আরজি কর-কাণ্ডের তদন্তে অল আউট অ্যাকশনে সিবিআই। শুক্রবার হাসপাতালের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে রাত পর্যন্ত জেরা করেন গোয়েন্দারা। আজ, শনিবারও তাঁকে জেরা করবে সিবিআই। এদিকে, সূত্রের খবর, আরজি করের ৩০ জন ইন্টার্ন ও চিকিৎসকের তালিকা প্রস্তুত করেছেন গোয়েন্দারা। ধাপে ধাপে তাঁদের প্রত্যেককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
গত শুক্রবার আরজি কর হাসপাতালের চারতলার সেমিনার হল থেকে এক তরুণী চিকিৎসকের মৃতদেহ উদ্ধার হয়। ময়নাতদন্তের পর জানা যায়, ওই চিকিৎসককে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে। এই ঘটনায় প্রথম থেকে তদন্তে নেমেছিল কলকাতা পুলিশ। তাঁদের হাতে গ্রেফতার হয় সঞ্জয় রায় নামে এক সিভিক ভলান্টিয়ার। যদিও পরবর্তী ক্ষেত্রে কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে এই মামলার তদন্তভার আসে সিবিআই-এর হাতে।
প্রথম থেকেই যে প্রশ্নটা উঠেছিল, এত বড় ‘কুকীর্তি’ একা সঞ্জয়ের পক্ষে ঘটানো কি সম্ভব? তদন্তের দায়িত্ব নিয়েই নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন গোয়েন্দারা। সূত্রের খবর, মৃত চিকিৎসকের বাবা-মা সিবিআই-কে বেশ কয়েকজনের নাম জানিয়েছেন। এই তালিকায় রয়েছেন ইন্টার্ন থেকে শুরু করে চিকিৎসকেরাও। যদিও প্রোটোকল অনুযায়ী তাঁদের কারুর নাম এখনও পর্যন্ত সিবিআই ফাঁস করেনি।
দিন দু’য়েক আগেই একটি অডিও ক্লিপ (সত্যতা যাচাই করেনি নজরবন্দি) সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়। সেই অডিও ক্লিপে সোমা মুখার্জি নামে এক চিকিৎসক পরিষ্কার দাবি করেন, এই নিহত চিকিৎসককে পরিকল্পনামাফিক খুন করা হয়েছে এবং এর নেপথ্যে নাকি জড়িত রয়েছেন প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ। একইসঙ্গে, তিনি দাবি করেন বেশ কয়েকজন ইন্টার্ন পড়ুয়া এবং চিকিৎসকদের একটি দল এই ঘটনায় যুক্ত রয়েছেন। সঞ্জয়কে দিয়ে কেবলমাত্র ধর্ষণ করানো হয়!
কিন্তু কেন ‘টার্গেট’ হলেন ওই মৃত চিকিৎসক? সেই বিষয়ে সোমা মুখার্জি বলেছেন, আরজি করে ড্রাগ পাচার চক্র থেকে শুরু করে রাত্রিবেলা চিকিৎসকদের জন্য যৌনকর্মী ভাড়া করে আনা হত। আর এই সমস্তকিছু মৃত চিকিৎসক জানতে পেরে যান। সেই কারণেই নাকি তাঁকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করেন আরজি করেরই কয়েকজন চিকিৎসক!



