১ লক্ষ টাকার ডিল, বদলানো নম্বর প্লেট! চন্দ্রনাথ খুনে মায়াঙ্ক মিশ্রকে জেরা করে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেল সিবিআই

চন্দ্রনাথ রথ খুনে সিবিআইয়ের জেরায় বিস্ফোরক তথ্য দিল মায়াঙ্ক মিশ্র। ১ লক্ষ টাকার বিনিময়ে খুনে ব্যবহৃত গাড়ি বারাসাতে পৌঁছে দেওয়ার দাবি।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

চন্দ্রনাথ রথ খুনকাণ্ডে তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। সিবিআইয়ের জেরায় ধৃত মায়াঙ্ক মিশ্র এমন সব তথ্য দিয়েছে, যা গোটা খুনের ছককে আরও স্পষ্ট করছে তদন্তকারীদের কাছে। তদন্তে উঠে এসেছে, খুনে ব্যবহৃত গাড়ি বারাসাতে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল মায়াঙ্ককে। আর সেই কাজের জন্য তাকে দেওয়া হয়েছিল ১ লক্ষ টাকার বরাত। শুধু তাই নয়, গোটা পরিকল্পনা ছিল অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় সাজানো— বদলে ফেলা হয়েছিল গাড়ির নম্বর প্লেটও।

সিবিআই সূত্রে খবর, খুনে ব্যবহৃত নিসান মাইক্রা গাড়িটি নিজেই চালিয়ে ঝাড়খণ্ড থেকে বারাসাত পর্যন্ত নিয়ে এসেছিলেন মায়াঙ্ক মিশ্র। তদন্তকারীদের দাবি, নিবেদিতা টোল প্লাজার কয়েক কিলোমিটার আগে গাড়ি থামিয়ে বদলে ফেলা হয় আসল নম্বর প্লেট। সেখানে লাগানো হয়েছিল শিলিগুড়ি RTO-তে রেজিস্ট্রেশন হওয়া অন্য একটি গাড়ির নম্বর। এরপর টোল প্লাজার কাছাকাছি পৌঁছে আসল নম্বর প্লেট ফেলে দেওয়া হয় বলে জেরায় জানিয়েছে মায়াঙ্ক।

সিবিআই আরও জানতে পেরেছে, মায়াঙ্ককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বারাসাত ১১ নম্বর রেলগেটের কাছে গাড়ি রেখে চলে যেতে। তদন্তকারীদের দাবি, সেই মতো গাড়ি রেখে তিনি বাসে করে এয়ারপোর্ট এলাকায় যান। সেখানে একটি ফাস্ট ফুডের দোকানে খাওয়ার পর ক্যাব ধরে পৌঁছন হাওড়া স্টেশনে। তারপর ট্রেনে চেপে ফিরে যান বক্সারে।

তদন্তে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে। সিবিআই সূত্রের দাবি, শুধু নিসান মাইক্রা নয়, আরও একটি গাড়িতে তিনজনকে নিয়ে ঝাড়খণ্ড থেকে বাংলায় আসা হয়েছিল। এই তিন ব্যক্তি কারা, তা নিয়েই এখন জোর তদন্ত চলছে। ধৃত ভিকি ও রাজ সিং কি সেই গাড়িতে ছিল, নাকি আরও কেউ এই খুনের ছকে জড়িত— সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে তদন্তকারী সংস্থা।

মায়াঙ্কের জেরায় উঠে এসেছে ঝাড়খণ্ডের এক ব্যক্তির নামও। অভিযোগ, সেই ব্যক্তিই ১ লক্ষ টাকার বিনিময়ে মায়াঙ্ককে গাড়ি পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব দিয়েছিল। এখন সিবিআই খতিয়ে দেখছে, ওই ব্যক্তিই কি গোটা খুনের সুপারি দিয়েছিল? তাকে খুঁজতে একাধিক জায়গায় তল্লাশি শুরু হয়েছে বলে খবর।

বৃহস্পতিবার মায়াঙ্ককে নিয়ে ঘটনাস্থল ও আশপাশের একাধিক জায়গা ঘুরে দেখেন সিবিআই আধিকারিকরা। টোল প্লাজা, বারাসাত ১১ নম্বর গেট, এয়ারপোর্ট এলাকা— সব জায়গার গতিবিধি খতিয়ে দেখা হয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, গোটা খুনের পরিকল্পনা অন্তত এক মাস ধরে নিখুঁতভাবে সাজানো হয়েছিল।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন