নজরবন্দি ব্যুরোঃ উপসর্গ আছে তবু ১২ দিনের আগে সুযোগ নেই পরীক্ষার, কোথাও আবার রিপোর্ট পেতে ঢের দেরী। করোনার মারণ সংক্রমণে কাবু গোটা দেশ। আক্রান্ত এমও মৃত্যুর নিরিখে প্রতি মুহূর্তে নতুন রেকর্ড গড়ছে দেশ। অক্সিজেনের মারাত্মক অভাবে গোটা দেশ কার্যত চলমান শ্মশানে পরিনত হয়েছে। এমন অবস্থায় রাজ্যেও বেড়েই চলেছে আক্রান্তের সংখ্যা।
আরও পড়ুনঃ বিদায় বোবদে, দেশের নয়া প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথগ্রহন এন ভি রামানার।


সেই সঙ্গে রাজ্যে দেখা দিয়েছে অক্সিজেনের অভাব। অন্যদিকে আরও বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছে মানুষ। জ্বর সর্দি সহ বেশ কিছু উপসর্গ থাকলেও কোথাও পরীক্ষা করাতে কেটে যাচ্ছে দুই সপ্তাহ। কোথাও বা রিপোর্ট পেতে তথৈবচ অবস্থা। মুর্শিদাবাদ জেলার সদর শহর বহরমপুরের জেলা মেডিক্যাল কলেজ এবং পুরাতন হাসপাতাল সংলগ্ন মাতৃসদনে প্রতিদিন কয়েকশো মানুষ উপসর্গ থাকায় পরীক্ষা করাতে এলেও ডেট পাচ্ছেন ১২ দিন পর। কারন টেস্ট কিটের অভাব। এর ফলে হাতে রিপোর্ট ছাড়াই করোনা পসিটিভ হয়ে থাকছেন বহু ব্যক্তি। অতএব এই উপসর্গ নিয়েই বাড়িতে থাকছেন মানুষ।
যদি তিনি করোনা সংক্রমিত হয়ে থাকেন, তাহলে তার মারফত ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে পরিবারের বাকিদের মধ্যেও। এমন চরম অব্যবস্থা নিয়ে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সুপার অমিয় বেরা জানান “সবার তো টেস্ট করার দরকার নেই, যাদের প্রয়োজন তাদের টেস্টের কথা বলছেন ডাক্তার, অযথা ভয় পাবেন না”। অন্যদিকে জেলাশহরের মতই খাস কলকাতায় ধরা পড়ল প্রায় এক ছবি। সেখানে টেস্ট হলেও রিপোর্ট পাওয়া যথেষ্ট সময়সাপেক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বৈষ্ণবঘাটার বছর পঁয়ত্রিশের এক মহিলা। ১৭ এপ্রিল পরীক্ষা করান কলকাতা পুরসভার ১০ নম্বর বরোর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে। তারপর থেকে এক সপ্তাহ হতে চললেও, এখনও রিপোর্ট পাননি। সতকর্তাবশত আপাতত হোম আইসোলেশনে রয়েছেন ইনি।
উপসর্গ আছে তবু ১২ দিনের আগে সুযোগ নেই পরীক্ষার, কোথাও আবার রিপোর্ট পেতে ঢের দেরী। তাঁর বাড়ির লোক জানালেন, ” আমরা গেলাম পরীক্ষা করাতে গত সপ্তাহে, আশ্চর্যের বিষয় ডাক্তার বলছেন কবে আসবেন জানি না, বলেন এসএসকেএমে পাঠিয়েছি”। টেস্ট কিটের আকাল থেকে রিপোর্ট পেতে বিলম্ব একের পর এক সমস্যায় দেশের সাথে রাজ্যের করোনা যুদ্ধ আরও কঠিন হয়ে উঠছে।









