নজরবন্দি ব্যুরোঃ লোকসভার লক্ষ্যে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রার্থী দিচ্ছেনা কংগ্রেস। ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে মমতার নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরে তৃণমূলের হয়ে ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। বিপুল ভোটে জয়ও পান তিনি। রাজ্যেও ফের ক্ষমতায় ফিরে আসে তৃণমূল কংগ্রেস। অন্যদিকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবারে দাঁড়িয়েছিলেন নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে নিজের একদা শিষ্য শুভেন্দুর বিরুদ্ধে। মারকাটারি লড়াইয়ের পর সামান্য ভোটের ব্যবধানে হেরে যান তিনি।
আরও পড়ুনঃ সব পুজো কমিটিকে ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার ঘোষণা, ‘স্বল্প’ দান নবান্নের।
এদিকে সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী ভোটে হেরে মন্ত্রীপদে বসলে ৬ মাসের মধ্যে নির্বাচনে জিততে হয়। সেইমতো ঠিক হয় উপনির্বাচনে মমতা লড়বেন নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরেই। এদিকে ঘোষণা হয়েছে উপ নির্বাচনের নির্ঘন্ট। ৩০ সেপ্টেম্বর ভোট ভবানীপুরে, ৬ তারিখ মনোনয়নের শেষ দিন। কিন্তু মমতা বন্দোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে প্রার্থী হবেন কারা? প্রধান বিরোধী দল বিজেপি এখনও নাম ঘোষণা করেনি। বাকি রইল সংযুক্ত মোর্চা। জোটস্বার্থে ‘২১ নির্বাচনে কংগ্রেসকে ভবানীপুর আসন ছেড়েছিল সিপিআইএম। এই কেন্দ্রেও জামানত বাজেয়াপ্ত হয় জোট প্রার্থীর।
তৃণমূলের শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় ৭৩ হাজার ৫০৫ টি ভোট পান, দ্বিতীয় হন বিজেপির রুদ্রনীল ঘোষ। তিনি পান ৪৪ হাজার ৭৮৬ ভোট। সংযুক্ত মোর্চার কংগ্রেস প্রার্থী সহদেব খান পান ৫ হাজার ২১১ ভোট। কংগ্রেস সিদ্ধান্ত নিয়েছে উপনির্বাচনে প্রার্থী দেবেনা তাঁরা। সূত্রের খবর, মমতার ভোট কাটতে চাইছে না কংগ্রেস। বরং যতটা সম্ভব তাঁর মার্জিন বৃদ্ধি করাই টার্গেট। লক্ষ্য লোকসভা, তাই সম্ভবত বাম আর আইএসএফের সাথে জোট ত্যাগ করবে কংগ্রেস। লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের সাথে একসাথে নির্বাচন লড়বে তারা।
লোকসভার লক্ষ্যে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রার্থী দিচ্ছেনা কংগ্রেস। উল্লেখ্য, কদিন আগেই কেন্দ্রীয় কংগ্রেস নেতা বিরাপ্পা মইলি বলেছিলেন, ”মমতা তো আমাদেরই লোক। তৃণমূল তৈরির আগে কংগ্রেসেই ছিলেন। বাংলায় যেহেতু মমতাই বিজেপির (BJP) বিরুদ্ধে লড়ছিলেন, তাই আমাদের উচিত ছিল তৃণমূলের সঙ্গেই জোট করা। বাম এবং আইএসএফের সঙ্গে জোট করার থেকে তৃণমূলের সঙ্গী হলে দলের জন্য ভাল হত।” তাই গতকাল প্রদেশ কংগ্রেস মমতার বিরুদ্ধে প্রার্থী দেওয়ার অনুমতি চাইলেও তা দেয়নি হাইকমান্ড।
লোকসভার লক্ষ্যে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রার্থী দিচ্ছেনা কংগ্রেস

এদিকে কংগ্রেস না লড়লে এই আসনে সিপিআইএম একক ভাবে প্রার্থী দেবে বলে জানা গিয়েছে। মমতার বিরুদ্ধে মীনাক্ষী মুখার্জী লড়তে পারেন এই আসনে। হাইপ্রোফাইল নন্দীগ্রামে প্রার্থী করা হয়েছিল তাঁকে। বাজেয়াপ্ত হয় জামানত। কিন্তু সেই লড়াইয়ে প্রচারের লাইমলাইটে চলে আসেন বাম যুব নেত্রী। সূত্রের খবর আলিমুদ্দিনের অন্দরমহলে দাবি উঠেছে মমতার বিরুদ্ধে মীনাক্ষীকে প্রার্থী করা নিয়ে। অধিকাংশের দাবি প্রার্থী হোন মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। সূত্রের দাবি মীনাক্ষীর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত প্রায় চূড়ান্ত।



