কেন্দ্রীয় হারে মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) মিলবে কি না—এই প্রশ্নের উত্তরের জন্য এখনও অপেক্ষায় রাজ্যের বর্তমান ও অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীরা। ডিএ সংক্রান্ত মামলার শুনানি শেষ হলেও সুপ্রিম কোর্ট এখনও রায় ঘোষণা করেনি। ফলে বছরের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি।
শীর্ষ আদালতে এই মামলার শুনানি শেষ হয় ৮ সেপ্টেম্বর। বিচারপতি সঞ্জয় কারোল এবং বিচারপতি পি কে মিশ্র-র বেঞ্চে শুনানি শেষে রায় সংরক্ষিত রাখা হয়। ওই দিন আদালত দ্রুত কাউন্টার হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয় এবং নির্দেশ অনুযায়ী সব পক্ষই প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়েছে।
তারপর কেটে গিয়েছে প্রায় তিন মাস। তবুও রায় ঘোষণার দিনক্ষণ এখনও জানানো হয়নি। এই পরিস্থিতিতে নতুন বছরের শুরুতে আদালত সিদ্ধান্ত জানায় কি না, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন মামলাকারী ও কর্মচারী সংগঠনগুলি।
এই প্রসঙ্গে কনফেডারেশন অফ স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজ়-এর শীর্ষ নেতা শ্যামল মিত্র বলেন, “শুনানির সময় আদালতের প্রশ্ন ও দ্রুততার পরও এতদিন রায় না হওয়ায় আমরা বিস্মিত। আমরা সবাই শীর্ষ আদালতের নির্দেশের অপেক্ষায় রয়েছি।” জানুয়ারিতে রায় বেরোয় কি না, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।
আইনজ্ঞদের মতে, ডিএ মামলাটি অত্যন্ত জটিল এবং এর প্রভাব রাজ্যের গণ্ডি ছাড়িয়ে যেতে পারে। এক বর্ষীয়ান আইনজীবীর ব্যাখ্যা, “পশ্চিমবঙ্গের ডিএ মামলার রায় দেশের অন্যান্য রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে—শুনানির সময় আদালত নিজেই সে ইঙ্গিত দিয়েছিল। এমনকি কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের একটি অংশের করা ডিএ সংক্রান্ত মামলাতেও এর প্রভাব পড়তে পারে।”
সব দিক বিবেচনায় নিয়ে রায় দেওয়াই আদালতের কাছে স্বাভাবিক বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে ততদিন পর্যন্ত রাজ্যের লক্ষাধিক কর্মচারী ও পেনশনভোগীর একটাই প্রশ্ন—ডিএ মামলার রায় কবে?



