জুনিয়র চিকিৎসকদের আন্দোলনকে নিয়ে ‘বেফাঁস’ কথা বলে দলের ‘রোষানলে’ দুই বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ এবং অশোক দিন্দা। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব পরিষ্কার জানিয়ে দিল, দলের নীতি লঙ্ঘন করেছেন এই দু’জন। সতর্ক করা হল দিলীপ ও দিন্দাকে। আগামী দিনে আরজি কর ইস্যুতে কেবলমাত্র মুখপাত্রদেরই সংবাদমাধ্যমের সামনে কথা বলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আরজিকর ধর্ষণ ও খুনের মামলায় টানা ৪২ দিন ধরে কর্ম বিরতি পালন করেন জুনিয়র চিকিৎসকেরা তাদের আন্দোলনে দলমত নির্বিশেষে সমাজের সমস্ত স্তরের মানুষ সামিল হন। জুনিয়র চিকিৎসকদের দাবির সামনে কার্যত মাথা নেওয়াতে বাধ্য হয় রাজ্য সরকার তাদের এই আন্দোলনে কোন রাজনৈতিক দলকে প্রবেশ করতে দেননি তারা। যদিও বিজেপির তরফে এই আন্দোলনকে সমর্থন করা হয়েছিল কিন্তু সম্প্রতি বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি ও ময়নার বিধায়ক অশোক দিন্দা জুনিয়র চিকিৎসকদের এই আন্দোলনকে নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করেন।
দিন্দা যেমন বলেন, “বিচারের দাবিতে নয়, নিজেদের স্বার্থ সিদ্ধির জন্যই জুনিয়র ডাক্তাররা আন্দোলন করেছিলেন। তাঁরা আন্দোলন করলেন, আমরা পাশে দাঁড়ালাম। কিন্তু তাঁদের পাঁচ দফা দাবির মধ্যে ফাঁসির দাবি কোথায়? মুখ্যমন্ত্রী সবটা ম্যানেজ করে ফেললেন। ডাক্তারদের উপর মানুষের আর নিঃশ্বাস নেই।”
দিলীপ ঘোষ ঠিক তার পরের দিন আরও একধাপ এগিয়ে বলেন, “এত নাটক করে কি লাভ হল? রাত জাগা হল, মোমবাতি জ্বালানো হল। কিন্তু হাসপাতালের যে অব্যবস্থা তার কি কোন পরিবর্তন হল? নেপথ্যে থেকে যারা আন্দোলন চালাচ্ছেন, তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীকে বাঁচানোর জন্য এই সমস্ত নাটক করছেন না তো? কিছুদিন পর বিনীত গোয়েল দিব্যি ঘুরে বেড়াবে। আর সন্দীপ ঘোষ অনুব্রত মণ্ডলের মতো ছাড়া পেয়ে যাবে!”
বৃহস্পতিবার দুপুরে একটি রাজ্য কমিটির বৈঠক ডাকে বঙ্গ বিজেপি। সেখানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পর্যবেক্ষক মঙ্গল পান্ডে এবং সহ পর্যবেক্ষক অমিত মালব্য। এই বৈঠকে যদিও অশোক দিন্দা বা দিলীপ ঘোষ কেউ উপস্থিত ছিলেন না। কিন্তু অমিত মালব্য সাফ জানিয়েছেন, জুনিয়র ডাক্তারদের সম্পর্কে কোনও বেফাঁস মন্তব্য করা যাবে না। দলের পক্ষ থেকে যাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, সেই সমস্ত মুখপাত্ররাই কেবল আরজি কর ইসুতে মুখ খুলবেন।



