এমন একটা সময়ে তাঁরা রাজনীতি করেছেন যখন সমাজের একটা সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশই রাজনীতি বিমুখ। বয়সের হেরফের থাকলেও দু’জনের উত্থানই প্রায় সমসাময়িক। টিভি চ্যানেলে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের পক্ষে উভয়েই সুবক্তা। সেটাই জনমানসে পরিচিতি লাভের প্রথম ধাপ। এবার কোথাও গিয়ে পর্দার বাইরে একেবারে নির্বাচনী ময়দানে মুখোমুখি দুই তরুণ তুর্কি সিপিআইএম-এর সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল কংগ্রেসের দেবাংশু ভট্টাচার্য।
আরও পড়ুন: তারুণ্যেই ভরসা, লোকসভায় বামফ্রন্টের ঘোষিত ১৬ আসনে নতুনদের জয়জয়কার!
এবারের লোকসভায় যেন আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হতে চলেছে পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুক। একেই তো প্রথম থেকেই চাউর হয়, সদ্য বিজেপিতে নাম লেখানো কলকাতা হাই কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় পদ্ম প্রতীকে প্রার্থী হবেন তমলুক থেকে। সেটা এখনও চূড়ান্ত না হলেও তার মাঝেই বাকী দুই দল দুর্দান্ত চমক দিল। প্রথমে তৃণমূল আর এবার বামফ্রন্ট। তমলুকে দেবাংশু ভট্টাচার্যকে টিকিট দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যদিকে, আলিমুদ্দিনের ভরসা সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলে, স্বাভাবিকভাবেই একটা কথা বলা যায়, ভোটের অঙ্কে আরও ‘ইন্টারেস্টিং’ হল তমলুক!

তমলুক রাজনৈতিক মহলে পরিচিত অধিকারী গড় হিসাবে। যদিও দেবাংশু ভট্টাচার্য প্রথমেই সেই তকমাকে উড়িয়ে বলেছেন, ‘সবটাই মানুষের গড়!’ তবুও, শুভেন্দু অধিকারী। বঙ্গ রাজনীতিতে এখন আরও বেশি স্পষ্ট। নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানো থেকে শুরু করে এ রাজ্যের গেরুয়া শক্তি কার্যত তাঁর হাতের তালুবন্দি। তমলুক, কাঁথি এসব অঞ্চলে শুভেন্দুদের পরিবারের ব্যাপক প্রভাব। কাঁথিতেই বিজেপি প্রার্থী হয়েছেন তাঁর ভাই সৌমেন্দু অধিকারী। অন্য ভাই দিবেন্দুও দিল্লি যাবার তোড়জোরে ব্যস্ত। এবার সরাসরি বিজেপিতে নাম লেখাবেন তিনি। আর তমলুক হল শুভেন্দু অধিকারীর নিজের প্রাক্তন কেন্দ্র ফলে, সাংগঠনিক ক্ষেত্রেও বিজেপি সেখানে একাবারেই হালকা নয়!

তমলুকে আদৌ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়কে প্রার্থী করবে কিনা বিজেপি তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে। এক, দাবিদার হিসাবে দিব্যেন্দু উঠে আসছেন। তিনি তমলুকে যত সহজে পারবেন, বাকি জায়গায় সেভাবে নাই পারতে পারেন। সেখানে গাঙ্গুলির একটা রাজ্যব্যাপী সুনাম রয়েছে। বরং, ডায়মন্ড হারবার থেকে প্রার্থী তিনি প্রার্থী হলে, তমলুকের যাবতীয় আকর্ষণ টেনে নেবে সেই কেন্দ্র। কারণ, আর বলার অপেক্ষা রাখে কি!
দ্বিতীয় যে কারণটা সেখানে অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে যেতে পারে সেটা হল, সায়ন এবং দেবাংশুর পারস্পরিক লড়াই। পার্টির সাপোর্ট পেলে এই দুই তরুণ খারাপ ভোট পাবেন না। কারণ, সমাজমাধ্যমের জোরে জনপ্রিয়তা রয়েছে দু’জনেরই। ফলে, ভোট ত্রিমুখী ভাবেই কাটাকাটি হবেই তমলুকে। আর কে জিতবেন তা-ও কিন্তু আগে থেকে বলা অনিশ্চিত হয়ে যাচ্ছে দিনের পর দিন। এখন, বিজেপি আদৌ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়কে তমলুকে টিকিট দেয় কিনা, সেটাই বড় প্রশ্ন।
পর্দার বাইরে: মুখোমুখি সায়ন-দেবাংশু, আরও ‘জমে’ গেল কেন্দ্র তমলুক!

যদি লড়াই অভিজিৎ বনাম সায়ন বনাম দেবাংশু হয়, তাহলে কিন্তু সমস্ত স্পটলাইট থাকবে তমলুকের দিকে। আর সায়ন দেবাংশুর লড়াইটাও বেশ চমৎকার হতেই পারে। নিজেদের ব্যক্তিত্ব দিয়েই দু’জনকে মানুষের মন কিনতে হবে। টিভি চ্যানেলে এতদিন দু’জনেই সুনাম কুড়িয়েছেন। এবার জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকারে নিজের প্রভাব রাখা। বিস্তর প্রভাব। তবে, ইনার্জির কোনও খামতি থাকার কথা নয়। দেবাংশু ইতিমধ্যেই প্রচারে বেরিয়েছেন। সায়নও খুব শীঘ্রই শুরু করবেন। ফলে, তমলুকে শেষ হাসি কে হাসে তা নিয়ে কিন্তু একটা চাপান-উতোর থেকেই যাবে রাজনৈতিক মহলে।



