নজরবন্দি ব্যুরো: মৃত্যুকালে স্বপ্নদীপ কুণ্ডুর বয়স হয়েছিল, ১৭ বছর ৯ মাস ৯ দিন। অর্থাৎ, সে প্রাপ্তবয়স্ক ছিল না। সেই কারণেই স্বপ্নদীপের মৃত্যুকে পকসো আইনের আওতায় আনার দাবি জানালেন শিশু সুরক্ষা কমিশনের চেয়ারপার্সন অনন্যা চক্রবর্তী। রবিবার তিনি নদীয়ায় স্বপ্নদীপের বাড়িতে গিয়ে তাঁর বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করলেন। একই সঙ্গে অপ্রাপ্তবয়স্ক স্বপ্নদীপের নাম আর উল্লেখ না করার জন্য অনুরোধও করেছেন অনন্যা।
আরও পড়ুন: স্বপ্নদীপ কুন্ডুর মৃত্যু রহস্যের কিনারা হবে শীঘ্রই, ‘ভরসা’ দিলেন বিনীত গোয়েল
স্বপ্নদীপ কুণ্ডুর মৃত্যুর তদন্তে নেমে ইতিমধ্যেই তিন জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। যাদের মধ্যে একজন প্রাক্তনী সৌরভ চৌধুরী এবং অন্য দু’জন বর্তমান ছাত্র, মনোতোষ ঘোষ ও দীপশেখর দত্ত। সৌরভকে ১০ দিনের পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশও দিয়েছে আলিপুর আদালত। বুধবার রাতে স্বপ্নদীপের উলঙ্গ দেহ পাওয়া যায় হস্টেলের নীচে। অভিযোগ, র্যাগিংয়ের শিকার স্বপ্নদীপ। মাত্র তিন দিন আগেই সে যাদবপুর হস্টেলে আসে। এরপর থেকেই তাঁর ওপর মানসিক ও শারীরিকভাবে অত্যাচার করে সিনিয়ররা। এমনকি স্বপ্নদীপকে যৌন সক্ষমতার পরীক্ষা দেবার পাশাপাশি সে যে সমকামী নয় তার প্রমাণ দিতে বলা হয়। এরপর স্বপ্নদীপ ভয়ে হস্টেলের বারান্দা থেকে ঝাঁপ দেয় বা ঝাঁপ দিতে বাধ্য করা হয় নাকি তাঁকে ঠেলে ফেলে দেওয়া হয়, এই সব কিছুই তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।

শিশু সুরক্ষা কমিশনের চেয়ারপার্সন অনন্যা চক্রবর্তী বলেছেন, “ছেলেটিকে উলঙ্গ অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল। ওর দেহে সিগারেটের ছ্যাঁকা ছিল। ও নিজেও ফোন করে ভাইকে জানিয়েছিল, ওকে সমকামী বলা হচ্ছে। তাই এটি যৌন নির্যাতনের পর্যায়ে পড়ে। ছেলেটির ১৮ বছর হয়নি। তাই পকসো আইনের অধীনে এই ঘটনার বিচার প্রয়োজন। যাদবপুর কি ভিনগ্রহে অবস্থিত? দেশের আর পাঁচটা বিশ্ববিদ্যালয়ে যে নিয়ম আছে, এখানে তা মানা হবে না কেন? কেন ক্যাম্পাসে, হস্টেলে সিসি ক্যামেরা থাকবে না?”

তিনি আরও বলেছেন, “আমরা যখন সিসিটিভি বসাতে বলেছিলাম, ওখানকার এক অধ্যাপক ফুটপাতে ক্লাস নিতে শুরু করেন। ওখানে সিনিয়র এবং প্রাক্তনীদের দাদাগিরি চলে। কেউ তাঁদের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস পান না। এর আগে প্রাক্তন উপাচার্য সুরঞ্জন দাসও চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু অধ্যাপক এবং পড়ুয়ারা এর বিরোধিতা করেছিলেন। তাই আজকের ঘটনায় কেউ দায় এড়াতে পারেন না। সিসিটিভি থাকলে আমরা জানতে পারতাম হস্টেলে কী হয়েছিল। সকলের হাতেই রক্তের দাগ লেগে আছে। সকলেই আমাদের আতশকাচের নীচে। আমরা পৃথক ভাবে ঘটনার তদন্ত করছি”।
যাদবপুর কি ‘ভিনগ্রহ’? ‘পকসো’ আইনে মামলার দাবি শিশু সুরক্ষা কমিশনের




