চীনের জিয়াংশু প্রদেশে ঘটে গেল এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায় কেমনভাবে মুহূর্তের মধ্যে আগুন গ্রাস করল প্রাচীন ওয়েনচ্যাং প্যাভিলিয়নকে। ঘন ধোঁয়ায় আকাশ ঢেকে যায়, আর তিনতলা কাঠের এই ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা কয়েক মিনিটে ধসে পড়ে। তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য—এক পর্যটকের অসাবধানী মোমবাতি ও আগরবাতি ব্যবহারই এই ভয়াবহ আগুনের সূত্রপাত।
১২ নভেম্বরের সেই দুপুরে পাহাড়ি এলাকার নিস্তব্ধতা ভঙ্গ করে হঠাৎ ছড়িয়ে পড়ে আগুন। Fenghuang Mountain-এর উপর দাঁড়িয়ে থাকা দৃষ্টিনন্দন প্যাভিলিয়নটি সেই মুহূর্তেই আগুনের বলয়ে আটকে যায়। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায় কাঠের ছাদের অংশ মুহূর্তের মধ্যে ভেঙে পড়ছে, আর আগুন পুরোনো কাঠের গায়ে লাফিয়ে লাফিয়ে ছড়িয়ে পড়ছে। অনেকেই এই ভিডিওকে চীনের সাম্প্রতিক বছরগুলোর সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক স্থানীয় আগুন বলে উল্লেখ করেছেন।


তদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে জানানো হয়েছে, এক পর্যটক মন্দির এলাকায় আগরবাতি ও মোমবাতি ব্যবহার করতে গিয়ে তা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেননি। অসাবধানতাবশত জ্বলন্ত মোমবাতি কাঠের কাঠামোর সঙ্গে স্পর্শ করতেই দ্রুত আগুন লেগে যায়। কাঠের নির্মাণ হওয়ায় আগুন ছড়াতে সময় লাগেনি। যদিও আগুন ভয়াবহ আকার ধারণ করলেও, কোনও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। দ্রুত হাজির হওয়া দমকলবাহিনী আগুনকে ছড়িয়ে পড়তে দেয়নি এবং আশেপাশের বনাঞ্চলও বাঁচিয়ে ফেলেছে।
চীনের জিয়াংশু প্রদেশে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, পুড়ে ছাই ১০০০ বছরের প্রাচীন ওয়েনচ্যাং প্যাভিলিয়ন
যদিও ১,০০০ বছরের ঐতিহ্যের কথা আলোচিত হচ্ছে, বাস্তবে এই স্থাপনার বর্তমান কাঠামোটি নির্মিত হয় ২০০৮ সালে এবং ২০০৯ সালে জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়। তবে ওয়েনচ্যাং প্যাভিলিয়নের ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে, কারণ এর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা ইয়ংকিং মন্দিরের ইতিহাস প্রায় ১,৫০০ বছরের। Liang Dynasty-র সময় থেকেই এই স্থাপনা ছিল, পরে তা ধ্বংস হয় এবং ১৯৯০-এর দশকে পুনর্নির্মাণ করা হয়।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওয়েনচ্যাং প্যাভিলিয়নে আগুন লাগার মূল কারণ নিশ্চিত হওয়ার পর অভিযুক্ত পর্যটকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে আশপাশের সব ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক স্থানে নিরাপত্তা বিধি আরও কঠোর করা হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পর্যটকদের অসাবধানতা চীনের প্রাচীন স্থাপত্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাম্প্রতিক সময়েই আগুন লাগার একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে, যার বেশিরভাগই মানুষের অসচেতনতার ফল।


আগুনের ক্ষয়ক্ষতি পরিমাপ করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ওয়েনচ্যাং প্যাভিলিয়ন তার ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যশৈলী বজায় রেখে পুনর্নির্মাণ করা হবে। পুরোনো নকশার ওপর ভিত্তি করে আগামী বছর থেকেই পুনরুদ্ধার কাজ শুরু হতে পারে।
এই ওয়েনচ্যাং শুধু একটি প্যাভিলিয়নের ধ্বংস নয়, এটি ঐতিহ্য রক্ষা ও পর্যটকের দায়িত্বজ্ঞানহীনতার মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুকে সামনে এনেছে। ইতিহাসবিদদের মতে, চীনের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অমূল্য সম্পদ এমন আগুনে নষ্ট হওয়া বিশ্ব ঐতিহ্য সংরক্ষণে বড় ধাক্কা।








