মঙ্গলবারই কলকাতা হাই কোর্ট আরজি কর-কাণ্ডের তদন্তভার সিবিআই-এর হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেই অনুযায়ী, দিল্লি থেকে ২৫ জন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল কলকাতায় এসেছেন। বুধবার সকাল থেকেই শুরু হল তদন্ত। ধৃত সঞ্জয় রায়কে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে সিবিআই। এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে অভিযুক্তের শরীরের নমুনা সংগ্রহ করেছেন গোয়েন্দারা। আজই সঞ্জয়কে জেরা করবেন গোয়েন্দারা।
শুক্রবার আরজি করের সেমিনার হল থেকে এক তরুণী চিকিৎসকের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়। ময়নাতদন্তের পরেই জানা যায়, ওই চিকিৎসক তরুণীকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে। প্রথম থেকে এই মামলার তদন্ত করছিল পুলিশ। আগামী রবিবারের মধ্যে তদন্তপ্রক্রিয়া শেষ করার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু আদালত পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। তথ্যপ্রমাণ লোপাট সন্দেহে রবিবারের আগেই আরজি কর-কাণ্ডের তদন্তভার কেন্দ্রীয় এজেন্সির হাতে তুলে দেবার সিদ্ধান্ত নেয় হাই কোর্ট।
ধর্ষণ-খুন কাণ্ডের তদন্তভার হাতে পেয়েই অ্যাকশনে সিবিআই। বুধবার সকাল থেকেই পুরোমাত্রায় কাজ শুরু করে দিয়েছেন গোয়েন্দারা। সিবিআই-এর এই দলে রয়েছেমেডিক্যাল বিশেষজ্ঞ এবং ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞেরা। আজ আরজি করের সেমিনার হলেও যাবেন তাঁরা নমুনা সংগ্রহের জন্য। অভিযুক্ত সঞ্জয়কে আদালতে তুলবে আর একটি দল। ধৃতের মোবাইল ফোন আতশকাচের নীচে রেখে তদন্ত শহুরু করতে চায় সিবিআই।
অন্যদিকে, এই তদন্তের যা যা তথ্যপ্রমাণ পুলিশের কাছে ছিল সেই সবকিছু গোয়েন্দাদের হাতে তুলে দেবার নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট। আর সমস্ত তথ্যপ্রমাণাদি সিবিআই-এর হাতে তুলেও দিয়েছে পুলিশ। ঘটনাস্থলে প্রাপ্ত সঞ্জয়ের ব্লুটুথ হেডফোনের ছেঁড়াতার, সিসিটিভি ফুটেজ, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এখন গোয়েন্দাদের কাছে। এবার আজ সঞ্জয়কে জেরা করে কী নতুন তথ্য খুঁজে পায় সিবিআই, অন্য কোনও ব্যক্তির নাম উঠে আসে কিনা সেদিকেই নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।



