করোনা রুখতে ৬ টি পরামর্শ অ্যাডভাইসরি বোর্ডের। শুনবেন মুখ্যমন্ত্রী?

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ করোনা রুখতে ৬ টি পরামর্শ অ্যাডভাইসরি বোর্ডের। শুনবেন মুখ্যমন্ত্রী? রাজ্যে নজিরবিহীন ভাবে বাড়ছে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ। এই পরিস্থিতিতে করোনা মোকাবিলায় রাজ্যকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিল নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গ্লোবাল অ্যাডভাইসরি বোর্ড। বোর্ডের বক্তব্য, রাজ্যে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে তাই সরকারি এবং বেসরকারি হাসপাতালগুলিকে প্রস্তুত থাকতে হবে এবং অগ্রাধিকার দিতে হবে সেই সব রোগীদের যারা যাঁদের কো-মর্বিডিটি রয়েছে। পাশাপাশি বোর্ড জানিয়েছে, উপসর্গহীন হলে বা কম উপসর্গ থাকলে হাসপাতালের বদলে রোগীদের কমিউনিটি কেয়ার সেন্টারে রাখতে হবে। করোনা রুখতে ৬ টি পরামর্শ অ্যাডভাইসরি বোর্ডের। সেগুলি হল…

আরও পড়ুনঃ কাশ্মীরে জঙ্গিদের নিশানায় বিজেপি নেতা, অপহরণ স্থানীয় বিজেপি নেতা

১) লকডাউনের পর করোনা ভাইরাস সংক্রমণের শিকার হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে গিয়েছে রাজ্যবাসীর। তাই বাধ্যতামুলক ভাবে মাস্ক পরা, শারীরিক এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, বদ্ধ জায়গায় ভিড় এড়িয়ে চলার মতো বিষয়গুলিকে পালন করা জরুরি। সরকার কে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, উচ্চ মানের মাস্ক কিনে যতটা সম্ভব সাধারন মানুষের মধ্যে বিলি করা। পাশাপাশি উচ্চ মানের মাস্ক পরলে কতটা বেশি সুবিধা হবে তা বোঝানোর জন্য সংবাদমাধ্যমে প্রচার চালানর কথা বলা হয়েছে বোর্ডের তরফে।

২) যেখান থেকে করোনা ভাইরাস ছড়াচ্ছে সেই ক্লাস্টারগুলিকে চিহ্নিত করা এবং ওই এলাকাগুলিকে কন্টেনমেন্ট জোন করা উচিত বলে মত দিয়েছে বোর্ড। পাশাপাশি সম্ভব হলে পরীক্ষা আরও বাড়ানো উচিত বলে জানানো হয়েছে।

৩) লকডাউনের জেরে রাজ্যের দরিদ্র মানুষরা চরম সঙ্কটে পড়েছেন। সরকার কে তাঁদের অর্থিক ভাবে সাহায্য করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গ্লোবাল অ্যাডভাইসরি বোর্ডের তরফে।

৪) বয়স্ক মানুষ বা যাঁদের কো-মর্বিডিটি  (ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, সিওপিডি, কিডনির সমস্যা, কম প্রতিরোধ ক্ষমতা, ক্যানসার) তাঁদের ক্ষেত্রে আলাদা সুরক্ষা বলয় তৈরি করার কথা বলা হয়েছে। ওই সব ব্যক্তি, তাঁদের পরিবারের সদস্য এবং তাঁদের ঘনিষ্ঠরা যেন মাস্ক পরেন, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখেন, ভিড় স্থানে, বিশেষ করে বদ্ধ জায়গায় যেন এড়িয়ে চলেন এই বিষয়ে নিশ্চিত করতে হবে। যদি এঁদের মধ্যে কেউ সামান্য অসুস্থও হয়ে পড়েন তাহলেও চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। এই সমস্ত ব্যাক্তিদের হাসপাতালে ভর্তির ক্ষেত্রে যেন অগ্রাধিকার দেওয়া হয় এই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।পাশাপাশি হাসপাতালে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন, বিভিন্ন ওষুধ মজুত রাখতে হবে।

৫) যাঁদের ঝুঁকি কম, উপসর্গহীন অথবা কম উপসর্গ রয়েছে তাঁদের হাসপাতালে নয় এই ধরনের রোগীদের হোম আইসোলেশনে রাখতে হবে। যদি বাড়িতে জায়গা না থাকে তা হলে কমিউনিটি কেয়ার সেন্টার তাঁদের উপযুক্ত।বোর্ড বলেছে, “আমাদের জানানো হয়েছে, এ জন্য সরকার সেফ হোম তৈরি করেছে। নিশ্চিত হতে হবে, সেখানে যেন যথেষ্ট শয্যা থাকে এবং উপযুক্ত রক্ষণাবেক্ষণেরও ব্যবস্থা থাকে। কমিউনিটি কেয়ার সেন্টারের মান বজায় রাখতে গোষ্ঠীগুলিরও উচিত এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে আদর্শগত ভাবে জুড়ে যাওয়া।”

৬) সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, করোনাকে ঘিরে একটি বিরাট আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। যে সব পরিবারে সংক্রমণ ধরা পড়েছে তাঁদের এক ঘরে করে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এটা দুর্ভাগ্যজনক। এতে বাংলার যে ঐতিহ্য নিয়ে আমরা গর্ব করি কালিমা লিপ্ত হচ্ছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

Advertisementspot_img

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর