংয়ের পর্যটন চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকে। ডিসেম্বরে ক্রিসমাস, নিউ ইয়ার–এর সময় পর্যটকের ঢল নামে। গ্লেনারিসের লাইভ মিউজিক ও বার সার্ভিস অনেকের কাছে দার্জিলিংয়ের অভিজ্ঞতার অপরিহার্য অংশ। সেখানে তিন মাস বন্ধ থাকলে ক্ষতির মুখে পড়বেন ব্যবসায়ীরাও।
পর্যটকদের মনেও গভীর হতাশা। বহু মানুষ জানাচ্ছেন, দার্জিলিং সফরের অন্যতম আকর্ষণই ছিল গ্লেনারিসে একটি সন্ধ্যা কাটানো। বিশেষ করে শীতের রাতে লাইভ মিউজিক ও উষ্ণ পরিবেশ পর্যটকদের কাছে আলাদা আনন্দ যোগ করত। এখন সেই অভিজ্ঞতা থেকে বঞ্চিত হতে হবে শুনে মন খারাপ অনেকের।

পরিস্থিতি নিয়ে দার্জিলিং মিউনিসিপ্যালিটি ও জেলা প্রশাসনের কাছে প্রশ্ন উঠছে—অতি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন মরশুমে কি এমন কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন ছিল? নাকি আরও কোনও নির্দিষ্ট অভিযোগ বা ঘটনা রয়েছে যার ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত?
পর্যটন ব্যবসায় যুক্ত অনেকেই মনে করছেন, যদি কোনও নির্দিষ্ট সমস্যা থেকেও থাকে, তবে তিন মাসের মতো দীর্ঘ সময়ের জন্য গ্লেনারিসের বার ও মিউজিক বন্ধ করে দেওয়া অত্যন্ত চড়া শাস্তি। এতে একদিকে যেমন দার্জিলিংয়ের পর্যটন ক্ষতিগ্রস্ত হবে, অন্যদিকে স্থানীয় কর্মীরাও চাকরি ও আয়ের দিক থেকে সমস্যায় পড়বেন।
এখন নজর প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপে। যদি আগামী দিনে কোনও ‘রিভিউ’ হয় বা পরিস্থিতি অনুকূল বলে বিবেচনা করা হয়, তবে নির্দেশ শিথিল হতে পারে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করছেন অনেকে। তবে ততদিন পর্যন্ত শৈলশহরে রাতের বিনোদনে থাকছে প্রশাসনিক তালা।



