শিক্ষক নিয়োগে ৮ হাজার ১৬৩ টি কারচুপি, পর্ষদ সভাপতিকে তলব হাইকোর্টে।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিকে কেন্দ্র করে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। হাইকোর্টের নির্দেশে একাধিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্ত করছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআই। এছাড়াও গ্রুপ ডি, গ্রুপ সি, নবম-দশম, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির নিয়োগে কারচুপির অভিযোগ রয়েছে। মঙ্গলবার নিয়োগ দুর্নীতি সংক্রান্ত এক মামলায় হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় সিবিআই-এর কাছে জানতে চান, এসএসসি-তে ভুয়ো নিয়োগের সংখ্যা কত?

আরও পড়ুনঃ রাষ্ট্রপতিকে নিয়ে আপত্তিজনক মন্তব্য, অখিল গিরিকে নোটিশ পাঠালো হাইকোর্ট

বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রশ্নের উত্তরে সিবিআই দাবি করে, এসএসসি-র নিয়োগে ৮ হাজার ১৬৩ টি কারচুপি রয়েছে। সিবিআই এর কাছে এই উত্তর পেয়ে অভিজিৎ বাবু জানতে চান, এই কারচুপির মধ্যে ভুয়ো নিয়োগ পেয়েছেন কতজন? যদিও সেই তথ্য এদিন হাইকোর্টের কাছে জানাতে পারেনি কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা।

শিক্ষক নিয়োগে ৮ হাজার ১৬৩ টি কারচুপি, পর্ষদ সভাপতিকে তলব হাইকোর্টে।
শিক্ষক নিয়োগে ৮ হাজার ১৬৩ টি কারচুপি, পর্ষদ সভাপতিকে তলব হাইকোর্টে।

এদিকে আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও ২৮ অক্টোবরের মধ্যে কেন প্রিয়াঙ্কা সাউ নিয়োগ পাননি, তা জানতে চেয়ে মঙ্গলবারই কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় ডেকে পাঠান মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতি রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায়কে। আদালতের নির্দেশ না মেনে কেন বোর্ড নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে বেশি সময় নিল, তা জানতে চায় হাইকোর্ট মঙ্গলবার বেলা ৩টের মধ্যে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ সভাপতি রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায়কে হাজির হতে বলা হয়েছে হাইকোর্টে।

SSC Salt Lake Office 1

বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের পর্যবেক্ষণ, ‘বহু শিক্ষাকর্তারই জেলে থাকা উচিত। বহু আধিকারিক ছাত্রদের স্বার্থ বিরোধী কাজ করছেন।’ এদিন প্রিয়াঙ্কা সাউয়ের আইনজীবী আদালতে এসেছিলেন জানাতে, তাঁর মক্কেল নিয়োগ পেয়ে গিয়েছেন। ১৪ নভেম্বর চাকরি পান প্রিয়াঙ্কা। সেই সময়ই বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় জানতে চান, কেন নিয়োগে এত দেরি হল? এরপরই তিনি এই বিলম্বের কারণ জানতে মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতিকে ডেকে পাঠান। এদিনই তাঁকে আসতে হবে আদালতে বলে নির্দেশও দেন।

শিক্ষক নিয়োগে ৮ হাজার ১৬৩ টি কারচুপি, পর্ষদ সভাপতিকে তলব হাইকোর্টে।

Calcutta highcourt 4

এদিন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন,  ‘বহু শিক্ষাকর্তারই জেলে থাকা উচিত। বহু আধিকারিক ছাত্রদের স্বার্থ বিরোধী কাজ করছেন।’ ২০১৭ সালের মেধাতালিকায় নাম ছিল প্রিয়াঙ্কার। একাদশ-দ্বাদশের ওয়েটিং লিস্টে ছিলেন তিনি। কিন্তু তিনি চাকরি পাননি, বদলে তাঁর থেকে কম নম্বর প্রাপ্তরা চাকরি পেয়ে যান।

মামলা হয় কলকাতা হাইকোর্টে। আদালত যাবতীয় নথি তথ্য দেখে প্রিয়াঙ্কার নিয়োগের নির্দেশ দেয়। কলকাতাতেই তিনটি স্কুলের মধ্যে যে কোনও একটি স্কুল যেন তিনি বেছে নিতে পারেন, সে কথাও বলা হয়। আদালতের নির্দেশ পেয়ে খুশি প্রিয়াঙ্কা বলেন, ভারতীয় বিচারব্যবস্থার জন্যেই চাকরি পেলেন তিনি।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন