দীর্ঘ ২২ ঘন্টা অবস্থান বিক্ষোভের পর অবশেষে মঙ্গলবার লালবাজারে গিয়ে শংসাপত্র জমা দিল জুনিয়র চিকিৎসক ফ্রন্টের ২২ জনের প্রতিনিধিদল। তাঁদের একটাই দাবি ছিল, পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েলের পদত্যাগ। শংসাপত্র জমা দিয়ে বেরিয়ে আন্দোলনরত চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আপাতত লালবাজারের সামনে থেকে তাঁরা অবস্থান বিক্ষোভ তুলে নিচ্ছেন। তবে আগামী দিনে ঘোষিত কর্মসূচি চলতেই থাকবে। সূত্রের খবর, লালবাজার গিয়ে চিকিৎসকরা প্রতীকী মেরুদন্ড ও গোলাপ ফুল পুলিশকে উপহার দিয়েছেন।
গত ৯ অগস্ট আরজি কর হাসপাতালের চারতলার সেমিনার হল থেকে এক তরুণী চিকিৎসকের মৃতদেহ উদ্ধার হয়। ময়নাতদন্তের পর জানা যায়, চেস্ট মেডিসিন বিভাগের ওই তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে। এই ঘটনায় উত্তাল গোটা দেশ। এখনও পর্যন্ত কলকাতা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন সঞ্জয় রায় নামে এক সিভিক ভলান্টিয়ার। সোমবার সিবিআইয়ের দুর্নীতি দমন শাখা গ্রেফতার করেছে আরজি কর মেডিকেল কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষকে।
আরজি করের এই ঘটনায় প্রথম থেকেই পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আন্দোলনকারীরা। এমনকি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড় রাজ্য পুলিশকে কড়া ভাষায় ভর্ৎসনা করেছেন। এই ঘটনার পর ১৪ অগস্ট রাত দখলের ডাক দিয়েছিলেন মহিলারা। সেই দিনই আরজি কর হাসপাতালে একদল দুষ্কৃতী ঢুকে তাণ্ডব চালায়। অভিযোগ, তথ্যপ্রমাণ লোপাট করাই ছিল তাঁদের উদ্দেশ্য। আর এই পুরো ঘটনা রুখতে পুলিশ কার্যত ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে করছেন আন্দোলনকারীরা।
যে কারণে সোমবার তাঁরা লালবাজারে পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েলের পদত্যাগের দাবিতে শংসাপত্র জমা দিতে চান। কিন্তু বাধা দেয় পুলিশ। বিবি গাঙ্গুলি স্ট্রিটে ন’ফুট লম্বা ব্যারিকেড তৈরি করে দেওয়া হয়। যদিও তাতে দমে যাননি আন্দোলনকারী চিকিৎসকেরা। রাতভর তাঁরা রাজপথে বসে থাকেন এবং অবশেষে তিন দফা বৈঠকের পর মঙ্গলবার দুপুরে ব্যারিকেড তুলে নিতে বাধ্য হয়ে পুলিশ। গানে গানে মুখরিত হয়ে ওঠে কলকাতার আকাশ-বাতাস। ‘আমরা করব জয় একদিন…’ বা ‘কারার ঐ লোহ কপাট, ভেঙে ফেল কর রে লোপাট…’ গান গাইতে থাকতে থাকেন আন্দোলনকারীরা। এরপর ২২ জনের প্রতিনিধি দল যায় লালবাজারে।
তবে আজ শংসাপত্র জমা দেবার পরেও তেমন খুশি নন আন্দোলনকারীরা। তাঁদের বক্তব্য, পুলিশ এখনও ‘গোল গোল’ করে তাঁদের ঘুরিয়ে যাচ্ছে এবং একই যুক্তিকে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছে। যদিও বিনীত গোয়েল স্বীকার করে নিয়েছেন, পুলিশ ব্যর্থ এবং আগামী দিনে যদি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ মনে করে তাহলে তিনি পদত্যাগ করতেও রাজি আছেন।



