CEC জ্ঞানেশকে ইমপিচমেন্টে সরাতে উদ্যোগী কংগ্রেস, ভোটচুরি ইস্যুতে বিস্ফোরণ

একাধিক রাজ্যে ভোটচুরি বিতর্কের পর নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলল বিরোধীরা। জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়া শুরু করতে চাইছে কংগ্রেস।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

দেশজুড়ে ভোটচুরির অভিযোগ ঘিরে যখন রাজনৈতিক বিতর্ক চরমে, তখনই নতুন মোড় নিল কেন্দ্রীয় রাজনীতি। নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধীদের ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে এবার নড়েচড়ে বসেছে কংগ্রেস। তারা সরাসরি CEC জ্ঞানেশকে ইমপিচমেন্ট-এর প্রক্রিয়ায় সরানোর উদ্যোগ নিয়েছে। বিরোধীদের দাবি, জ্ঞানেশ কুমার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা প্রশ্নের মুখে পড়ে গেছে।

কংগ্রেসের অভিযোগ, ভোটের বাজারে আর কোনওভাবেই ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ পাওয়া যাচ্ছে না। বিশেষ করে বিহার নির্বাচনে প্রচণ্ড পরাজয়ের পর বিরোধী শিবিরের দাবি আরও জোরালো হয়েছে—ভোটপ্রক্রিয়ায় বড়সড় গলদ আছে এবং নির্বাচন কমিশন তার ভূমিকা যথাযথভাবে পালন করছে না।

ইন্ডিয়া জোটে আলোচনা শুরু, লক্ষ্য—শীতকালীন অধিবেশনে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব:
সূত্রের খবর, কংগ্রেস ইতিমধ্যেই বিরোধী জোট ইন্ডিয়া ব্লক‌–এর মিত্রদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে। লক্ষ্য—সংসদের আসন্ন শীতকালীন অধিবেশনে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনা।

CEC জ্ঞানেশকে ইমপিচমেন্টে সরাতে উদ্যোগী কংগ্রেস, ভোটচুরি ইস্যুতে বিস্ফোরণ

তবে সব দলের মধ্যে এখনও সম্পূর্ণ ঐকমত্য হয়নি। কিন্তু কংগ্রেস মনে করছে, রাজনৈতিক বিরোধিতা এবং নির্বাচন কমিশনের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব একটি শক্তিশালী বার্তা দিতে পারে। এমনকি প্রস্তাব পাশ হোক বা না হোক, সংসদে এই ইস্যুতে তীব্র বিতর্ক যে তৈরি হবে, তা বিরোধী শিবির নিশ্চিত।

CEC জ্ঞানেশকে ইমপিচমেন্টে সরাতে উদ্যোগী কংগ্রেস, ভোটচুরি ইস্যুতে বিস্ফোরণ
CEC জ্ঞানেশকে ইমপিচমেন্টে সরাতে উদ্যোগী কংগ্রেস, ভোটচুরি ইস্যুতে বিস্ফোরণ

আগস্ট মাসে বাদল অধিবেশনে এই বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল। কিন্তু সেই সময় ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব সামনে আনা হয়নি। তবে বিহারের ফলাফল বিরোধীদের ভিতরে সন্দেহ গভীর করেছে এবং তাদের মতে, এবার আর পিছিয়ে আসার সুযোগ নেই।

সংবিধানে স্পষ্ট—CEC-কে সরাতে প্রয়োজন সুপ্রিম কোর্ট বিচারপতির মতো প্রক্রিয়া:
সংবিধানের ৩২৪(৫) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে ইমপিচমেন্ট ছাড়া সরানো যায় না। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি অপসারণের মতো একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। অর্থাৎ— সংসদের দুই কক্ষেই দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা দরকার।

এই সংখ্যাগরিষ্ঠতা বিরোধীদের নেই। কিন্তু রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার জন্য বিরোধীরা এই পথেই হাঁটতে চায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রস্তাব পাশ না হলেও বিরোধীরা যে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে আস্থাহীন, সেই বার্তা দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়বে।

ভোটচুরির অভিযোগে জনমানসেও প্রশ্ন, বিরোধীদের দাবি—নির্বাচনী ব্যবস্থা বিপন্ন:
একের পর এক রাজ্যে ভোটচুরি, EVM ত্রুটি, প্রশাসনিক পক্ষপাত ও বুথ-সংক্রান্ত অনিয়ম নিয়ে বিরোধীরা প্রকাশ্যে সরব। বিরোধী দলগুলি বলছে, ভোটপ্রক্রিয়া স্বচ্ছ না হলে গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আর তাই CEC-র ভূমিকা প্রশ্নের মুখে এলে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ওপরই আঘাত লাগে।

কংগ্রেসের মতে, জ্ঞানেশ কুমার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তাদের সঙ্গে কমিশনের সম্পর্ক আরও দূরত্বপূর্ণ হয়েছে। বিরোধী শিবির দাবি করছে—কমিশন সরকারের সুবিধামতো সিদ্ধান্ত নিচ্ছে এবং বিরোধী দলগুলিকে বারবার অসুবিধায় ফেলা হচ্ছে।

এখন দেখার, বিরোধী দলগুলি জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট বিষয়ে একমত হতে পারে কিনা। কিন্তু একথা নিশ্চিত—শীতকালীন অধিবেশনে ভোটচুরি ও নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা নিয়ে উত্তাল হতে চলেছে লোকসভা ও রাজ্যসভা।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর