পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল পদ থেকে সিভি আনন্দ বোসের আকস্মিক ইস্তফাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তুমুল জল্পনা তৈরি হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত কি চাপের মুখে নেওয়া, নাকি ব্যক্তিগত পরিকল্পনার অংশ—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে। তবে রবিবার কলকাতায় ফিরে সেই জল্পনার জবাব দিলেন আনন্দ বোস নিজেই। তাঁর কথায়, এটি কোনও চাপের ফল নয়, বরং সম্পূর্ণ সচেতন সিদ্ধান্ত।
দিল্লি থেকে কলকাতায় ফেরার পর দমদম বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আনন্দ বোস বলেন, “এটা আমার সচেতন সিদ্ধান্ত। বিদায় নেওয়ার এটাই সঠিক সময়। একজন গেলে তবেই তো আরেকজন আসার সুযোগ তৈরি হয়।” তাঁর কথায় দার্শনিক সুর স্পষ্ট ছিল।


বাংলায় দায়িত্ব পালনের সময়কে স্মরণ করে তিনি বলেন, এই রাজ্যে কাটানো সময় তাঁর কাছে অত্যন্ত স্মরণীয় অভিজ্ঞতা। এখানকার মানুষের কাছ থেকে যে ভালোবাসা ও সমর্থন পেয়েছেন, তার জন্য কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন তিনি। একই সঙ্গে জানান, তিনি এখন চৌরঙ্গী বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটার হয়েছেন, যা তাঁর কাছে বিশেষ আনন্দের বিষয়।
তবে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে এখনই কোনও স্পষ্ট বার্তা দেননি বিদায়ী রাজ্যপাল। রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা নেবেন কি না, কিংবা অন্য কোনও ক্ষেত্রে কাজ করবেন কি না—সে বিষয়ে মুখ খুলতে চাননি তিনি। বরং রহস্য আরও বাড়িয়ে বলেন, “কারণ সঠিক সময়েই বলব।”
এদিন শিলিগুড়িতে রাষ্ট্রপতির অনুষ্ঠান ঘিরে রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাত প্রসঙ্গেও প্রশ্ন করা হয় তাঁকে। তবে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অনীহা প্রকাশ করেন আনন্দ বোস। তাঁর বক্তব্য, বিদায়ী রাজ্যপাল হিসেবে তিনি এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চান না। তবে রাষ্ট্রপতিকে তিনি অত্যন্ত সম্মানীয় ব্যক্তি বলেই উল্লেখ করেন।


গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আচমকাই রাজ্যপালের পদ থেকে সিভি আনন্দ বোসের ইস্তফার খবর সামনে আসে। তারপর থেকেই এই সিদ্ধান্তের নেপথ্য কারণ নিয়ে জল্পনা শুরু হয় রাজনৈতিক মহলে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে এই ইস্তফা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন এবং ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, সম্ভবত কোনও চাপের কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই শনিবার সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে আনন্দ বোস জানান, বাংলায় তাঁর ‘ইনিংস’ শেষ হতে চলেছে। তিনি লেখেন, বাংলার মানুষের স্নেহ ও শুভেচ্ছার জন্য তিনি কৃতজ্ঞ। একই সঙ্গে জানান, নিজের রাজ্য কেরলে ফিরে ‘বিকশিত ভারত’ গঠনের লক্ষ্যে কাজ করতে চান এবং সেই পথে জাতীয় নেতৃত্বের নির্দেশনা মেনে চলবেন।
রবিবার কলকাতায় ফিরে আবারও তিনি স্পষ্ট করেন, রাজ্যপালের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত তাঁর নিজেরই। তবে এই সিদ্ধান্তের আসল কারণ তিনি পরে জানাবেন বলেই ইঙ্গিত দিয়ে গেলেন, ফলে জল্পনা আপাতত থামার বদলে আরও জোরালো হওয়ার সম্ভাবনাই তৈরি হয়েছে।







