বিধানসভা নির্বাচনের আগে সাংগঠনিক প্রস্তুতি জোরদার করতে দু’দিনের রাজ্য কমিটির বৈঠক শেষ করল সিপিএম। ভোটের আগে এটিই ছিল শেষ রাজ্য কমিটির বৈঠক, যেখানে নির্বাচনী কৌশল থেকে শুরু করে জোট সমীকরণ—সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৈঠক শেষে সাংবাদিক বৈঠকে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম জানান, আসন সমঝোতার প্রায় ৯০ শতাংশ আলোচনা ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে।
শুক্রবারের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবীও। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সেলিম বলেন, আগামী ২৭ তারিখ পলিটব্যুরোর বৈঠকে বাকি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে। তাঁর কথায়, দলের মূল লক্ষ্য সিপিএমকে শক্তিশালী করা এবং সেই সঙ্গে বামফ্রন্টকে পুনরুজ্জীবিত করা। “বাংলাকে বাঁচাতে বামপন্থার পুনরুত্থান প্রয়োজন,” মন্তব্য সেলিমের।


তিনি আরও জানান, খেটে খাওয়া মানুষের সংগঠনগুলিকে একত্রিত করার উপর জোর দিচ্ছে বাম শিবির। দেশজুড়ে চলা শিল্প ধর্মঘট প্রসঙ্গেও সেলিম বলেন, লক্ষ লক্ষ শ্রমিক এতে অংশ নিয়েছেন, যা শ্রমজীবী মানুষের অসন্তোষের প্রতিফলন।
আগামী নির্বাচনে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট না হওয়ার ফলে বাম দলগুলি তুলনামূলকভাবে বেশি আসনে লড়াই করার সুযোগ পাবে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি। কোন কোন আসনে সিপিএম প্রার্থী দেবে, তা নিয়ে শরিক বাম দলগুলির সঙ্গে আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে বিজেপি ও তৃণমূলের বিকল্প রাজনৈতিক শক্তিগুলিকে একত্রিত করার চেষ্টা চলছে বলেও জানান সেলিম।
জোট প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, “যারা বিজেপি ও তৃণমূল—দুই পথের বাইরে, তাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। সব সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে কথা বলে বিকল্প সরকার গঠনের লক্ষ্যেই এগোচ্ছি।”


আসন সমঝোতা নিয়ে সেলিমের দাবি, প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ শেষ এবং খুব শিগগিরই বাকি ১০ শতাংশও চূড়ান্ত হবে। নির্বাচনে সমস্ত শক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বামফ্রন্ট।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কংগ্রেসকে বাদ দিয়ে নতুন সমীকরণ তৈরির চেষ্টা বামেদের নির্বাচনী কৌশলে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।







