অগস্ট মাসের শুরুতেই রান্নার গ্যাসের দাম কমানোর ঘোষণা করল অয়েল মার্কেটিং সংস্থাগুলি। মূলত বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের উপরই এই মূল্যছাড় প্রযোজ্য হয়েছে। ১৯ কেজির এক একটি সিলিন্ডারের দাম কমেছে ৩৩ টাকা ৫০ পয়সা। আজ, ১ অগস্ট, ২০২৫ থেকেই নতুন এই দাম কার্যকর হয়েছে।
রান্নার গ্যাসের দাম সাধারণত প্রতি মাসের প্রথম দিন আন্তর্জাতিক বাজারের হার দেখে সমন্বয় করা হয়। জুলাই মাসে মূল্যছাড় দেওয়ার পর, অগস্টেও সেই ধারা বজায় থাকল। এর ফলে চলতি মাসে ১৯ কেজির এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহারকারীরা কিছুটা হলেও সাশ্রয়ের মুখ দেখবেন।


কোথায় কত দাম কমল রান্নার গ্যাসের
কলকাতায় ১৯ কেজির রান্নার গ্যাসের দাম নতুন করে দাঁড়াল ১৭৩৬ টাকা, যা আগের মাসে ছিল ১৭৬৯ টাকা। দিল্লিতে এই সিলিন্ডারের দাম এখন ১৬৩১.৫০ টাকা। দেশের অন্যান্য মেট্রো শহরেও অনুরূপ হারে দাম কমেছে বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডারের।
তবে গৃহস্থের ব্যবহৃত ১৪.২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দামে কোনওরকম পরিবর্তন হয়নি। ফলে সাধারণ পরিবারগুলি এখনও সেই পুরনো দামেই রান্নার গ্যাস কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।
বারবার কমছে বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম
এই নিয়ে টানা কয়েক মাস ধরে বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের দাম কমানো হচ্ছে। জুলাই মাসে ৫৮.৫০ টাকা কমানো হয়েছিল। তার আগের মাস জুনে ২৪ টাকা, এপ্রিল মাসে ৪১ টাকা এবং ফেব্রুয়ারিতে ৭ টাকা কমেছিল এই ১৯ কেজির সিলিন্ডারের দাম। এসব মূল্যছাড় মূলত রেস্তোরাঁ, হোটেল, কেটারিং সার্ভিস এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের উপকারে আসছে।


এলপিজি ব্যবসায় যুক্ত অনেকেই বলছেন, বাজারে চাহিদা কিছুটা কম থাকায় এবং আন্তর্জাতিক পেট্রোলিয়াম পণ্যের দামে সাময়িক স্থিতাবস্থা থাকায় এই দাম হ্রাস সম্ভব হয়েছে। তাছাড়া, সরকারও উৎসবের আগে কিছুটা স্বস্তি দিতে চায়, এমনটাই মত অনেকের।
১৪.২ কেজির সিলিন্ডার অপরিবর্তিত কেন?
যদিও ১৪.২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে, যা নিয়ে কিছুটা ক্ষোভ তৈরি হয়েছে মধ্যবিত্ত গৃহস্থ পরিবারগুলোর মধ্যে। তাঁদের প্রশ্ন, যখন আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমছে, তখন সেই সুবিধা কেন তারা পাচ্ছেন না? যদিও কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে এ বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, বাণিজ্যিক গ্যাসের ওপর থাকা কর এবং সাবসিডির পরিমাণ গৃহস্থালী গ্যাসের তুলনায় ভিন্ন। এই ব্যবধানই মূল কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে মূল্যছাড় না দেওয়ার।
বিশেষজ্ঞদের মত কী বলছে
বিশ্লেষকরা বলছেন, রান্নার গ্যাসের দাম কমানোর এই ধারা আরও কিছুদিন বজায় থাকতে পারে। তবে আগামী মাসগুলিতে আন্তর্জাতিক বাজারে পেট্রোলিয়াম পণ্যের দামের গতিবিধির উপর নির্ভর করবে পরবর্তী সিদ্ধান্ত। বিশেষ করে বিশ্ব রাজনীতির প্রেক্ষাপটে যদি জ্বালানি তেলের দাম বাড়ে, তবে ফের গ্যাসের দাম বাড়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
উৎসবের আগে আশার আলো
এই মুহূর্তে পুজোর মরসুম এগিয়ে আসছে। তার আগে ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা কিছুটা আশার আলো দেখতে পাচ্ছেন বাণিজ্যিক রান্নার গ্যাসের দাম কমার খবরে। ফলে রেস্তোরাঁ বা কেটারিং ব্যবসার খরচ কিছুটা হলেও কমবে, যা শেষপর্যন্ত ক্রেতার কাছেও ছাড় পৌঁছনোর সম্ভাবনা তৈরি করে। রান্নার গ্যাসের দাম সাধারণ মানুষের জীবনে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। তাই প্রতি মাসে এর ওঠা-নামা চোখে রাখেন দেশজুড়ে অসংখ্য মানুষ। অগস্টের এই মূল্যছাড় অনেকের মুখে সাময়িক হলেও হাসি ফোটাতে পেরেছে, বিশেষ করে যারা বাণিজ্যিক গ্যাস নির্ভর।







