আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে ফের বাড়ল বুথ লেভেল অফিসারদের (বিএলও) কাজের বোঝা। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে এ বার বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার স্লিপ বিলি করতে হবে বিএলও-দেরই—এমনটাই জানাচ্ছে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর। দীর্ঘদিন ধরে যে কাজ বহু এলাকায় রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা করে আসছিলেন, তা ফের প্রশাসনের হাতে ফিরিয়ে এনে স্বচ্ছ ও পক্ষপাতহীন নির্বাচন প্রক্রিয়া নিশ্চিত করাই এই সিদ্ধান্তের লক্ষ্য।
রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল-এর দফতর সূত্রে খবর, গত ১৫–২০ বছর ধরে অনেক বিএলও ভোটার স্লিপ বিলির কাজ করেননি। কিন্তু নির্বাচনী প্রক্রিয়াবিধি অনুযায়ী ভোটার স্লিপ বিতরণ তাঁদেরই দায়িত্ব। ফলে এ বার সেই নিয়ম কার্যকর করা হচ্ছে। কমিশনের বক্তব্য, ভোটার স্লিপ বিতরণে রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ দূর করতেই এই পদক্ষেপ।


তবে বাস্তবে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে নতুন করে অসন্তোষের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। গত নভেম্বর থেকেই ‘মাত্রাতিরিক্ত কাজের চাপ’-এর প্রতিবাদে রাজ্যের সিইও দফতরে একাধিক দফায় বিক্ষোভ দেখিয়েছেন বিএলও-দের একাংশ। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) পর্বে বুথভিত্তিক কাজের সঙ্গে যুক্ত এই আধিকারিকদের উপর এ বার ভোটার স্লিপ বিলির দায়িত্ব পড়ায় চাপ আরও বাড়বে বলেই মনে করছেন অনেকে।
বিহারের পর বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ-সহ ১২টি রাজ্যে (৩টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল-সহ) এসআইআর-এর কাজ চলছে। দেশজুড়ে এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত ৫ লক্ষ ৩২ হাজারেরও বেশি বিএলও। কমিশনের দাবি, পশ্চিমবঙ্গে বিএলও-দের উপর বাড়তি কাজের চাপ নেই। গড় হিসেবে প্রতিটি বিএলও-র দায়িত্বে রয়েছে প্রায় ২৫০টি পরিবার এবং ৯০০ থেকে ১,০০০ জন ভোটার। এই ভোটারদের ফর্ম বিতরণ, ফর্ম সংগ্রহ ও তা ডিজিটাইজ়ড করার কাজ তাঁরা ইতিমধ্যেই করছেন।
এ বার নতুন ভোটার তালিকা অনুযায়ী যাচাই করে প্রতিটি ভোটারের হাতে স্লিপ তুলে দেওয়ার দায়িত্বও তাঁদেরই পালন করতে হবে। প্রশাসনের যুক্তি, এতে ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি কমবে এবং ভোটদানের দিন প্রক্রিয়া আরও মসৃণ হবে। যদিও মাঠপর্যায়ের কর্মীদের একাংশের আশঙ্কা, দায়িত্ব বাড়লেও প্রয়োজনীয় সহায়ক ব্যবস্থা বা সময়সীমা স্পষ্ট না হলে অসন্তোষ ফের মাথাচাড়া দিতে পারে।


উল্লেখ্য, আগামী এপ্রিল–মে মাসে Tamil Nadu, Kerala, Assam, Puducherry-র সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গেও বিধানসভা ভোট হওয়ার কথা। সেই প্রেক্ষিতেই কমিশন নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আরও কড়া ও নিরপেক্ষ করতে চাইছে বলে কমিশন সূত্রের দাবি।








