জেলে গুরুতর অসুস্থ ইমরান, পরিবারকে না জানিয়েই হাসপাতালে নেওয়ার পরিকল্পনা? উদ্বেগ বাড়ছে পাকিস্তানে

জেলে অসুস্থ ইমরান খানকে পরিবারকে না জানিয়ে হাসপাতালে নেওয়ার অভিযোগ পিটিআইয়ের। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে চোখ পরীক্ষার জন্য গঠন হচ্ছে মেডিক্যাল বোর্ড।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। জেলে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি নিয়ে ইতিমধ্যেই নানা জল্পনা চলছিল। এবার অভিযোগ উঠেছে, পরিবারকে না জানিয়েই তাঁকে গোপনে হাসপাতালে ভর্তি করার পরিকল্পনা করছে প্রশাসন। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের রাজনৈতিক অঙ্গনেও উত্তাপ বাড়ছে।

ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। দলের অভিযোগ, এটি মৌলিক অধিকার ও আইনি বিধানের গুরুতর লঙ্ঘন এবং ইমরানের জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলে দেওয়া হচ্ছে।

Shamim Ahamed Ads

দুর্নীতির একাধিক মামলায় ২০২৩ সালে ইমরান খানকে গ্রেপ্তার করে শাহবাজ শরিফের সরকার। বর্তমানে ৭৩ বছর বয়সি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বন্দি রয়েছেন আদিয়ালা জেলে। অভিযোগ, কারাগারে তাঁর স্বাস্থ্যের অবনতি হলেও দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। দাবি করা হয়েছে, চিকিৎসার অভাবে তাঁর ডান চোখের প্রায় ৮৫ শতাংশ দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হয়েছে।

গত জানুয়ারির শেষ দিকে চোখের সমস্যার কারণে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে একটি ছোট অস্ত্রোপচারও করা হয়। তবে সে সময়ও পরিবারের সদস্যদের আগাম কিছু জানানো হয়নি বলে অভিযোগ।

এই পরিস্থিতিতে পিটিআইয়ের তরফে বিবৃতি জারি করে বলা হয়েছে, পরিবারকে না জানিয়ে গোপনে হাসপাতালে ভর্তি করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। দলের দাবি, অবিলম্বে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে এবং পরিবারের সম্মতি ছাড়া কোনও পদক্ষেপ নেওয়া উচিত নয়।

ইমরানের স্বাস্থ্য পরিস্থিতিকে গুরুত্ব দিয়ে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টও নির্দেশ দিয়েছে তাঁর চোখ পরীক্ষা করার জন্য একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করতে।

এদিকে, ইমরান ইস্যুতে দেশের রাজনৈতিক উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। গত শুক্রবার তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করার দাবিতে পার্লামেন্টের বাইরে বিক্ষোভ দেখায় বিরোধী শিবির। বহু নেতা ধর্নায় বসে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, হাসপাতালে ভর্তি না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

সরকারের দাবি, ইমরানের চিকিৎসার সমস্ত ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তবে তাঁর দল ও পরিবারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে—পরিবারকে না জানিয়ে কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হলে তা মেনে নেওয়া হবে না।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত