নজরবন্দি ব্যুরোঃ গাঁজা ব্যাবহার করে অনেকেই মাদক কান্ডে জেলে যান, সে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বলি-টলির তারকারাও। তবে এবারের ঘটনাটা একটু অন্যরকমের, গাঁজার নির্যাস দিয়ে মিল্কশেক, কেক ও চকলেট বানিয়ে বিক্রি করার অভিযোগে জুবায়ের হোসেন (২৪) নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।
আরও পড়ুনঃ বিসিসিআই সভাপতি পদ থেকে ইস্তফা! রাজনীতিতে প্রবেশ করছেন সৌরভ? ট্যুইট ঘিরে জল্পনা
গাঁজার নির্যাস থেকে বানানো মাদক তৈরি করে অনলাইনে বিক্রি করতেন তিনটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থী। জীবনে অনেক কেকের নাম শুনলেও ‘গাঁজার কেক’-এর নাম কখনো শোনেননি হয়তো। গাঁজার কেক দেখতে একেবারে ব্রাউনি কেকের মতোই। খেতেও প্রায় এক। খালি চোখে দেখে বোঝার উপায় নেই, এটার সঙ্গে আসলে কী মেশানো আছে। সোমবার (৩০ মে) দুপুরে গুলশান থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন এ তথ্য জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. আসাদুজ্জামান।
তিনি বলেন, ইউটিউবে কানাডা ও আফ্রিকার মাদক ব্যবসায়ীদের করা ভিডিও দেখে রাজধানীর উত্তরায় দুই সহযোগীকে নিয়ে এসব মাদকদ্রব্য তৈরি করতেন জুবায়ের। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে ক্রেতাদের কাছ থেকে অর্ডার নিয়ে এসব মাদকদ্রব্য হোম ডেলিভারি দিতেন তিনি।
এমনই একটি হোম ডেলিভারি দিতে গিয়ে রোববার (২৯ মে) গুলশান থানা পুলিশের কাছে আটক হন জুবায়ের।পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার উত্তরার বাসা থেকে আরও দুই সহযোগী অনুভব খান রিবু (২৩) ও নাফিসা নাজাকে (২২) আটক করে পুলিশ।
এ সময় তার বাসা থেকে গাঁজার নির্যাস দিয়ে তৈরি ৫টি চকলেটের বার, ২টি মিল্কশেকের বোতল, ৫০টি চকলেট, ২টি চ্যাপ্টা চকলেটের বার, ৪টি স্টিকার রোল, ৪টি অ্যাঙ্কর জেলটিন, ৭টি ফ্লেবার জুস, ১০৭টি প্লাস্টিকের গ্লাস, ১ কেজি গাঁজা, ১টি এইচপি ব্যান্ডের ল্যাপটপ, দুইটি আইফোন জব্দ করা হয়।
এবার গাঁজার তৈরি কেক-চকলেট হবে হোম ডেলিভারি, অবাক হচ্ছেন?

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জুবায়ের জানান, পাঁচ কেজি গাঁজার নির্যাস দিয়ে ১ কেজি ওজনের গাঁজার চকলেট তৈরি হত। একই প্রক্রিয়ায় তিনি গাঁজার কেক ও মিল্কশেক তৈরি করতেন। এরপর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এসব মাদকদ্রব্য হোম ডেলিভারি দিতেন তিনি।



