এই কথাটা লোকসভার পর নতুন নয়। একুশের বিধানসভা নির্বাচন, বা তার পরবর্তী পুরসভা বা পঞ্চায়েত নির্বাচনে ভরাডুবির পরেও আলোচনার বিষয় ছিল, বামেদের বিপ্লব এখন সোশ্যাল মিডিয়াতেই আবদ্ধ। কারণ, ব্রিগেড ভরলেও ভোট বাক্স ভরে না। এবার সেই বিষয়ে মুখ খুললেন সিপিআইএমের রাজ্য কমিটির আমন্ত্রিত সদস্য তথা রাজ্যসভার সাংসদ আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য।
আরও পড়ুন: আজ ফের NEET পরীক্ষা 1563 জনের, NTA-র ডিজি অপসারিত, CBI তদন্তের নির্দেশ


এবারের লোকসভা নির্বাচনে বামেদের ৩০ জন প্রার্থীর মধ্যে ২৮ জনেরই জামানত জব্দ হয়েছে। কোনও ক্রমে মুখরক্ষা করেছেন রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী। একজন, মুর্শিদাবাদ। অন্যজন, দমদম থেকে ভোটে দাঁড়ান। এবারেও বামেদের প্রার্থী তালিকায় তরুণ মুখের আমদানি বেশ ভালো মাত্রায় ছিল। যাদবপুরে সৃজন ভট্টাচার্য, শ্রীরামপুরে দীপ্সিতা ধর বা তমলুকে সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ। যথেষ্ট সাড়া ফেলেছিলেন তাঁরা ভোটের আগে, প্রত্যেকেই জিতবেন বলে দাবি করেছিলেন। কিন্তু, ভোটের অঙ্কে সামান্য লড়াইটুকু তাঁরা দিতে পেরেছেন কিনা তা নিয়ে সন্দেহ রয়ে গেল।

গত বুধ এবং বৃহস্পতিবার লোকসভা নির্বাচনের ফলাফদল নিয়ে পর্যালোচনা বৈঠক ডাকে আলিমুদ্দিন। সেখানে হারের কারণ নিয়ে আলোচনা হয়। এরপরই আবার শনিবার পরাজিত সমস্ত প্রার্থীদের নিয়ে বৈঠক ডাকা হয়। সেখানে ছিলেন প্রাক্তন রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র। সিপিআইএম নেতৃত্ব মেনে নিচ্ছে, বিজেপির বিরোধিতায় তৃণমূলকেই চেয়েছে মানুষ। আর, বুথ স্তরের সংগঠন এখনও অত্যন্ত দুর্বল।
সোশ্যাল মিডিয়ায় বিপ্লব, ফলাফল শূন্য! ব্যর্থতার দায়ে নতুনদের কাঠগড়ায় তুললেন বিকাশ



অন্যদিকে, সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বামেদের তরুণ ব্রিগেডকে তুলোধনা করেছেন বিকাশ ভট্টাচার্য। তাঁর নিশানা থেকে বাদ যাননি ডিওয়াইএফআই নেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়ও। যাকে ‘ক্যাপ্টেন’ বলে সম্বোধন করেন বামেদের যুব কর্মীরা। আবার সংবাদমাধ্যম তাঁকে নাম দেয় আগুনপাখি! সেই মীনাক্ষীর নিজের বুথে এবারের লোকসভায় সর্বসাকুল্যে ৪৬ ভোট পেয়েছে লাল ঝান্ডার পার্টি।
বিকাশ সাফ বলেছেন, “ব্যক্তি বিশেষ থাকবে। কিন্তু ব্যক্তিকেন্দ্রিক হয়ে গেলে মুশকিল। মার্কসবাদী দৃষ্টিকোণ সেটাই বলে। কাউকে ‘ক্যাপ্টেন’ বললাম, কাউকে ‘আগুনপাখি’ বললাম সেটা আমার ব্যক্তিগত অভিব্যক্তি। এটা সামাজিক অভিব্যক্তি নয়।” সঙ্গে বিকাশ মনে করছেন, জনসংযোগ আরও দৃঢ় হওয়া উচিৎ। যে কারণেই মিটিং মিছিলে লোক হলেও শূন্যের গেরো কাটছেই না!








