নজরবন্দি ব্যুরো: লাগাতার যৌন নির্যাতনের জেরে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে ১২ বছরের নাবালিকা। গর্ভপাতের আবেদন নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় নির্যাতিতার মা। কিন্তু আর্জি ফিরিয়ে দিল আদালত। গত মার্চ মাসেই উত্তরবঙ্গের একটি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন নাবালিকার মা।
সূত্রে খবর, নাবালিকার মায়ের অভিযোগ তাঁর মেয়ের উপর যৌন নির্যাতন চালানো হয়েছে এবং এর জেরে সে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছিল। নাবালিকা বর্তমানে ২৮ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা, বর্তমানে রাজ্যের এক সরকারি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। শারীরিক পরীক্ষার জন্য একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, মেডিক্যাল বোর্ডের রিপোর্ট বলছে নির্যাতিতার গর্ভে জোড়া ভ্রূণ রয়েছে। এদিকে যেহেতু গর্ভপাতের নির্দেশ নেই সেক্ষেত্রে তাকে প্রসব-পূর্বের যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে যেতে হবে। এরপরই গর্ভপাতের আবেদন নিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন নির্যাতিতার মা।

যৌন নির্যাতনের জেরে অন্তঃসত্ত্বা ১২ বছরের নাবালিকা, গর্ভপাতের আবেদনে সাড়া দিল না আদালত

আবেদনের ভিত্তিতে আদালত একদিনের মধ্যেই নাবালিকার শরীরের পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষা করে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়। নাবালিকার গর্ভপাত করানো সম্ভব কি না তাও জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল মেডিক্যাল বোর্ডকে। আদালতের নির্দেশ মেনেই রিপোর্ট জমা দেয় মেডিক্যাল বোর্ড। উল্লেখ করা হয়, নাবালিকার শারীরিক কোনও জটিলতা নেই। গর্ভপাত আইন ২০২১ অনুযায়ী তাঁর গর্ভপাত করানো যাবে না কিন্তু আদালতের নির্দেশ থাকলে গর্ভপাত করা যেতে পারে। এছাড়া, রিপোর্টে বলা হয়েছিল ১২ বছর বয়সে গর্ভপাত করালে ব্যাপক রক্তক্ষরণ এবং সংক্রমণের ঝুঁকি থাকতে পারে। যার ফলে গর্ভবতী মায়ের প্রাণনাশের আশঙ্কা থাকতে পারে।

সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে ১২ বছরের নাবালিকার গর্ভপাতে আপত্তি জানায় কলকাতা হাইকোর্ট। আদালতের পর্যবেক্ষণ এই সময়ে গর্ভপাতের অনুমতি দিলে মায়ের মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। উল্লেখ্য, ৩৫ সপ্তাহ পরও গর্ভপাতের অনুমোদন দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট, এমন দৃষ্টান্ত রয়েছে।



