ভারত-পাক রাজনৈতিক উত্তাপ মাঠে প্রভাব ফেললেও প্রাক্তনদের সম্পর্ক এখনও মানবিক। জেলবন্দি Imran Khan-এর অসুস্থতার খবরে উদ্বেগ প্রকাশ করে পাকিস্তান সরকারের কাছে চিঠি লিখলেন Sunil Gavaskar, Kapil Dev-সহ বিশ্বের ১৪ জন প্রাক্তন ক্রিকেটার।
বর্তমান সময়ে ভারত-পাক ম্যাচে দুই দলের ক্রিকেটারদের মধ্যে দূরত্ব স্পষ্ট। মাঠে সৌজন্য বিনিময়ও কমে এসেছে। কিন্তু প্রাক্তনদের মধ্যে সেই তিক্ততা নেই। ইমরান খানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে পাকিস্তানের শাহবাজ শরিফ সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ক্রিকেট কিংবদন্তিরা।


এই তালিকায় গাওস্কর ও কপিল দেব ছাড়াও রয়েছেন গ্রেগ চ্যাপেল, মাইকেল আথারটন, অ্যালান বর্ডার, মাইক ব্রিয়ারলি, ইয়ান চ্যাপেল, বেলিন্ডা ক্লার্ক, ডেভিড গাওয়ার, কিম হিউজ, নাসের হুসেন, ক্লাইভ লয়েড, স্টিভ ওয়া এবং জন রাইট।
চিঠিতে তাঁরা লিখেছেন, পাকিস্তানের প্রাক্তন অধিনায়ক হিসেবে ইমরানের অবদান অসামান্য। ১৯৯২ সালে তাঁর নেতৃত্বেই বিশ্বকাপ জিতেছিল পাকিস্তান। অনেকেই তাঁর বিরুদ্ধে খেললেও তাঁর প্রতিভা ও প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতার প্রতি তাঁদের গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে।
২০২৩ সাল থেকে জেলে বন্দি রয়েছেন ইমরান খান। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগে মামলা চলছে। জেলবন্দি অবস্থায় তাঁর শারীরিক অবনতির খবর প্রকাশ্যে আসতেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রাক্তনরা। বিশেষ করে দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়ার খবর উল্লেখ করে তাঁরা মানবিক আচরণ ও উন্নত চিকিৎসার দাবি জানিয়েছেন।


চিঠিতে পাকিস্তান সরকারের কাছে অনুরোধ করা হয়েছে—ইমরানকে দ্রুত আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা দেওয়া হোক, পরিবারের সদস্যদের নিয়মিত সাক্ষাতের অনুমতি দেওয়া হোক এবং তাঁর শারীরিক অবস্থার বিষয়ে নিয়মিত আপডেট জানানো হোক।
এদিকে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গঠিত মেডিক্যাল বোর্ড সম্প্রতি রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলে গিয়ে ইমরানকে পরীক্ষা করে। রিপোর্ট অনুযায়ী, চশমা ব্যবহারের পর তাঁর দৃষ্টিশক্তির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। ডান চোখের রেটিনার ফোলাভাবও কমেছে বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, যা ইতিবাচক লক্ষণ হিসেবে ধরা হচ্ছে।
তবে ইমরানের ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের দাবি, তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিশেষায়িত হাসপাতালে স্থানান্তর করা প্রয়োজন। পরিবারের তরফেও অভিযোগ উঠেছে, আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও নিয়মিত সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না।
ক্রিকেটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও মানবিকতার প্রশ্নে একজোট হয়ে প্রাক্তনরা যে এখনও একে অপরের পাশে দাঁড়ান, এই চিঠি যেন তারই প্রমাণ।








