বিজেপির নতুন রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বঙ্গ বিজেপির গোষ্ঠীকোন্দল ফের প্রকাশ্যে। দলের অন্দরে যেমন উত্তেজনা বাড়ছে, ঠিক তেমনই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র চর্চা। সায়েন্স সিটিতে তাঁর অভিষেক অনুষ্ঠান ঘিরে শুভেন্দু অধিকারী এবং সুকান্ত মজুমদারের লবির মধ্যে অসন্তোষ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
শমীক ভট্টাচার্যকে ঘিরে কী ক্ষোভ শুভেন্দু-সুকান্ত লবির?
সূত্র বলছে, শুভেন্দু অধিকারী চরমভাবে বিরক্ত হয়েছেন শমীকের বক্তব্যে, যেখানে সংখ্যালঘুদের সমর্থন চাওয়া হয় সরাসরি। এই অবস্থান স্পষ্টভাবে শুভেন্দুর কড়া হিন্দুত্বের লাইনের বিপরীত। অন্যদিকে, সুকান্ত লবির আশঙ্কা—তাদের গত তিন বছরে গড়ে তোলা সাংগঠনিক ভিত্তি শমীকের আমলে দুর্বল হয়ে পড়বে।
এতে পরিষ্কার যে, শমীকের উত্থান দু’টি প্রধান লবিকেই অস্বস্তিতে ফেলেছে।
দিলীপ ঘোষের সঙ্গে শমীকের ঘনিষ্ঠতা কি নতুন আঁতাঁতের ইঙ্গিত?
সবচেয়ে বড় চমক এসেছে শমীক ও দিলীপ ঘোষের সাম্প্রতিক ঘনিষ্ঠতা ঘিরে। দিলীপ নিজে স্বীকার করেছেন, সভাপতি পদের মনোনয়ন জমা দেওয়ার আগে শমীক তাঁকে ফোন করেছিলেন। এমনকি শীঘ্রই শমীকের সঙ্গে সাক্ষাতের কথা জানিয়েছেন দিলীপ।
এই পরিস্থিতিতে অনেকেই মনে করছেন, দিলীপ-শমীক আঁতাঁত হতে পারে বিজেপির গোষ্ঠীকোন্দলের নতুন রূপ। বিশেষ করে যখন দিলীপ নিজেই বলছেন, “আমার ভবিষ্যৎ পার্টি ঠিক করবে। আমি কিছু চাইনি, সবটাই পার্টি দিয়েছে।”
দিলীপ ঘোষ কি বিজেপি ছাড়ছেন?
একটি বড় প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—দিলীপ ঘোষ কি বিজেপি ছাড়বেন? এ প্রশ্নে তিনি সোজাসুজি কিছু না বললেও তাঁর রহস্যময় উত্তর রাজনীতিতে নানা ইঙ্গিত তৈরি করছে। “২১ তারিখ পর্যন্ত কল্পনার সময় দেওয়া হয়েছে। মার্কেটে আমি আছি,” এই মন্তব্য ইতিমধ্যেই নানা জল্পনার জন্ম দিয়েছে।
কুণাল ঘোষের খোঁচা ও তৃণমূলের বক্তব্য:
তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ স্পষ্টভাবেই বলেছেন, “দিলীপ-শমীক আঁতাঁত হচ্ছে। বিজেপি এখন নিজেদের গোষ্ঠীকোন্দলেই ব্যস্ত। আগামী বিধানসভায় তৃণমূলই জিতবে।”
তিনি আরও বলেন, “তপন শিকদারের পর দিলীপই সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য বিজেপি মুখ। অথচ তাঁকেই আজ ব্রাত্য করা হচ্ছে।” এর আগেও দিলীপকে দিঘায় মুখ্যমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে দেখা গেছে, যা বিজেপির অন্দরে জলঘোলা তৈরি করেছিল।
দিলীপের ‘বন্ধুত্বনীতি’ নিয়ে আলোচনা:
দিলীপ ঘোষ বলেন, “কুণাল ঘোষ, অরূপ বিশ্বাসদের সঙ্গে বহু পুরনো সম্পর্ক রয়েছে। যারা কাল শত্রু, আজ বন্ধু—এই চিন্তায় চলে, তাদের সমস্যা আছে।”
এই মন্তব্য থেকে স্পষ্ট যে দিলীপ ঘোষের রাজনৈতিক অবস্থান এখন বহু অর্থেই দ্ব্যর্থবোধক। ফলে বঙ্গ বিজেপির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নিয়েও তৈরি হচ্ছে ধোঁয়াশা।
বঙ্গ বিজেপির গোষ্ঠীকোন্দল যেন থামছেই না। শমীক ভট্টাচার্যর সভাপতি হওয়া, শুভেন্দু ও সুকান্তর ক্ষোভ, আবার দিলীপ ঘোষের ঘনিষ্ঠতা—সবকিছু মিলে দলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি যে আগামী দিনে আরও ঘনীভূত হবে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এই রাজনৈতিক অস্থিরতা তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষে সুবিধাজনক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
FAQ:
Q1: শমীক ভট্টাচার্য কার ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত?
Ans: তিনি দিলীপ ঘোষের ঘনিষ্ঠ বলেই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছে।
Q2: শুভেন্দু অধিকারী কেন শমীক ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে?
Ans: শমীকের বক্তব্যে হিন্দুত্ব থেকে সরে এসে সংখ্যালঘুদের আহ্বান শুভেন্দুর লাইনের বিপরীত।
Q3: দিলীপ ঘোষ কি বিজেপি ছাড়ছেন?
Ans: তিনি সরাসরি কিছু না বললেও, মন্তব্যের ভঙ্গি রহস্যময় এবং জল্পনা বাড়িয়েছে।
Q4: এই কোন্দল তৃণমূলের কী উপকার করতে পারে?
Ans: হ্যাঁ, গোষ্ঠী বিভাজনের ফলে তৃণমূল তাদের সংগঠন আরও মজবুত করতে পারে।



