বিহারের রাজনীতিতে ফের বড়সড় চমক। নীতীশ কুমার চিরাগ পাশওয়ানের উপমুখ্যমন্ত্রী হওয়া হলনা বলে স্পষ্ট বার্তা দিলেন না ঠিকই, কিন্তু NDA-র নেতারা শেষমেশ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে দিলেন—এবারও চিরাগ ডেপুটি মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন না। NDA-র সিলমোহর না পাওয়ায় কার্যত থেমে গেল LJP(R) প্রধানের বহু প্রতীক্ষিত দাবি। এই সিদ্ধান্ত ঘিরে বিহারের রাজনৈতিক মহলে তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে।
এদিকে NDA নেতা নির্বাচিত হতেই মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে দিয়েছেন নীতীশ কুমার। মঙ্গলবার দুপুরে রাজ্যপাল আরিফ মহম্মদ খানের কাছে গিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি। এর পরেই ভেঙে দেওয়া হয় সপ্তদশ বিধানসভা এবং শুরু হয় নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া। বৃহস্পতিবার দশমবারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন তিনি। কিন্তু তার আগেই পরিষ্কার হয়ে গেল—চিরাগ পাশওয়ানের উপমুখ্যমন্ত্রী হওয়া হলনা।


NDA শিবিরের সিদ্ধান্তে সমর্থন দিয়েছে বিজেপি বিধায়ক দল। BJP-র তরফে বার্তা দেওয়া হয়েছে, জোটের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ ও আসন-হিসেব অনুযায়ী উপমুখ্যমন্ত্রী পদে পরিবর্তনের কোনও সুযোগ নেই। ফলে বহু আলোচনার পরেও চিরাগ পাশওয়ানের উপমুখ্যমন্ত্রী হওয়া হলনা, যা LJP(R)-এর জন্য বড় রাজনৈতিক ধাক্কা বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বিহারের ডেপুটি CM হতে পারলেন না চিরাগ পাসওয়ান, শেষমেশ সিলমোহর দিল না NDA
আগের সরকারের দুই মুখ, সম্রাট চৌধুরী ও বিজয় সিনহাকে ফের উপমুখ্যমন্ত্রী করা হচ্ছে। সম্রাট চৌধুরী ইতিমধ্যেই বিহার BJP-এর সংসদীয় দলনেতা নির্বাচিত হয়েছেন। বিজয় সিনহা নির্বাচিত হয়েছেন উপমুখ্যমন্ত্রী পদে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই জানিয়ে দিয়েছেন, বৃহস্পতিবার নীতীশ কুমারের সঙ্গে এই দুই নেতা শপথ নিতে চলেছেন। অর্থাৎ কেন্দ্রীয় নেতৃত্বও একই বার্তা দিয়েছে—চিরাগ পাশওয়ানের উপমুখ্যমন্ত্রী হওয়া হলনা।

মন্ত্রিসভার আকার নিয়েও NDA নির্দিষ্ট ফর্মুলা ধরেছে। সিদ্ধান্ত হয়েছে, প্রতি ছয়জন বিধায়ক পিছু একজন করে ক্যাবিনেট মন্ত্রী। সেই অনুযায়ী বিজেপির ১৫ জন, জেডিইউ-র ১৩-১৪ জন, এবং চিরাগ পাশওয়ানের LJP(R) থেকেও ৩ জন মন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। হাম ও RLN থেকে একজন করে মন্ত্রী নেওয়া হবে বলেও সূত্র জানাচ্ছে।


কিন্তু কোন নেতা কোন মন্ত্রক পাবেন তা নিয়ে দলের মধ্যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। এই বিতর্কের মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে যায়—নতুন মন্ত্রিসভায় উপমুখ্যমন্ত্রী পদে বদল হচ্ছে না। ফলে পুনরায় প্রমাণিত হল, NDA শিবিরে আপাত ঐক্য থাকলেও, জোটের ভিতরে ক্ষমতার ভারসাম্য আগের মতোই BJP–JDU–LJP(R)-এর ক্ষমতার অনুপাতেই নির্ধারিত হচ্ছে। আর তাই, চিরাগ পাশওয়ানের উপমুখ্যমন্ত্রী হওয়া হলনা—এটাই বাস্তব।
সূত্র বলছে, বৃহস্পতিবার নীতীশ কুমারের সঙ্গে অন্তত ১৮ জন মন্ত্রী শপথ নেবেন। শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, রাজনাথ সিং, জেপি নাড্ডা-সহ এনডিএ শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও উপমুখ্যমন্ত্রীরা। ৩৫ থেকে ৫০ হাজার সমর্থকও হাজির থাকতে পারেন। রাজনৈতিক মহলের দাবি, LJP(R)-এর নেতারা এত বড় অনুষ্ঠানে নিজেদের গুরুত্ব তুলে ধরতেই চেয়েছিলেন। কিন্তু কঠিন বাস্তব—চিরাগ পাশওয়ানের উপমুখ্যমন্ত্রী হওয়া হলনা, এবং তার ফলে শপথমঞ্চে তাঁর ভূমিকা মূলত জোটসঙ্গীর স্তরেই সীমাবদ্ধ থাকছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চিরাগ পাশওয়ান যদিও কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে ক্রমশ প্রভাব বাড়াচ্ছেন, তবে বিহারের স্থায়ী ক্ষমতার সমীকরণ এখনও BJP–JDU-র প্রাধান্যেই ঘোরে। তাই আগামীদিনে LJP(R)-কে উপমুখ্যমন্ত্রী পদে দাবি আদায়ের জন্য আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে হবে।
নতুন সরকারের শপথের আগে এই সিদ্ধান্ত বিহারের ক্ষমতার অংকে নতুন বার্তা দিয়েছে। ভবিষ্যতে এই দ্বন্দ্ব NDA-র স্থায়িত্বে কী প্রভাব ফেলবে—সেদিকেই নজর এখন রাজনৈতিক মহলের।








