চিনের বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরানের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও ভূখণ্ডগত অখণ্ডতাকে সম্মান করা উচিত। অবিলম্বে উত্তেজনা কমিয়ে আলোচনার টেবিলে ফেরার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে। বেজিংয়ের দাবি, একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী এবং ক্ষমতার রাজনীতির উদাহরণ।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump এবং ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu-র নীতির তীব্র সমালোচনা করে চিনা সরকারি সংবাদমাধ্যম বলেছে, এই হামলা রাষ্ট্রপুঞ্জ সনদের চেতনাকে লঙ্ঘন করেছে। রাষ্ট্রপুঞ্জের নিয়ম মেনে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার দায়িত্বের কথা মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে।
নাগরিকদের সরানোর নির্দেশ
সংঘাত তীব্র হওয়ায় ইজ়রায়েল ও ইরানে অবস্থানরত চিনা নাগরিকদের অবিলম্বে সরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বেজিং। ইজ়রায়েলে থাকা নাগরিকদের টাবা সীমান্ত হয়ে মিশরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইরানে বিমান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় সড়কপথে আজ়ারবাইজান, আর্মেনিয়া, তুরস্ক ও ইরাকের রুট ব্যবহার করতে বলা হয়েছে।
আঞ্চলিক সংঘাতের বিস্তার
শনিবার সকাল থেকে শুরু হওয়া যৌথ হামলায় খামেনেই নিহত হয়েছেন বলে তেহরানের দাবি। ইরান জানিয়েছে, ভোরে নিজের দফতরে থাকা অবস্থায় হামলায় মৃত্যু হয়েছে তাঁর এবং পরিবারের কয়েক জন সদস্যের। পাল্টা হিসেবে ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার দাবি করেছে। কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ও সৌদি আরবেও বিস্ফোরণের খবর মিলেছে। নিরাপত্তার কারণে দুবাইয়ের বুর্জ খলিফা খালি করে দেওয়া হয়।
পশ্চিম এশিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বিমান পরিষেবা ব্যাহত, ইরান তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতেও সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন Donald Trump। তাঁর বক্তব্য, ইরানে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রয়োজনে আরও এক সপ্তাহ বোমাবর্ষণ চলবে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চিনের এই অবস্থান শুধু ইরান ইস্যু নয়, বরং বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতারও ইঙ্গিত বহন করছে। আন্তর্জাতিক আইনের প্রশ্নে বেজিংয়ের এই কড়া ভাষা ভবিষ্যতে বিশ্বরাজনীতির সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।