বিহারে ভোটার তালিকা বিতর্ক ঘিরে দেশজুড়ে উত্তেজনা বাড়ছে। নির্বাচন কমিশনের দাবি, ভোটার তালিকা তৈরির প্রতিটি ধাপেই রাজনৈতিক দলগুলি উপস্থিত থেকেছে, তবুও সময়মতো কোথাও কোনও ভুলভ্রান্তি বা নাম বাদ পড়ার বিষয়টি নিয়ে তারা আপত্তি তুলেনি। এই মন্তব্যের মাধ্যমে কমিশন পরোক্ষভাবে বিরোধী দলগুলির অভিযোগ খারিজ করল।
প্রসঙ্গত, সুপ্রিম কোর্টে মামলা হয়েছে বিহারের ভোটার তালিকা নিয়ে। অভিযোগ, বিশেষ নিবিড় সমীক্ষা বা Special Intensive Revision (SIR) প্রক্রিয়ায় প্রায় ৬৫ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। শীর্ষ আদালত কমিশনকে ইতিমধ্যেই নির্দেশ দিয়েছে ওই বাদ পড়া নামগুলি প্রকাশ করতে। রবিবার কমিশন এ বিষয়ে সাংবাদিক বৈঠক করবে বলেও জানা গিয়েছে।
ভোটার তালিকা বিতর্ক: সময়মতো আপত্তি তোলেনি রাজনৈতিক দল, দাবি কমিশনের

শনিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কমিশনের বক্তব্য, বুথ লেভেল অফিসার থেকে শুরু করে রাজনৈতিক দলগুলির প্রতিনিধিরা— সবাই এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকলেও সময়ে তালিকা খতিয়ে দেখা হয়নি। কোনও রাজনৈতিক দলই আপত্তি তোলে নি, অথচ এখন তারা কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
এদিকে, বিরোধী শিবির একযোগে দাবি করেছে, এই সমীক্ষা কার্যত ভোটাধিকার খর্ব করার সমান। বিরোধীদের অভিযোগ, কমিশনের এই উদ্যোগে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার ঘটনা গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক। বিশেষ করে ৬৫ লক্ষ নাম বাদ যাওয়ার পর থেকে বিহারের রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচন কমিশনের এই সাফাই শুধু বিতর্ক আরও বাড়িয়ে দিল। বিরোধীদের মতে, কমিশন যদি সঠিকভাবে কাজ করত, তাহলে এত বড় সংখ্যক মানুষের নাম একসঙ্গে বাদ পড়ত না। অন্যদিকে, ক্ষমতাসীন শিবির কমিশনের পাশে দাঁড়িয়ে বলছে, সমালোচনার আগে বিরোধীদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা উচিত ছিল।
জাতীয় রাজনীতিতেও এই বিতর্কের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। বিশেষ নিবিড় সমীক্ষা নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী দিনে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায় দেশের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
এই মুহূর্তে চোখ সবারই রবিবারের কমিশনের সাংবাদিক বৈঠকের দিকে। সেখানে কমিশন কীভাবে নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করে, সেটিই এখন রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।



