বাংলায় হাওয়া বদলের ইঙ্গিত, ২ দিনেই বর্ষার বিদায়! জাঁকিয়ে শীতের দেখা মিলবে কবে?

আলিপুর হাওয়া অফিস জানাল বড় খবর—আর মাত্র দু’দিনেই বর্ষা বিদায় নিচ্ছে গোটা দেশ থেকে। বঙ্গে শুরু শুষ্ক আবহাওয়া, নামছে তাপমাত্রা, ভোরে পড়বে শিশির।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বর্ষার বিদায় এখন সময়ের অপেক্ষা মাত্র। আলিপুর হাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী দু’দিনের মধ্যেই দেশজুড়ে মনসুন (Monsoon) বিদায় নেবে। সঙ্গে সঙ্গে বাংলার আকাশেও দেখা মিলবে শুষ্ক আবহাওয়ার, কমবে পারদ। দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর প্রভাব ক্রমশ সরে গিয়ে জায়গা নিচ্ছে উত্তর-পূর্ব মৌসুমী বায়ু। এই মৌসুম পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গেই বঙ্গে (West Bengal) ধীরে ধীরে শুরু হচ্ছে শরতের শেষভাগ ও হেমন্তের হাওয়া

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে একের পর এক নিম্নচাপ ও ঘূর্ণাবর্তের প্রভাবে উত্তরবঙ্গে বৃষ্টি অব্যাহত ছিল। অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহেও রাজ্যজুড়ে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত (Heavy Rainfall) পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। তবে এখন আবহাওয়ার ছবি বদলাচ্ছে। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর (Alipore Meteorological Department) জানিয়েছে, বর্ষার বিদায় শুরু হয়ে গিয়েছে। আকাশ পরিষ্কার হচ্ছে ধীরে ধীরে।

গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও ঝাড়খণ্ড অঞ্চলে এখন একটি ঘূর্ণাবর্ত সক্রিয় থাকলেও, এর প্রভাব বৃষ্টিতে তেমন পড়বে না বলে জানাচ্ছে হাওয়া অফিস। একইসঙ্গে দক্ষিণ বাংলাদেশ ও সংলগ্ন এলাকায়ও একটি ঘূর্ণাবর্ত থাকলেও সেটিও ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ছে। ফলে আগামী পাঁচদিন রাজ্যে বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই বললেই চলে

বাংলায় হাওয়া বদলের ইঙ্গিত, ২ দিনেই বর্ষার বিদায়! জাঁকিয়ে শীতের দেখা মিলবে কবে?
বাংলায় হাওয়া বদলের ইঙ্গিত, ২ দিনেই বর্ষার বিদায়! জাঁকিয়ে শীতের দেখা মিলবে কবে?

তাপমাত্রা ধীরে ধীরে নামতে শুরু করেছে। পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে রাতের দিকে ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পারদ পতনের সম্ভাবনা রয়েছে। ইতিমধ্যেই বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, বীরভূম, পশ্চিম মেদিনীপুরের মতো জেলাগুলিতে ভোর ও রাতে শিরশিরানি অনুভব শুরু হয়ে গিয়েছে। বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ কমতে থাকায় সকালের দিকে শিশিরপাত ও হালকা কুয়াশা পড়ার সম্ভাবনাও বাড়ছে।

কলকাতার আবহাওয়াতেও স্পষ্ট বদলের ইঙ্গিত মিলছে। দক্ষিণ-পশ্চিমের আর্দ্র বাতাসের প্রভাব এখন অনেকটাই কমে এসেছে। হাওয়া অফিস জানাচ্ছে, শহরে আপাতত আর কোনও বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। ভোরের দিকে কুয়াশার চাদরে ঢেকে যেতে পারে মহানগর। বুধবার কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৪.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, আর মঙ্গলবারের সর্বোচ্চ ছিল ৩২.৩ ডিগ্রি। বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতা ৫১ থেকে ৯১ শতাংশের মধ্যে ওঠানামা করছে।

তবে আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি আপাতত পুরোপুরি কাটছে না। দিনে তাপমাত্রায় খুব বেশি হেরফের না হলেও, রাতের দিকে পারদ নামবে আরও। হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বাতাসে জলীয় বাষ্প কমে এলে দিন-রাতের তাপমাত্রার ব্যবধান বাড়বে। এর ফলে রাজ্যে ধীরে ধীরে হেমন্তের স্পষ্ট ছোঁয়া মিলবে।

উত্তরবঙ্গে (North Bengal) এখন আকাশ বেশিরভাগ সময়ই পরিষ্কার, মাঝে মাঝে আংশিক মেঘলা। তবে আরও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই। ফলে পাহাড়ি ও ডুয়ার্স অঞ্চলেও ধীরে ধীরে আবহাওয়া শুষ্ক হচ্ছে। এই পরিবর্তনই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে বর্ষা বিদায়ের কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেছে

অন্যদিকে, অন্ধ্রপ্রদেশ, কর্ণাটক, কেরল, পুদুচেরি ও তামিলনাড়ুতে এখনো উত্তর-পূর্ব মৌসুমী বায়ু (Northeast Monsoon) কার্যকর হওয়ার কারণে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। কেরালা ও সংলগ্ন উপকূলে ঝোড়ো হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ৫৫ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে বলে জানাচ্ছে IMD (India Meteorological Department)

বিশেষজ্ঞদের মতে, হাওয়া বদলের এই সময়টা বাংলার আবহাওয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বাতাসে জলীয় বাষ্প কমে গেলে প্রকৃত শীতের আমেজ (Winter in Bengal) শুরু হবে। সাধারণত অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ বা নভেম্বরের প্রথম দিকেই হেমন্তের মৃদু শীত রাজ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। এবারও সেই ধারা বজায় থাকছে।

হাওয়া অফিস সূত্রে খবর, ২ দিনের মধ্যেই বর্ষা পুরোপুরি বিদায় নিলে উত্তর-পশ্চিমের শুষ্ক বাতাস বাংলায় ঢুকতে শুরু করবে। সেই সঙ্গে তাপমাত্রা আরও দ্রুত নেমে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। সকালের দিকে কুয়াশা, শিশির ও হালকা শিরশিরানির মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে শীতের দিকেই এগোবে বাংলা।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন