বঙ্গ রাজনীতিতে যখন ভোটার তালিকা সংশোধন বা SIR নিয়ে তাপমাত্রা চড়ছে, ঠিক সেই সময়ে সামনে এল অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগ। বিএলওদের ভয় দেখাচ্ছে রাজনৈতিক নেতারা—এই বিস্ফোরক দাবি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা জমা দিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। ভোটার তালিকার খসড়া তৈরির দায়িত্বে থাকা বুথ লেভেল অফিসারদের ওপর রাজনৈতিক চাপ, ভয় দেখানো এবং প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ নিয়ে কমিশনের বক্তব্য নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
বুধবার আদালতে কমিশনের আইনজীবী জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরেই মাঠপর্যায়ের কর্মীরা ভয় এবং অস্বাভাবিক চাপের মধ্যে কাজ করছেন। কমিশনের দাবি—গত কয়েক মাসে মৃত্যু হয়েছে ২৩ জন বিএলওর, এবং এই মৃত্যু অনেকটাই রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও কাজের চাপের ফল। পরোক্ষভাবে এই অভিযোগ তৃণমূলের দিকেই ইঙ্গিত করেছে কমিশন।


বিএলওদের ভয় দেখাচ্ছে রাজনৈতিক নেতারা! সুপ্রিম কোর্টে বিস্ফোরক রিপোর্ট নির্বাচন কমিশনের
এই পর্যবেক্ষণ প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া। তৃণমূল পুরো অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে দাবি করেছে—অতিরিক্ত কাজের চাপই মৃত্যুর কারণ। তাঁদের বক্তব্য, কয়েক বছরের কাজ মাত্র দু’মাসে শেষ করার নির্দেশে মাঠপর্যায়ের কর্মীরা শারীরিক ও মানসিক চাপে পড়ছেন। কোথাও আত্মহত্যা, কোথাও হার্ট অ্যাটাক—সবই অতিরিক্ত চাপের ফল। সরকারের মতে, দায় এড়াতে কমিশন এখন রাজনৈতিক দলের দিকে আঙুল তুলছে।

এদিন সংবিধান দিবসের অনুষ্ঠানে বাবাসাহেব আম্বেদকরের মূর্তিতে মাল্যদান করতে গিয়ে একই সুরে অভিযোগ তুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, বিএলওদের ভয় দেখাচ্ছে রাজনৈতিক নেতারা—এই অভিযোগ বিভ্রান্তিকর। বরং কমিশন বিপুল পরিমাণ কাজ চাপিয়ে দিচ্ছে বলেই একের পর এক অকালমৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। মমতা বলেন—
“বিএলওদের উপর অমানুষিক চাপ দেওয়া হচ্ছে। আমাদের কাছে তার প্রমাণ রয়েছে।”
পাল্টা কমিশনের দাবি—পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে বহু বিএলও কাজ করতে রাজি নন। রাজনৈতিক নেতাদের ভয় দেখানো, চাপ দেওয়া, হুমকি—সব মিলিয়ে মাঠপর্যায়ের ভোটার তালিকা সংশোধন কার্যত ঝুঁকির মধ্যে হয়ে উঠছে। আদালতে জমা দেওয়া হলফনামায় কমিশন বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছে।


এসআইআর—অর্থাৎ বিশেষ নিবিড় সংশোধন—রাজ্যে শুরু হতেই অভিযোগের বর্ষণ চলছে। একদিকে বাড়ি বাড়ি এনুমারেশন, অন্যদিকে নতুন ফর্ম বিতরণ, যাচাইকরণ, আপডেট, হঠাৎ বাড়তি দায়িত্ব—এসব মিলিয়ে বিএলওদের কাজের চাপ সত্যিই বহুগুণ বেড়েছে। আর সেই বাস্তবতার মধ্যেই উঠে এসেছে বিএলওদের ভয় দেখাচ্ছে রাজনৈতিক নেতারা—এই অভিযোগ, যা সরাসরি আঘাত করছে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশকে।
এখন প্রশ্ন—সুপ্রিম কোর্ট এই অভিযোগের কোন দিকটিকে গুরুত্ব দেবে? রাজনৈতিক দলের চাপ, নাকি প্রশাসনের অতিরিক্ত কাজের বোঝা? আদালত কি তদন্তের নির্দেশ দেবে, নাকি রাজ্যকে জবাবদিহির জন্য তলব করবে? প্রশাসন এবং রাজনৈতিক মহল এখন তাকিয়ে ঠিক সেই দিকেই।
এটাই পরিষ্কার—এসআইআর প্রক্রিয়া যত এগোচ্ছে, ততই বাড়ছে বচসা, বিতর্ক এবং রাজনৈতিক সংঘাত। আর এই সংঘাতের মাঝেই সবচেয়ে বড় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সেই মাঠপর্যায়ের কর্মীরা—বিএলওরা—যাঁদের উপর দাঁড়িয়ে পুরো নির্বাচন ব্যবস্থার ভিত্তি।








