দীর্ঘ ১৬ বছর পর ফের শুরু হতে চলেছে ভারতের আদমসুমারি। আগামী ২০২৭ সালের ১ মার্চ থেকে দেশজুড়ে শুরু হবে জনগণনার কাজ। তবে চারটি তুষারাবৃত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এক বছর আগেই অর্থাৎ ২০২৬ সালের অক্টোবর মাসে শুরু হবে এই প্রক্রিয়া।
প্রধানত লাদাখ, জম্মু ও কাশ্মীর, হিমাচল প্রদেশ এবং উত্তরাখণ্ড—এই চার অঞ্চলে শীতকালে প্রবল তুষারপাতের কারণে ২০২৭ সালের গণনা সম্ভব নয় বলে আগেভাগে সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র।


কেন এত দেরিতে শুরু হচ্ছে জনগণনা?
ভারতের সংবিধান অনুযায়ী, প্রতি ১০ বছর অন্তর একবার জনগণনা (Census) হওয়ার কথা। শেষবার এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১১ সালে। ২০২১ সালে পরবর্তী গণনা হওয়ার কথা থাকলেও করোনা মহামারী ও রাজনৈতিক কারণে তা সম্ভব হয়নি।
বিশেষ করে ২০১৯ সালের সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (CAA) পাশ হওয়ার পর সারা দেশে যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছিল, সেই সময়ও সরকার গণনার প্রক্রিয়া শুরু করেনি বলে সমালোচনা হয়েছিল।
মোদী জমানার প্রথম আদমসুমারি


এই আদমসুমারি হবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর অধীনে প্রথম জাতীয় জনগণনা। সরকারি সূত্র অনুযায়ী, এটি দু’টি ধাপে সম্পন্ন হবে। শুধু সাধারণ গণনাই নয়, এইবারের একটি বড় দিক হলো—জাতভিত্তিক (Caste-based) তথ্য সংগ্রহ।
সূত্র জানাচ্ছে, প্রশ্নোত্তর ভিত্তিক এই তথ্য সংগ্রহে জাত ও জনগোষ্ঠী সম্পর্কিত বহু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে আসবে, যা ২০২৮ সালে প্রকাশ করা হতে পারে।
জনগণনা কমিশনার ও প্রস্তুতি
বর্তমানে জনগণনা কমিশনার পদে রয়েছেন মৃত্যুঞ্জয়কুমার নারায়ণ। তাঁর কার্যকালের মেয়াদ সম্প্রতি বাড়িয়ে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত করা হয়েছে।
কেন্দ্রের তরফে এখনও গণনার পদ্ধতি, ফর্ম্যাট, ডিজিটাল বা ম্যানুয়াল প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে আশা করা হচ্ছে, আগত বছরগুলিতে ধাপে ধাপে জানানো হবে আদমসুমারির পূর্ণ রূপরেখা।








