মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহে চাপ বাড়লেও দেশের সাধারণ মানুষের রান্নাঘরে গ্যাসের ঘাটতি হবে না—এমনই আশ্বাস দিল কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক জানিয়ে দিয়েছে, প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহে কোনও ধরনের ঘাটতি তৈরি হলেও ঘরোয়া রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
ইরান–ইজ়রায়েল এবং আমেরিকার সংঘাতের জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সেই প্রেক্ষিতে ইতিমধ্যেই দেশে বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে তেল সংস্থাগুলি। অর্থাৎ হোটেল, রেস্তরাঁ বা শিল্পক্ষেত্রে ব্যবহৃত বাণিজ্যিক গ্যাস আপাতত সীমিত করা হচ্ছে। পাশাপাশি এলপিজি রিফিল বুকিংয়ের ব্যবধানও বাড়িয়ে ২১ দিনের বদলে ২৫ দিন করা হয়েছে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক একটি নতুন বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানায়, প্রাকৃতিক গ্যাসের বরাদ্দে এখন থেকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে এলপিজি উৎপাদনকে। অর্থাৎ, গৃহস্থালির রান্নার গ্যাস যাতে স্বাভাবিকভাবে পৌঁছতে পারে, তার জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সরবরাহে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
এর আগে কমপ্রেসড ন্যাচারাল গ্যাস (সিএনজি) এবং পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহ করা রান্নার গ্যাস উৎপাদনকারী সংস্থাগুলিই দেশীয় প্রাকৃতিক গ্যাসের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পেত। কিন্তু নতুন গেজেট বিজ্ঞপ্তিতে এলপিজি উৎপাদনকেও সেই অগ্রাধিকার তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে।
নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, এলপিজি, সিএনজি এবং পাইপড ন্যাচারাল গ্যাস—এই তিনটি ক্ষেত্রের চাহিদা পূরণই হবে প্রথম লক্ষ্য। সরকার চেষ্টা করবে, এই ক্ষেত্রগুলিতে গত ছয় মাসের গড় ব্যবহারের সমপরিমাণ গ্যাস সরবরাহ বজায় রাখতে।
দ্বিতীয় অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে সার শিল্পকে। তাদের ক্ষেত্রে গত ছয় মাসের গড় চাহিদার অন্তত ৭০ শতাংশ গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।
এর পরের স্তরে রয়েছে চা শিল্প, উৎপাদন ক্ষেত্র এবং অন্যান্য শিল্প ব্যবহারকারী। তাদের ক্ষেত্রে গড় ব্যবহারের প্রায় ৮০ শতাংশ সরবরাহ বজায় রাখার কথা বলা হয়েছে, যদিও তা সম্পূর্ণ নির্ভর করবে বাস্তব সরবরাহ পরিস্থিতির উপর।
সিটি গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন সংস্থাগুলিও এই তালিকার পরবর্তী স্তরে রয়েছে। যারা শিল্প ও বাণিজ্যিক গ্রাহকদের গ্যাস সরবরাহ করে, তাদের ক্ষেত্রেও গড় ব্যবহারের প্রায় ৮০ শতাংশ সরবরাহ বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভারতে বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ১৯১ মিলিয়ন স্ট্যান্ডার্ড কিউবিক মিটার প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহৃত হয়, যার প্রায় অর্ধেকই আসে দেশীয় উৎপাদন থেকে। নতুন ব্যবস্থায় এই দেশীয় গ্যাসের একটি বড় অংশ অগ্রাধিকার খাতে সরিয়ে দেওয়া হবে। ফলে পেট্রোকেমিক্যাল শিল্প, বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র এবং কিছু উচ্চমূল্যের গ্যাস ব্যবহারকারী শিল্পক্ষেত্রে সরবরাহ কিছুটা কমতে পারে।
পাশাপাশি পাইপলাইন পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় কমপ্রেসর জ্বালানি এবং অন্যান্য অপারেশনাল ব্যবস্থাকেও অগ্রাধিকার তালিকায় রাখা হয়েছে। সার কারখানাগুলিকে দেওয়া গ্যাস শুধুমাত্র সার উৎপাদনের কাজেই ব্যবহার করতে হবে এবং বরাদ্দ অন্যত্র স্থানান্তর করা যাবে না বলেও স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।
সরবরাহের ভারসাম্য বজায় রাখতে তেল শোধনাগারগুলির গ্যাস ব্যবহারও কমিয়ে গত ছয় মাসের গড়ের প্রায় ৬৫ শতাংশে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই নতুন অগ্রাধিকার ভিত্তিক গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থার বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত গ্যাস সংস্থা গেইলকে।



