চিনি, দুধ বা ক্রিম নয়—এক কাপ খাঁটি ব্ল্যাক কফিই হতে পারে সুস্থ ও দীর্ঘ জীবনের সহজ অভ্যাস। সাম্প্রতিক গবেষণা এবং চিকিৎসক-পুষ্টিবিদদের পর্যবেক্ষণ বলছে, সঠিকভাবে ব্ল্যাক কফি খেলে অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য ভাবে কমতে পারে। শুধু ট্রেন্ডি ওয়েলনেস দাবি নয়, বিজ্ঞানভিত্তিক তথ্যেই মিলছে তার জোরালো সমর্থন।
২০২৫ সালে The Journal of Nutrition-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, যাঁরা নিয়মিত চিনি, দুধ ও স্যাচুরেটেড ফ্যাট ছাড়া ব্ল্যাক কফি খান, তাঁদের যে কোনও অসুখে মৃত্যুর ঝুঁকি প্রায় ১৪ শতাংশ কম। গবেষকরা স্পষ্ট করেছেন, কফিতে সামান্য চিনি বা ক্রিম যোগ হলেই এই উপকারিতা অনেকটাই নষ্ট হয়ে যায়।

চিকিৎসকদের মতে, ব্ল্যাক কফি শুধু দীর্ঘায়ু নয়, লিভার ও মেটাবলিক স্বাস্থ্যের পক্ষেও উপকারী। নিয়মিত ব্ল্যাক কফি খেলে ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি কমে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকে না। তবে পরিমিতি বজায় রাখা জরুরি।
এই বিষয়েই সোশ্যাল মিডিয়ায় সচেতনতা বাড়াচ্ছেন পুষ্টিবিদ দীপশিখা জৈন। ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিয়ো পোস্ট করে তিনি জানিয়েছেন, ব্ল্যাক কফি কী ভাবে শরীর ও মনের উপর একযোগে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়ায়
ব্ল্যাক কফিতে থাকা ক্যাফেইন মস্তিষ্কের অ্যাডেনোসিন নামক রাসায়নিককে ব্লক করে। এর ফলে বাড়ে মনোযোগ, সতর্কতা এবং মেন্টাল ক্ল্যারিটি। কাজের মাঝে ঝিমুনি এলে এক কাপ ব্ল্যাক কফি এনার্জি ও ফোকাস ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে।
হজমে সহায়ক, কোষ্ঠকাঠিন্য কমায়
ব্ল্যাক কফি অন্ত্রের কার্যকারিতা বাড়ায়। এটি কোলনের পেশিকে সক্রিয় করে বাওয়েল মুভমেন্ট উন্নত করতে সাহায্য করে, ফলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমে। তবে খালি পেটে কফি নয়—ব্রেকফাস্টের পরে ব্ল্যাক কফি খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে
অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন থেকে শরীরে যে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ তৈরি হয়, তা কমাতেও কার্যকর ব্ল্যাক কফি। এতে থাকা পলিফেনল ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরে প্রদাহ প্রতিরোধ করে, যার ফলে একাধিক ক্রনিক রোগের ঝুঁকি কমে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দিনে ১ থেকে ৩ কাপ ব্ল্যাক কফি যথেষ্ট। তবে বিকেল ৪টার পরে কফি খেলে ঘুমের সমস্যা হতে পারে—এই সতর্কতাও মনে রাখাই ভালো।








